

আমাদের দেশে বিয়ের আকদ সাধারণত মসজিদেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর আকদ শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও মেহমানদের মধ্যে খেজুর বা মিষ্টান্ন বিতরণ একটি প্রচলিত ও পরিচিত দৃশ্য। তবে এই বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে প্রায়ই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মসজিদে খেজুর ‘ছিটানো’র বিষয়টি নিয়ে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এর গুরুত্ব ও পদ্ধতি সম্পর্কে কালবেলার পাঠকদের জন্য সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।
খেজুর বিতরণের বিধান
ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, বিয়ের আকদ বা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে খেজুর কিংবা মিষ্টান্নজাতীয় কিছু বিতরণ করার কথা কিছু কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায়। তাই মসজিদে আকদ শেষে মানুষকে খেজুর বা মিষ্টি খাওয়ানো জায়েজ।
ছিটানো কি সুন্নাহ?
সাধারণত আমাদের সমাজে অনেকে মনে করেন যে, মসজিদে খেজুর ছিটিয়ে দেওয়া একটি সুন্নাহ আমল। কিন্তু বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মুফতি আবরার। তিনি বলেন, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে খেজুর ‘বিতরণ করা’ সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলেও, খেজুর ‘ছিটানো’ সুন্নাহ নয়। যদি কেউ ছিটিয়ে বিতরণ করতে চান তবে তা হারাম হবে না, কিন্তু এক্ষেত্রে মসজিদের পবিত্রতা ও আদব বজায় রাখা জরুরি।
মসজিদের আদব রক্ষা
মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং এর একটি বিশেষ সম্মান ও আদব রয়েছে। আমাদের দেশে দেখা যায়, বিয়ের পর মসজিদে খেজুর ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খেজুর কুড়াতে গিয়ে হৈ-হুল্লোড়, চিল্লাচিল্লি এবং একে অপরের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদের শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং মসজিদের আদব নষ্ট হয়।
উত্তম পদ্ধতি
সুন্নাহর অনুসরণ এবং মসজিদের পবিত্রতা বজায় রাখার সবচেয়ে সুন্দর পদ্ধতি হলো হাতে হাতে খেজুর বিতরণ করা। এতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না এবং কাউকে কষ্টও পেতে হয় না। মসজিদে খেজুর বিতরণের সময় আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত যেন কারও অতিরিক্ত কষ্ট না হয় এবং মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়।