

বাংলাদেশ ও কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। বর্তমানে তিনি রয়েছেন কলকাতায়। আগামীকাল (৬ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত সিনেমা ওসিডি। সিনেমার প্রচারণায় সেখানেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। প্রচারণার অংশ হিসাবে কথা বলছেন গণমাধ্যমে।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেমার পাশাপাশি জয়ার ব্যক্তিজীবনের নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে। এসময় অভিনেত্রী জানান, তিনি ছোটবেলায় অনেক মিথ্যাবাদী ছিলেন। এ প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ‘আমি ছোট থেকেই একটু অন্য রকম ছিলাম। একা থাকতে ভালো লাগত, আর কল্পনা প্রবণতা তো আমার শুরু থেকেই ছিল। এখন বললে অনেকে ভুল বুঝবেন হয়তো, আমি ভীষণ মিথ্যেবাদী ছিলাম। নিজের মনে যা বিশ্বাস করতাম, তাই বলতাম। আর সবাই সেটা বিশ্বাসও করে নিত। এখনও অনেক সত্যি উদঘাটন হলে সবাই চমকেই ওঠে। এই সমস্যার উৎপত্তির কারণ আমার জানা নেই, কিন্তু একটা সমস্যা যে ছিলই সেটা বুঝেছি। নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।‘ শুধু তাই নয়, কাজের এত চাপের মধ্যে নিজেকে ফিট রাখা ও ব্যক্তিগত জীবনে ভালো থাকার সিক্রেট নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন এ অভিনেত্রী।
তিনি বলেন, আমি তো বরাবরই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানুষ। আমার নিজের একটা জগৎ আছে, আমার পোষ্যদের নিয়ে দিনের অনেকটা সময় কাটে। ওগুলোই আমায় ভালো রাখে। পাশাপাশি বোধহয় আমি ব্যক্তিগত বিষয়টা ব্যক্তিগত রাখতে চাই বলে জীবনে জটিলতা কম। আমাকে বাইরে থেকে মানুষ যে ভাবে চেনেন, সেটা জয়া আহসানের ইমেজ। ভিতরের মানুষটা সম্পূর্ণ আলাদা।
মুক্তি প্রতিক্ষিত ওসিডি সিনেমার রথ যেন জয়া একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারণায় তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কেনই বা ওসিডি’র মতো একটি কঠিন বিষয় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হলেন এবার এ বিষয়টিও জানান এ অভিনেত্রী।
জয়া বলেন, আপেক্ষিক ভাবে বিষয়টা কঠিন মনে হলেও আদতে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সন্তানকে পৃথিবীতে আনলেই শুধু হয় না, ছোট থেকে তার চারপাশের পরিবেশই কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। সেটা কি আমরা প্রোভাইড করতে পারছি? সেখানে খামতি থাকলেই বিপদ। প্রথম যখন সিনেমাটির প্রস্তাব আসে, তখন আমার মনে হয়েছিল এটা একটা দায়িত্ববোধের সিনেমা। এ বার সময় এসেছে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলার। শিশুদের জন্য আমরা বাসযোগ্য এক পৃথিবী উপহার দিতে পারছি কি না, এই নিয়েই প্রশ্ন তুলবে এ সিনেমা।
মাতৃত্ব যেমন উদ্যাপনের, সেটা স্বীকার না করার সিদ্ধান্তও কিন্তু খামতির নয়, বরং সাহসী পদক্ষেপ। দুঃখজনক এটাই যে আমরা নানা বিষয় নিয়ে কথা বলি। শিশুদের মানসিক সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলি কি? আসলে এই সমস্যাগুলো তৈরি হয় পরিবার থেকে। সেটাই আমরা মানতে পারি না। তাই এই নিয়ে কথাও ওঠে না। বাবা-মা বা অবিভাবক মানেই নিখুঁত নয়, এটা আমাদের মানতে হবে।