ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪, ০৩:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ০৩:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘আওয়ামী লীগের সফল এবং গৌরবময় পথচলার ৭৫ বছর’

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া। ছবি : সৌজন্য
ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া। ছবি : সৌজন্য

বিশ্ব রাজনীতিতে নিজস্ব ভাষা ও জাতি সৃষ্টির পিছনে যে কয়টি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার মধ্যে অন্যতম। আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস এক ও অভিন্ন। একটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস কতটা গর্বিত ও সমৃদ্ধ হলে একটি দেশের জন্মের নেতৃত্ব দেয়, তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। উপমহাদেশের যে তিনটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস-ঐতিহ্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত, এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একমাত্র ব্যতিক্রম। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা পেলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যা একটি দেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে।

ভারতীয় কংগ্রেস নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও আলোচনার মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মুসলিম লীগ দ্বিজাতি তত্ত্বের মাধ্যমে ভারত ভাগ আন্দোলন করে পাকিস্তান সৃষ্টি করেছে। দুটি দলের কোনোটাই আওয়ামী লীগের ন্যায় নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন দেশ গঠন করার মহান গৌরব অর্জন করতে পারেনি।

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা এবং বাঙালি জাতি সৃষ্টির পিছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের অবর্ণনীয় অবদান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। প্রাচীন ও প্রবীণতম রাজনৈতিক দল বলতে এ দেশে মূলত আওয়ামী লীগকেই বোঝায়। পাকিস্তানের ২৩ বছর আর বাংলাদেশ সৃষ্টির পর ৫২ বছরসহ মোট ৭৫ বছর ধরেই এ দেশে আওয়ামী লীগ গণমানুষের রাজনৈতিক দল হিসেবে সুপরিচিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু এ দেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারাও। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে জন্ম নিয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৭৫ বছর আগে। দলটি ২০০১ সালে সফলতার সাথে সুবর্ণ জয়ন্তী (৫০ বছর) পালন করেছে। ২০১১ সালে হিরক জয়ন্তী (৬০ বছর) পালন শেষে এখন ২০২৪ সালে রজত জয়ন্তী (৭৫ বছর) উদ্যাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

জাঁকজমক আয়োজনে ও উৎসবমুখর পরিবেশে আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী (৭৫ বছর) উদ্যাপন করতে যাচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ জুন। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত দিনটিকে ঘিরে নেয়া হয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। গৃহীত কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে জোরালো প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এজন্য দলটির শীর্ষ নেতারা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, দলীয় মেয়র, ঢাকার দলীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে আওয়ামী লীগের সফলতার ও গৌরবময় পথচলার ৭৫ বছর (প্লাটিনাম জয়ন্তী) অনুষ্ঠান সফলভাবে উদ্যাপন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ এই ৭৫ বছরের ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশ তথা বাঙালি জাতি গঠনের ইতিহাস। বাঙালি জনসাধারণের অধিকার আদায়ের ইতিহাস। দলটি সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অসহায় বাঙালি জনসাধারণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সুযোগ্যকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাদুকরী নেতৃত্বে দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিরযৌবনা। মাঝখানে বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিগুলো অল্প সময়ের জন্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও সৃষ্টি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বাঙালি জনগণের অধিকার আদায়ে সমান গতিশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ে। পাকিস্তানের পরাজিত শক্তি দেশের শাসন ক্ষমতা দখল করে নেয়। প্রথমে খন্দকার মোশতাক পরে জেনারেল জিয়া দেশের সংবিধান আদর্শ আর সংস্কৃতিকে পাকিস্তানি কায়দায় রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে। এইচ এম এরশাদ ক্ষমতায় এসে জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে স্বদেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিলে বাংলাদেশের জনগণ আশায় বুক বেঁধে স্বপ্ন দেখা শুরু করে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশের নানা অনিয়ম ও অরাজকতাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মনিয়োগ করেন। জনগণের ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র পুনঃদ্ধার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি, পার্বত্য শান্তিচুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা ঘোষণা করেন। তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের কাছে তথ্য প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করতে থাকেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় নিয়ে আসলে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদায় উন্নীত করার মাধ্যমে বিশ্বে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির একটি মডেল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণ আওয়ামী লীগকেই বেছে নেন। ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এখন আর দরিদ্র দেশ হিসেবে নয়, একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিস্ময়। আওয়ামী লীগ এখন উপমহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের রাজনৈতিক দলের কাছে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে এ দলটির নেতা নির্বাচন হয়। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলের গঠনতন্ত্র মেনে নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে উন্নয়ন সমৃদ্ধি পর্যন্ত সব গণতান্ত্রিক অর্জনের পেছনে আওয়ামী লীগ জনগণের প্রিয় দল হিসেবে সর্বাগ্রে।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ও সংগ্রামের ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ বাঙালি জাতির যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার মূলে রয়েছে জনগণের এই দলটির নেতৃত্ব। এ দেশের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল আন্দোলনের সাহসী মিছিলের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় অনেক অশ্রু, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি ফিরে পায় ‘ভাত ও ভোটের অধিকার’; দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশে^র বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। তাঁর যাদুকরী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ^ব্যাংকের তালিকায় নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে জায়গা করে নিয়েছে আরও আগেই। বর্তমান অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বড় প্রকল্পগুলোর উদ্যোগ নিয়েছে এই সরকার, বাস্তবায়নও প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হতে চলেছে। ভাবা যায়, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত এই দেশে আজ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী ট্যানেলসহ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শতশত যুগান্তকারী উদাহরণ। এগুলো যে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শুধু স্বনির্ভরতার চিত্র তা নয়, বলতে হয় দুঃসাহসিকতা। আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যার পক্ষেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

আরেকটি পরিসংখ্যান টেনে আনলে বোঝা যায় দেশের কী আমূল পরিবর্তন এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বিএনপি সরকারের সর্বশেষ বাজেট ঘোষণা হয় ৬৯ হাজার কোটি টাকার। আর বর্তমান সরকারের সর্বশেষ বাজেট ঘোষণা হয় ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বোঝার জন্য আদতে আর কোনো উদাহরণ দরকার হয় না, বাজেটের আকারই তার প্রমাণ বহন করে। বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় এবং জনগণের অধিকার সত্যিকার অর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বলতেই হয়, আওয়ামী লীগ হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দল। বাঙালি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে দলটি।

এছাড়া বাংলাদেশ তথা বাঙালি জনগণের স্বার্থে দল হিসেবে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বার্থে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জনগণের কল্যাণার্থে হারিয়েছে নিজ পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলার শুরুটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। তার দেখানো পথেই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিগুলোর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের পথচলা অব্যাহত রেখেছে।

এই পথচলায় বারবার তিনি স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিগুলোর হামলার শিকার হয়েছে। মৃত্যুকে তিনি বারবার খুব কাজ থেকে উপলব্ধি করেছেন। কিন্তু কোনোদিন পিছপা হননি। সব ধরনের বাঁধা বিপত্তি মোকাবেলা করে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিতে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশকে রক্ষা করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর ন্যায় দেশের স্বার্থে পরিবারের প্রতিটি সদস্যসহ নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়ে আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে করে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন রাজনৈতিক দল আত্মত্যাগের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।

সুতরাং, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। দৃঢ়তার সঙ্গেই বলতে পারি, একে অপরের পরিপূরক। একটিকে ছাড়া অপরটি অকল্পনীয়। বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির সৃষ্টির পাশাপাশি তার ধারাবাহিক উন্নয়নে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে ভূমিকা তা অবর্ণনীয়। নেতা হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনন্য। আওয়ামী লীগের ৭৫ বছরের এই দীর্ঘ ইতিহাস মূলত বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার ইতিহাস। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বাংলাদেশের যে গৌরবময় অর্জন তা অবর্ণনীয়। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্লাটিনাম জয়ন্তী উদ্যাপনের দ্বারা তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ৭৫ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ইতিহাস রচনা করবে।

বাংলাদেশের সাফল্যিক এই অর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। আমাদের প্রত্যাশা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে সফলতার সাথে অদূর ভবিষ্যতে শতবর্ষ উদ্যাপন করবে।

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া: উপাচার্য, (রুটিন দায়িত্ব) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ বিদেশি কূটনীতিকরা ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শন করবেন

৩ দিনে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল আসে সোয়া লাখেরও বেশি

বিয়ের দাবিতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে কলেজছাত্রী

ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধস, মৃত্যু ২২৯

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

পদ্মা সেতুতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সেমিফাইনাল নিশ্চিতের মিশনে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

ট্রেন চলাচল নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ

আজ ব্যাংক খোলা থাকবে ৪ ঘণ্টা

ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় ৭ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল

১০

আজ খুলছে গার্মেন্টস, আইডি কার্ডই কারফিউ পাস

১১

কারফিউ আরও শিথিল, অফিস খুলছে আজ

১২

কড়া পাহারায় মোকাম থেকে চাল সরবরাহ শুরু

১৩

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি নেই, ক্যাম্পাস খোলার দাবি

১৪

বিএনপির মদদ ও জামায়াত-শিবিরের পরিকল্পনায় ধ্বংসংযজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

১৫

পুলিশের তিন সদস্য নিহত, আহত ১১১৭ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট নেই : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

১৭

দূরপাল্লার বাস চলবে

১৮

নতুন ভাড়াটিয়াদের তথ্য দিতে অনুরোধ ডিএমপি কমিশনারের 

১৯

২৪ জুলাই : নামাজের সময়সূচি

২০
X