বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সিসমোফোবিয়া কী, ভূমিকম্প না হলেও কম্পন ভয় কেন?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের কারণে অনেকেই এমন অভিজ্ঞতা করছেন—হঠাৎ মনে হচ্ছে আশপাশের সবকিছু কাঁপছে বা পায়ের নিচে দুলুনি অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু আশপাশে কেউ আতঙ্কিত নয়, পরবর্তীতে বোঝা যায়, ভূমিকম্প হয়নি।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে সিসমোফোবিয়া বা ভূমিকম্প ভীতি বলা হয়। এটি একটি ক্লিনিক্যাল ফোবিয়া, যেখানে মানুষ কম্পন শেষ হলেও অযৌক্তিক এবং অতিরিক্ত ভয়ে আক্রান্ত থাকে।

বাংলাদেশে গত ২১ নভেম্বর পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিশ দিনের মধ্যে অন্তত ৬টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুটি ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে মাত্রা ছিল ৫ দশমিক নয়।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের একটি বহুতল ভবনের ১২তলায় অফিস করা তাসলিম তৌহিদ জানান, নভেম্বরের ভূমিকম্পের পরও মাঝে মাঝে মনে হয় যেন পায়ের নিচে দুলুনি চলছে। রামপুরার বাসিন্দা প্রিয়াংকা শিকদারও বলেন, একা থাকলে এই আতঙ্ক আরও বেশি অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) বা মানসিক ট্রমার প্রকাশ। সামান্য শব্দ, চেয়ারের নড়াচড়া বা দূরের ভারি ট্রাকের আওয়াজও বুক ধড়ফড় করাতে পারে এবং মনে হয় সবকিছু ভেঙে পড়তে চলেছে।

কেন হয় সিসমোফোবিয়া?

ভূমিকম্পের তীব্র অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কের ভয়ের কেন্দ্র অ্যামিগডালাকে অতিসক্রিয় করে। এর ফলে সামান্য ট্রিগারেও শরীর বিপদের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ তানভীর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের ট্রমা মস্তিষ্কে স্থায়ী বিপদ সংকেত তৈরি করে। ভবন ভেঙে পড়ার ভাবনাও মৃত্যুর ভয় জাগিয়ে দেয়। পুনরাবৃত্ত ট্রমার কারণে মানুষের মনে স্থায়ী আতঙ্ক বা সিসমোফোবিয়া তৈরি হয়।

শারীরিক কারণও থাকতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কানের ভিতরের এন্ডোলিম্ফ তরল অস্থির হলে ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা কম্পনের অনুভূতি দীর্ঘায়িত করে। মিডিয়ার গ্রাফিকাল কভারেজও মানুষের মধ্যে ভীতির মাত্রা বৃদ্ধি করে।

প্রতিকার

সিসমোফোবিয়া সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য। মনোবিজ্ঞানীরা কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT) এবং এক্সপোজার থেরাপি ব্যবহার করে অযৌক্তিক ভয় ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন।

সেফটি কিট, ড্রিল এবং প্রস্তুতিমূলক জ্ঞান মানুষকে সতর্ক ও আত্মবিশ্বাসী করে। জাপানের মতো ভূমিকম্প-প্রবণ দেশে অভ্যস্ত মানুষদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ট্রমা কম দেখা যায়। বাংলাদেশের জন্যও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা ভয় কমাতে সহায়ক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসমোফোবিয়া বা ভূমিকম্প ভীতি মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ফেললেও সচেতনতা, চিকিৎসা এবং অভ্যস্ততার মাধ্যমে এর ভয় অনেকটা কমানো সম্ভব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিমান বাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড্যাব

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চোখে আলো ফিরেছে ৮৪ জনের

বাজেটে মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিপণ্যে বড় সুখবর

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

গাজায় সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

ঢাকায় নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থীর বাবা, সন্ধান চায় ছেলে

নতুন রিসাইক্লিং উদ্যোগ / ৯০ শতাংশর বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ

সরকারি বাঙলা কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

১০

বাংলার নদী, বাংলার জীবন : ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা

১১

ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

১৩

ল্যাবএইডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৪

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

১৫

কক্সবাজারে ১৯ রোহিঙ্গা আটক

১৬

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় পিছু হটল ইসরায়েলি বাহিনী

১৭

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

১৮

কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু 

১৯

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থন চাইল নরওয়ে, তুলে ধরল একাধিক কারণ

২০
X