

হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু নিয়ম মেনে প্রতিদিন ফল ও শাকসবজি খাওয়াই যথেষ্ট নয় বরং কোন ধরনের ফল ও শাকসবজি খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকদের দাবি, সব ধরনের ‘ফাইভ-এ-ডে’ খাবারের পুষ্টিগুণ এক নয়। ফলে অনেকেই নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘ফ্ল্যাভানল’ নামের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন না। খবর বিবিসির।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্লুবেরি, প্লাম, ব্ল্যাকবেরি, ব্রড বিনস (এক ধরনের শিম) ও চেরি এবং এর সঙ্গে গ্রিন টি পান করলে শরীরে ফ্ল্যাভানলের ঘাটতি পূরণ হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খাওয়া অনেক মানুষের শরীরেও প্রয়োজনীয় মাত্রার ফ্ল্যাভানল পাওয়া যায়নি।
বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ফুড অ্যান্ড ফাংশনে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনই দৈনিক প্রয়োজনীয় ৫০০ মিলিগ্রাম ফ্ল্যাভানল গ্রহণ করতে পারছেন না।
গবেষকদের ভাষ্য, ফ্ল্যাভানল হলো এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তনালি নমনীয় রাখা, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা ও হার্ট ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের মূত্রে থাকা বায়োমার্কার বিশ্লেষণ করে ফ্ল্যাভানল গ্রহণের মাত্রা নির্ণয় করা হয়।
গবেষক ড. হাভিয়ের ওতাভিয়ানি বলেন, খাদ্যতালিকায় কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই শরীরে উপকারী এই উপাদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
তার ভাষায়, ‘অনেকেই মনে করেন বেশি ফল ও শাকসবজি খেলেই সব প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু গবেষণাটি দেখিয়েছে, মোট পরিমাণের চেয়ে কোন খাবারটি বেছে নেওয়া হচ্ছে, সেটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অধ্যাপক গুন্টার কুনলে বলেন, প্রতিদিন ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ এখনও সঠিক। তবে সেই খাবার কী হবে, তা নিয়েও আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘ভিটামিন ও খনিজের বাইরে বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ বহন করে। এসব উপাদান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যত বাড়ছে, খাদ্য নির্দেশনাও তত বেশি নির্দিষ্ট ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’
গবেষণায় তুলনামূলক বেশি ফ্ল্যাভানলযুক্ত খাবারের তালিকায় রয়েছে প্লাম, ক্র্যানবেরি, ব্ল্যাকবেরি, গ্রিন টি, ব্রড বিনস, চেরি, আপেল, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি এবং পিন্টো বিনস।
তবে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নাভিদ সাত্তার বলেন, কিছু ছোট গবেষণায় রক্তচাপের ওপর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও ফ্ল্যাভানল হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি সরাসরি কমায় এমন শক্ত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
কিংস কলেজ লন্ডনের পুষ্টিবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনা রদ্রিগেজ-মাতেওস বলেন, ফল ও শাকসবজিতে ফ্ল্যাভানলের পরিমাণ উৎপাদন পদ্ধতি, পরিবেশ ও সংরক্ষণের ওপর নির্ভর করে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ ডেল স্ট্যানফোর্ড বলেন, কোনো খাদ্যে কতটা ফ্ল্যাভানল থাকবে তা নির্ভর করে খাদ্যটি কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, আবহাওয়া কেমন ছিল, কতটা পাকা ছিল এবং কীভাবে সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে তার ওপর। এছাড়া মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্যের কারণেও ফ্ল্যাভানলের উপকারিতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন ও ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের মতে, হার্ট ভালো রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রতিদিন নানা ধরনের ফল ও শাকসবজি খাওয়া।