কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

যে বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছিল ‘অনেক কিছু’

১৯৯৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি : সংগৃহীত
১৯৯৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি : সংগৃহীত

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের নতুন যুগের সূচনা। তীব্র গরম, কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়াম, তারকাখচিত উদ্বোধন, নাটকীয় ম্যাচ আর মাঠের বাইরের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপ আজও ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী আসর হিসেবে বিবেচিত হয়।

তৎকালীন মার্কিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি অ্যালান রথেনবার্গের ভাষায়, বিশ্বকাপকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন এটি দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন। সেই আয়োজনের সাফল্যই আমেরিকায় ফুটবলের ভিত্তি মজবুত করে দেয়।

তিনি বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন, ‘আমরা এমন একটা আবহ তৈরি করেছিলাম যে, এটি ছিল এক পরম কাঙ্ক্ষিত টিকিট এবং আপনাকে এতে যুক্ত হতেই হতো। আমরা যেভাবে পুরো বিশ্বকাপটি আয়োজন করেছিলাম, তা সবকিছু বদলে দিয়েছিল।’

হলিউডের গ্ল্যামারের ছোঁয়া

বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদার ফুটবলের অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। মাত্র নয় বছর আগে দেশটির একমাত্র পেশাদার লিগটি ভেঙে পড়েছিল। এর মাধ্যমে অবসান ঘটেছিল নর্থ আমেরিকান সকার লিগের এক গৌরবময় দশকের, যার সূচনা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সে সময় নিউইয়র্ক কসমস ক্লাব বিশ্বরেকর্ড পারিশ্রমিক দিয়ে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে অবসর ভেঙে ফিরিয়ে এনেছিল।

ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, কার্লোস আলবার্তো এবং জোহান নিসকেন্সও এই ব্রাজিলিয়ানের পথ ধরে কানায় কানায় পূর্ণ জায়ান্টস স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। সেখানে ‘বাগস বানি’ ছিল ম্যাসকট এবং বারবারা স্ট্রেইস্যান্ড, মিক জ্যাগার ও মুহাম্মদ আলীর মতো তারকারা খেলোয়াড় ও সভাপতিদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে আড্ডা দিতেন।

জর্জ বেস্ট, জোহান ক্রুইফ, গার্ড মুলার—ফুটবলের এমন অনেক মহাতারকাই আটলান্টিক পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত দল সম্প্রসারণ, বিপুল খরচ এবং কমতে থাকা দর্শক সংখ্যার পাশাপাশি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব না পাওয়ায় সেই সোনালী অধ্যায়টি একসময় ম্লান হয়ে যায়।

তবে এটি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার এক জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ রেখে গিয়েছিল। যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে এটি বোঝানোর জন্য যথেষ্ট ছিল যে, ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো উর্বর ভূমি। ফলে ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে তাদের এই মেগা ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ফিফা দেশটিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দিলেও শর্ত ছিল নতুন একটি পেশাদার লিগ চালু করতে হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ফল হিসেবেই পরে জন্ম নেয় মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র যে গ্ল্যামার নিয়ে আসতে চেয়েছিল, তার প্রথম ঝলক দেখা গিয়েছিল লাস ভেগাসের সিজার্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত ড্র-র অনুষ্ঠানে। সেখানে জেমস ব্রাউন ও স্মোকি রবিনসন পারফর্ম করেছিলেন। অন্যদিকে কমেডিয়ান রবিন উইলিয়ামস হাতে সার্জিক্যাল গ্লাভস পরে ড্র-র দলগুলো বাছাই করেছিলেন এবং ব্ল্যাটারকে নিয়ে বেশ মজাও করেছিলেন। সবকিছুতেই ছিল আমেরিকান বিনোদনের ছোঁয়া। গায়ক, অভিনেতা, ক্রীড়াতারকাসহ নানা অঙ্গনের সেলিব্রিটিরা বিশ্বকাপ প্রচারণায় যুক্ত হন। আয়োজকদের ধারণা ছিল, বড় আয়োজনের প্রতি আমেরিকানদের আকর্ষণকে কাজে লাগিয়েই ফুটবলকে জনপ্রিয় করা সম্ভব।

ভ্যান থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন

বিশ্বকাপে হয়তো তারকাদের ঝলকানি ছিল, কিন্তু রথেনবার্গ যখন প্রথমে ইউএস সকারের সভাপতি এবং পরে বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন তিনি এটিকে একটি ছোটখাটো, স্বেচ্ছাসেবক-চালিত সংস্থা হিসেবে পেয়েছিলেন। যার ‘কোনো ফুটবল অবকাঠামো’ ছিল না এবং কলোরাডো স্প্রিংসে মার্কিন অলিম্পিক কমিটির দেওয়া একটি বিনামূল্যে ভাড়া নেওয়া ট্রেলার (মোবাইল ভ্যান) থেকে এর কার্যক্রম চলত।

তারা স্পনসরশিপ এবং আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য বিশ্বকাপকে কাজে লাগিয়েছিল। সেই সঙ্গে আয়োজক শহরগুলোর কাছ থেকে পরিবহন, নিরাপত্তা থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম প্রস্তুত রাখা পর্যন্ত সবকিছুর সেরা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিল। রথেনবার্গ শিকাগোর মেয়রের সঙ্গে কথোপকথন স্মরণ করে বলেন, ‘পোপের চেয়েও বেশি মানুষ বিশ্বকাপ নিয়ে মাথা ঘামায়, তাই আমি ঠিক একই রকম খাতির আশা করি।’

যুক্তরাষ্ট্রকে মাঠের পারফরম্যান্সেও উন্নতি করতে হতো। ১৯৯০ সালে দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতীয় দলটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও সেবার প্রতিটি ম্যাচেই তারা হেরেছিল।

রথেনবার্গ বলেন, ‘সেই পারফরম্যান্স ছিল বেশ বিপর্যয়কর। আমাদের দলটিকে কীভাবে নির্ভরযোগ্য করে তোলা যায়, তা খুঁজে বের করতে হয়েছিল। কারণ আমরা যদি আবার ব্যর্থ হতাম, তবে নিন্দুকদের কথা সত্যি প্রমাণিত হতো। দক্ষতার দিক থেকে আমাদের অত্যন্ত অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো।’

১৯৯৪ সালের স্কোয়াডে যারা জায়গা পেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে মাত্র সাতজন বিদেশে খেলতেন। বাকিরা ছিলেন কলেজ বা স্থানীয় লিগের খেলোয়াড়, যারা ইউএস সকারের কেন্দ্রীয় চুক্তির অধীনে ছিলেন। দলটির দায়িত্বে ছিলেন অভিজ্ঞ সার্বিয়ান কোচ বোরা মিলুতিনোভিচ, যিনি এর আগে বিশ্বকাপে মেক্সিকো এবং কোস্টারিকার কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মিলুতিনোভিচ মূলত নিজেই এই পদের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তিনি সান জোসেতে রথেনবার্গের সহকারী স্টিভ স্যাম্পসনকে খুঁজে বের করেন এবং তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য জোর দেন। ১৯৯১ সালে এই যাযাবর স্বভাবের কোচ রিনাস মিশেলস এবং কার্লোস কুইরোজের মতো হেভিওয়েটদের পেছনে ফেলে এই চাকরি পান।

মিলুতিনোভিচ জাতীয় দলটিকে একটি ক্লাবের মতো পরিচালনা করেছিলেন—লস অ্যাঞ্জেলেসের বাইরে ১৬ মাসের একটি আবাসিক ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন, যেখানে প্রতিটি অনুশীলন সেশনে ফুটবল টেনিস অন্তর্ভুক্ত ছিল। টুর্নামেন্টের আগে তিন বছরে তারা ৯০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছিল। ১৯৯৩ সালের ইউএস কাপে তারা গ্রাহাম টেইলরের ইংল্যান্ড দলকে হারিয়ে দেয়। সে সময় ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ ইংল্যান্ড দলকে ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলের হাসির পাত্র’ বলে কটাক্ষ করেছিল।

এদিকে ওয়েলস অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে এই মূল টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হারায়। স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। রথেনবার্গ তার ‘দ্য বিগ বাউন্স: দ্য সার্জ দ্যাট শেপড দ্য ফিউচার অফ ইউএস সকার’ বইয়ে লিখেছেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ একদিক থেকে স্বস্তি পেয়েছিল যে ‘যুক্তরাজ্যের হুলিগানরা আমাদের বিমানবন্দরগুলোতে এসে ভিড় জমায়নি এবং কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেনি।’

অপরাহ, ওজে ও গ্র্যান্ড ওপেনিং

যুক্তরাষ্ট্র তখন এক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বিশ্ব সবেমাত্র কার্ট কোবেইনকে হারিয়েছে, মাইকেল জর্ডান মাইনর লিগ বেসবল খেলছেন এবং ‘সকার’কে তখন একঝাঁক ব্লকবাস্টার গ্রীষ্মকালীন সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছিল—ফরেস্ট গাম্প, স্পিড, দ্য মাস্ক। যেদিন ব্রাজিল ক্যামেরুনকে ৩-০ গোলে হারায়, সেদিনই মুক্তি পায় ‘দ্য লায়ন কিং’—যে ম্যাচে রোমারিও এবং বেবেতো যেন তাদের নিজস্ব ব্লকবাস্টার পারফর্ম করেছিলেন।

অপরাহ উইনফ্রে শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে বিশ্বব্যাপী ৭৫ কোটি দর্শকের সামনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাতে গিয়ে মঞ্চ থেকে পড়ে যান। ডায়ানা রস পেনাল্টি মিস করেন, কিন্তু নাটকীয়ভাবে গোলপোস্টটি এমনিতেই ভেঙে পড়ে। আর বলিভিয়ার বিপক্ষে জার্মানির ১-০ গোলের জয়টি সেদিন সন্ধ্যায় এক সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়, যখন পুলিশ ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে ওজে সিম্পসনকে ধরার জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ধীরগতির গাড়ি তাড়া করার লাইভ ভিডিও দেখায়।

ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুকা প্যাগ্লিউকা এবং তার সতীর্থরা পরের দিন রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিউ জার্সির সমারসেট হিলস হোটেল থেকে এই ঘটনা দেখছিলেন।

তিনি স্মরণ করেন, ‘আমরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম এবং আমার এটি খুব স্পষ্টভাবে মনে আছে। আমরা টিভিতে পুরো ধাওয়া করার ঘটনাটি লাইভ দেখেছি। মনে হচ্ছিল যেন কোনো সিনেমা দেখছি—একেবারে অবিশ্বাস্য। আমরা সবাই টেলিভিশনের পর্দায় চোখ আটকে রেখেছিলাম।’

আজ্জুরিরা (ইতালি দল) নিউ জার্সিতে বিশাল ইতালীয় প্রবাসীদের কাছ থেকে দারুণ অভ্যর্থনা পেয়েছিল, যারা তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করছিল। প্যাগ্লিউকা আরও বলেন, ‘এটি সত্যিই চমৎকার ছিল। সেখানে সবসময় বডিগার্ডরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করত, কারণ সেখানে এত ইতালীয় বসবাস করতেন যে তারা ছবি এবং অটোগ্রাফের জন্য চলে আসতেন।’

আইরিশরাও এমন এক প্রতিপক্ষের সামনে দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না, যাদের পক্ষে গ্যালারির সিংহভাগ দর্শক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এমনকি আবহাওয়ার কাছেও তারা হার মানেনি—তপ্ত অনুশীলনের সময় কিছু খেলোয়াড়ের ওজন আট থেকে নয় পাউন্ড পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। যদিও কোচ জ্যাক চার্লটন এবং স্ট্রাইকার জন অলড্রিজ পরবর্তীতে টুর্নামেন্টে টাচলাইন অফিশিয়ালদের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন।

রে হটন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস স্পোর্টসওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘স্টেডিয়ামে যাওয়ার সময় বাসে বসে আমরা কেবল আইরিশ পতাকা এবং জার্সি দেখতে পাচ্ছিলাম, যা আমাদের মনে অনেক আশা জাগিয়েছিল।’

তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ তারকা হেদার ও'রেইলি—একজন নয় বছরের শিশু, যিনি নিজের ঘরের মাঠে এই বিশ্বকাপ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

২৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা যুক্তরাষ্ট্রের এই সাবেক তারকা বলেন, ‘ও'রেইলির মতো নামের কারণে আপনি বুঝতেই পারছেন যে আয়ারল্যান্ডকে সমর্থন করার জন্য আমাদের মাঝে কতটা উত্তেজনা ছিল। আমার মনে আছে মানুষ পার্কিং লটে কিপি-আপ্পি (বল নিয়ে জাগলিং) করছিল, রান্না করছিল, ড্রামের আওয়াজ আসছিল—পুরো আয়োজনটি আমার ওপর বিশাল প্রভাব ফেলেছিল।’

হটনের এক চমৎকার হাফ-ভলিতে জায়ান্টস স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের এক চমকপ্রদ জয় নিশ্চিত হয়, যদিও তিনি প্রায় ভুল জার্সি পরে মাঠে নেমে পড়েছিলেন! টানেলে লাইনে দাঁড়ানোর সময় দেখা গেল ইতালিও সাদা রঙের জার্সি পরে আছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলছিলাম, ‘‘আমাদের মধ্যে একজনের ভুল হয়েছে, সে কে?’’ পরে জানা গেল ভুলটা আমাদেরই ছিল। আমাদের আবার ড্রেসিংরুমে ছুটে যেতে হয়েছিল। আপনি বুঝতেই পারছেন যে ভুল জার্সি আনার জন্য জ্যাক চার্লটন কিট ম্যানকে কতটা বকাঝকা করছিলেন! তবে এই ঘটনাটি আমাদের স্নায়ুর চাপ কমিয়ে দিয়েছিল। আমরা হাসাহাসি করতে করতে জাতীয় সঙ্গীতের জন্য মাঠে নেমেছিলাম।’

এদিকে, সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিশন শুরু করে। এরিক উইনাল্ডা—যার ডেনিম-ব্লু জার্সিতে দেশাত্মবোধক তারা আঁকা ছিল—পন্টিয়াক সিলভারডোম স্টেডিয়ামের ছাদের নিচে একটি ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়ান। ম্যাচের আগে রাতে সেই স্টেডিয়ামেই পুরো দলকে একটি মোটিভেশনাল ভিডিও দেখানো হয়েছিল।

উইনাল্ডা বলেন, ‘আমি কিট ম্যানেজারকে আমার বুট এবং কয়েকটা বল আনতে বলেছিলাম। আমি দেখতে চেয়েছিলাম এই স্টেডিয়ামে ফ্রি-কিক কেমন হয়। বল দুটো মারার পর অদ্ভুতভাবে বাতাসে ভাসছিল। আমি ভাবলাম, ‘এই স্টেডিয়ামে বলের আচরণ কিছুটা ভিন্ন’।’

উইনাল্ডার ফ্রি-কিকটি যখন জালে জড়ায়, তখন দর্শকদের গর্জন তাকে রোমাঞ্চিত করে তুলেছিল। পরে যখন তিনি হোটেলে ফিরে আসেন, তখন তার এক হিরো, যিনি ধারাভাষ্যের দায়িত্বে ছিলেন, বারে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন: “ক্রিস ওয়াডল আমাকে ইশারা করে ডাকলেন এবং বললেন, ‘পরের কয়েক রাউন্ড ড্রিংকসের খরচ কিন্তু তোমাকেই দিতে হবে!’

ব্রাজিল দলকে কভার করতে আসা সাংবাদিক লেডিও কারমোনা মার্কিন জনসাধারণের মধ্যে ফুটবল নিয়ে একটি ‘কৌতূহলী আগ্রহ’ লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘তাদের চোখে এক ধরণের বিস্ময় ছিল। তারা যেন ভাবছিল—এই খেলাটার মধ্যে এমন কী জাদু আছে যা এত মানুষকে এভাবে মোহিত করে?’

রথেনবার্গের মতে, স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে ফিফা কর্মকর্তারা বিস্মিত ও অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে সেপ ব্ল্যাটার আমাকে ফোন করেছিলেন। সেটি ছিল একটি ওপেনিং রাউন্ডের ম্যাচ এবং সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। তিনি একেবারে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন।’

ম্যারাডোনার বিদায় ও কলম্বিয়ার ট্র্যাজেডি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ খেলে টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জন করা আর্জেন্টিনা গ্রিসের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয় দিয়ে তাদের মিশন শুরু করে, যেখানে নিষ্ঠুর গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা হ্যাটট্রিক করেন। তবে সেই ম্যাচের আসল গল্প ছিল অন্য এক গোলদাতাকে ঘিরে।

১৯৯১ সালের মার্চ মাসে কোকেনের জন্য পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। যখন তিনি মাঠে ফেরেন—প্রথমে সেভিয়া এবং পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে—তখন তার ওজন বেড়ে গিয়েছিল এবং তিনি ফর্মে ছিলেন না। ফলে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।

তবে কঠোর ব্যক্তিগত অনুশীলন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তিনি প্রায় দুই স্টোন (১২-১৩ কেজি) ওজন কমান এবং ঘোষণা করেন, ‘যারা বলেছিল আমি মোটা হয়ে গেছি এবং আমি আর সেই মহান ম্যারাডোনা নেই, তাদের কথায় আমি ক্লান্ত। বিশ্বকাপে তারা আসল ডিয়েগোকে দেখতে পাবে।’

গ্রিসের বিপক্ষে এই ৩৩ বছর বয়সীর দুর্দান্ত গোলটি ছিল তার অতীতের সেই সোনালী সময়ের এক ঝলক—বক্সের বাইরে দ্রুত কয়েকটি পাসের আদান-প্রদান, জায়গা তৈরি করতে দুটি সূক্ষ্ম টাচ এবং একটি জোরালো বাম পায়ের শটে বল টপ কর্নারে জড়ানো। গোল উদযাপনের দৃশ্যটি ছিল আরও আইকনিক—ক্যামেরার দিকে ছুটে গিয়ে চোখ বড় বড় করে ক্যামেরার লেন্সে মুখ ঠেকিয়ে গর্জন করা।

সেটিই ছিল আলবিসেলেস্তেদের (আর্জেন্টিনা) জার্সিতে ম্যারাডোনার শেষ গোল। এই ফুটবল জাদুকরের শেষ আন্তর্জাতিক অবদান ছিল পরের ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ক্লডিও ক্যানিজিয়ার দুটি গোলেরই সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

নাইজেরিয়ার সানডে অলিসেহ স্মরণ করেন, ‘আমাকে তার বিরুদ্ধে ওয়ান-অন-ওয়ান খেলতে হয়েছিল। ম্যারাডোনা যেভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করতেন, তেমনটা আমি অন্য কোনো খেলোয়াড়কে করতে দেখিনি। তিনিই পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন—একেবারে জিনিয়াস।’

তবে ম্যারাডোনার মূত্র নমুনায় নিষিদ্ধ ড্রাগের উপস্থিতি পাওয়ার পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন এলোমেলো হয়ে যায়। ম্যারাডোনা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন—তার ব্যক্তিগত ট্রেইনার ভুল করে তার নিয়মিত ‘লিপড ফাস্ট’ সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে ‘লিপড ফুয়েল’ কিনে এনেছিলেন। কিন্তু শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগেই এই মহানায়ককে নিষিদ্ধ করা হয়।

আর্জেন্টিনার মেডিকেল স্টাফের সদস্য ডক্টর রবার্তো পেইড্রো বিবিসির ‘স্পোর্টিং উইনেস’কে বলেন, ‘ডিয়েগো অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন, তিনি কাঁদছিলেন, নিজেকে রুমে বন্দি করে নিয়েছিলেন এবং কারও সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলেন না।’ ক্যাম্পের সেই পরিবেশকে তিনি ‘একটি শোক অনুষ্ঠানের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

ম্যারাডোনার নিষেধাজ্ঞার আগে আর্জেন্টিনা অন্যতম ফেভারিট ছিল, কিন্তু ম্যারাডোনা ছাড়া তারা ডালাসে রিস্টো স্টোইচকভের বুলগেরিয়ার কাছে হেরে যায় এবং পরে শেষ ১৬-র ম্যাচে রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়।

তবে আসল চমক ছিল কলম্বিয়া, যারা আগের বছর বুয়েনস আইরেসে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে হারিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী ছিল। এমনকি পেলে, ইয়ুহান ক্রুইফ এবং আররিগো সাকির মতো ব্যক্তিত্বরা তাদের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে গণ্য করেছিলেন।

পাসাদেনায় নিজেদের নীল রঙের জার্সি পরে মাঠে নেমে কলম্বিয়া তাদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচেই রোমানিয়ার কাছে হোঁচট খায়—গোলরক্ষক অস্কার কর্ডোবাকে বোকা বানিয়ে গোল করেন জর্জ হাজি। কর্ডোবা মূলত রেনে হিগুইতার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, যিনি আগের বছর কারাবরণ করেছিলেন।

কোচ ফ্রান্সিসকো মাতুরানার দল নির্বাচন নিয়ে ড্রাগ কার্টেলগুলোর কাছ থেকে হোটেলের টিভি স্ক্রিনে আসা মৃত্যুর হুমকির মধ্যেই কলম্বিয়া পরের ম্যাচে অনভিজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার নিজের জালে বল জড়ালে (আত্মঘাতী গোল) কলম্বিয়ার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। রোজ বোলে প্রায় ৯৪ হাজার দর্শকের সামনে আর্নি স্টুয়ার্ট স্বাগতিকদের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। অ্যাডলফো ভ্যালেন্সিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল সান্ত্বনা দিলেও কলম্বিয়া ম্যাচটি হেরে যায়। শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে হারালেও তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

কলম্বিয়ায় ফিরে এসকোবার ‘এল তিয়েম্পো’ পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছিলেন, যার শিরোনাম ছিল— ‘জীবন এখানেই শেষ হয়ে যায় না।’ কিন্তু সেই আত্মঘাতী গোলের মাত্র ১০ দিন পর, মেদেলিনের ‘বার এল ইন্ডিও’র বাইরে পার্কিং লটে এক বাকবিতণ্ডার পর ২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এটিকে একটি প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। তবে জাতীয় দলের প্রধান কোচ মাতুরানাসহ অনেকেই মনে করেন, এসকোবার তৎকালীন কলম্বিয়ার সহিংস সমাজের এক দুর্ভাগ্যজনক শিকার ছিলেন। এটি ছিল কলম্বিয়ার ফুটবলের সোনালী প্রজন্মের এক অত্যন্ত দুঃখজনক সমাপ্তি।

স্বাগতিকদের গৌরবময় বিদায়

যুক্তরাষ্ট্র কেবল গ্রুপ পর্বই পার করেনি, তারা ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ১৬-র এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল।

সাংবাদিক কারমোনা স্মরণ করেন, ‘সেটি ছিল এক যুদ্ধ। আমেরিকানরা স্বাধীনতা দিবসে জেতার জন্য তাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল এবং ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। একটি আদর্শ বিশ্বকাপ লড়াই।’

প্রথমার্ধের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার ট্যাব রামোসকে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে ব্রাজিলের লিওনার্দো লাল কার্ড দেখেন। রামোস বলেছিলেন, সেই আঘাতের পর তার মনে হয়েছিল তিনি মারা যাচ্ছেন। কোচ মিলুতিনোভিচ তাকে আবার মাঠে পাঠাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসকরা বাধা দেন। পরবর্তীতে অনুতপ্ত লিওনার্দো হাসপাতালে গিয়ে রামোসকে দেখে আসেন।

উইনাল্ডা বলেন, ‘আমি ট্যাবের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলাম। আমি জানতাম না ও বাঁচবে কি না। ওকে দেখতে খুব ভয়ংকর লাগছিল। ও আমার খুব ভালো বন্ধু, তাই পরিস্থিতিটা খুব কঠিন ছিল। আমরা ম্যাচ শেষে দ্রুত মাঠ ছাড়ি এবং আমাদের প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘‘ট্যাব কেমন আছে? ও কি ঠিক আছে? ও কি আমাদের মাঝে আছে?’’ আমরা সত্যিই খুব চিন্তিত ছিলাম।’

ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে বেবেতো গোল করার আগ পর্যন্ত স্বাগতিকরা ব্রাজিলকে আটকে রেখেছিল। হাজার হাজার পতাকা হাতে আমেরিকান ভক্তদের জন্য এটি ছিল এক গৌরবময় বিদায়, যা প্রমাণ করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্ভরযোগ্য ফুটবল দল রয়েছে।

উইনাল্ডা আরও বলেন, ‘আমরা যতই দুঃখী ছিলাম না কেন, ম্যাচের পরপরই আমরা একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম এবং সেখানে রবিন উইলিয়ামস ছিলেন। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তিনি আমাদের হাসিয়ে পুরো দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন যে তিনি এবং পুরো আমেরিকা আমাদের পারফরম্যান্সে কতটা গর্বিত।’

রথেনবার্গের মতে, এই ম্যাচটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ‘ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের সেই রঙিন উদ্দীপনা সবাই জানে। কিন্তু সেদিন সমসংখ্যক আমেরিকান ভক্তও মুখ রাঙিয়ে, পতাকা উড়িয়ে রাস্তায় নাচছিল।’

‘তখনি আমার মনে হয়েছিল—আমরা একটি ফুটবল জাতিতে পরিণত হয়েছি। আমার মনে হয় সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিষয়টি এমনই আছে,’ যোগ করেন তিনি।

এদিকে ইতালি তাদের গ্রুপে তৃতীয় হয়ে কোনোমতে নকআউট পর্বে উঠেছিল, কারণ গ্রুপের চারটি দলেরই পয়েন্ট সমান ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় গোলরক্ষক প্যাগ্লিউকাকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়—তিনিই ছিলেন বিশ্বকাপে লাল কার্ড পাওয়া প্রথম গোলরক্ষক। ফলে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের শেষ ১৬-র জয়টি তিনি মিস করেন।

তার বিকল্প লুকা মার্চেজিয়ানি ভালো পারফর্ম করায় প্যাগ্লিউকা ভাবছিলেন তার টুর্নামেন্ট হয়তো শেষ। তিনি যখন তার রুমে সতীর্থ রবার্তো ডোনাডোনির সঙ্গে গলফ খেলা দেখছিলেন, তখন সহকারী কোচ কার্লো আনচেলত্তি এসে নিশ্চিত করেন যে স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে প্যাগ্লিউকাই খেলবেন।

প্যাগ্লিউকা বলেন, ‘আমার জন্য বিশ্বকাপ মূলত সেই রাতেই শুরু হয়েছিল। ডিনারের সময় আমি স্বভাবতই খুব খুশি ছিলাম, কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারছিলাম না। খাওয়ার পর আমরা সাধারণত হজমের জন্য হাঁটতে যেতাম। আমি যখন সিগারেট খাচ্ছিলাম, মার্চেজিয়ানি আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল আমি কিছু জানি কি না। আমার খুব খারাপ লাগছিল, কিন্তু আমাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়েছিল।’

যারা সেই বিশ্বকাপ স্মরণীয় করেছিলেন

১৯৯৪ সালের ফুটবলের সেই গ্রীষ্মটি আইকনিক ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য স্মরণীয় হয়ে উঠছিল। রিস্টো স্টোইচকভ ৬ গোল করে বুলগেরিয়াকে সেমিফাইনালে নিয়ে যান এবং রাশিয়ার ওলেগ সালেনকোর সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুট জেতেন, যিনি ক্যামেরুনের বিপক্ষে এক ম্যাচেই ৫ গোল করেছিলেন।

প্যাগ্লিউকা—যার ইতালি দল বুলগেরিয়ার সেই জয়রথ থামিয়ে দিয়েছিল (যারা কোয়ার্টার ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করেছিল)—বলেন, ‘স্টোইচকভ ছিলেন এক অসাধারণ এবং অনন্য খেলোয়াড়। তিনি তখন তার ক্যারিয়ারের তুঙ্গে ছিলেন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে খুব ভালোভাবে মার্ক করেছিলাম।’

স্টোইচকভ সেই বছর ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন, তবে ইতালিরও একজন নায়ক ছিলেন—রবার্তো ব্যাজিও। তার সেই বিখ্যাত ‘ডিভাইন পনিটেইল’ (চুলের স্টাইল) নিয়ে তিনি ছিলেন অনন্য। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে প্যাগ্লিউকা লাল কার্ড পাওয়ায় ব্যাজিওকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নকআউট পর্বে তিনিই আজুরিদের পথ দেখান।

শেষ ১৬-র ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করে তিনি ম্যাচ সমতায় ফেরান এবং অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইতালিকে জেতান। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ৮৮ মিনিটে আন্দোনি জুবিজারেতাকে কাটিয়ে তিনি জয়সূচক গোল করেন এবং জায়ান্টস স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে দুটি জাদুকরী গোল করেন।

প্যাগ্লিউকা স্মরণ করেন, ‘শেষ ১৬ থেকে শুরু করে সে আমাদের একাই ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিল। সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব গোল করেছিল। সে কেবল একজন বড় খেলোয়াড়ই ছিল না, মানুষ হিসেবেও খুব ভালো ছিল। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ চমৎকার রাখার জন্য তার হাসিখুশি ব্যক্তিত্ব দারুণ কাজ করত।’

ব্র্যাকেটের অন্য পাশে ছিলেন রোমানিয়ার প্রতিভাবান জর্জ হাজি, যিনি ব্রেসিয়া থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর সিরি বি-তে একটি মৌসুম কাটিয়েছিলেন এবং নাপোলিতে ম্যারাডোনার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রস্তাব ক্লাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ ছিলেন।

রোমানিয়ান সাংবাদিক ইমানুয়েল রোসু বলেন, ‘বিশ্বকাপের অনুপ্রেরণা তাকে যেন নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করেছিল। হঠাৎ করেই সে সবার চেয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করে। সে বলত যে রোমানিয়া বিশ্বকাপ জিততে পারে। সে পুরো দলটিকে সঠিক দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। আর পুরো জাতিকেও। আমরা সবেমাত্র কমিউনিস্ট অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসছিলাম।’

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে রোমানিয়ার সেই স্বপ্নযাত্রা শেষ হয়, কিন্তু হাজির পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে মানুষের মন জয় করেছিল।

রোসু আরও যোগ করেন, ‘নব্বইয়ের দশকে এটি ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ, যেখানে রক্তাক্ত বিপ্লবে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। রোমানিয়া ‘৯৪ আমাদের সমাজে শান্তি এনে দিয়েছিল এবং আমাদের সবাইকে আলো দেখিয়েছিল। এর কয়েক বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হাজির নামে প্রচুর হাতে লেখা ভোট পড়েছিল। তিনি এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন।’

বেবেতো এবং ব্যাজিওর চোখের জল

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের সেই ‘থ্রি টেনরস’ (তিন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী) ফাইনালের আগের রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডজার স্টেডিয়ামে পারফর্ম করেন। দর্শকদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ, আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার, ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা, নিকোল কিডম্যান এবং টম ক্রুজ।

এদিকে, ইউএস সকারের কর্তারা নিজেদের পিঠ চাপড়াচ্ছিলেন। এই বিশ্বকাপটি দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে রেকর্ড গড়েছিল—৫২টি ম্যাচে ৩৬ লাখ দর্শক উপস্থিত হয়েছিল, ১৯৯০ সালের চেয়ে গোল সংখ্যা বেশি ছিল এবং এটি বিপুল মুনাফা অর্জন করেছিল।

ফাইনালের আট সপ্তাহ আগে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জাতীয় নায়ক আইরটন সেনাকে হারিয়ে শোকগ্রস্ত ব্রাজিল দল সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে রোজ বোলে ইতালির মুখোমুখি হয়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে বেবেতোর সেই আইকনিক ‘রক দ্য বেবি’ (সন্তানকে দোলানোর মতো) গোল উদযাপন আজো ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।

ম্যাচের দুই দিন আগে বেবেতো হোটেল রুমে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ফোন পান যে তাদের ছেলে পৃথিবীতে এসেছে। এক ঘণ্টার মধ্যে টিভি নেটওয়ার্ক গ্লোবো ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে এই ফরোয়ার্ডকে তার স্ত্রী ও নবজাতক ছেলের সাথে যুক্ত করে। সেই নবজাতক ম্যাথিউস এখন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় স্তরের লিগের টাম্পা বে রাউডিজের মিডফিল্ডার, যার বয়স এই গ্রীষ্মে ৩২ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

বেবেতো পরবর্তীতে ফিফাকে বলেছিলেন, ‘এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে আজও আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি।’

ব্রাজিল সেমিফাইনাল ম্যাচটিও রোজ বোলেই খেলেছিল, অন্যদিকে ইতালিকে পূর্ব উপকূল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রখর রোদে দুপুরের ম্যাচে অংশ নিতে আসতে হয়েছিল। সাংবাদিক কারমোনা বলেন, ‘সাংবাদিকরা স্ট্যান্ডে গরমে গলে যাচ্ছিলেন।’ তবে প্যাগ্লিউকা মনে করেন মাঠের ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় ছিল।

প্যাগ্লিউকা বলেন, ‘সেখানে আর্দ্রতা কম ছিল। আমার মনে আছে নিউ ইয়র্ক এবং বোস্টনে অনেক বেশি গরম ছিল। ফাইনালে কিছুটা বাতাসও ছিল।’

তবে ফাইনাল ম্যাচটি ছিল এক টানটান উত্তেজনার গোলশূন্য ড্র। ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল যখন প্যাগ্লিউকা মাউরো সিলভার একটি দূরপাল্লার শট ঠিকমতো গ্রিপ করতে না পারায় বল তার হাত গলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এই গোলরক্ষক তার গ্লাভসে চুমু খেয়ে পোস্টটি চাপড়ে দিয়েছিলেন।

তিনি হেসে বলেন, ‘আমি পোস্টে চুমু খেয়েছিলাম কারণ এটি আমার ক্যারিয়ার বাঁচিয়ে দিয়েছিল। ওই বলটি যদি জালে জড়িয়ে যেত, তবে আমাকে সারাজীবন সেই কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হতো। সবাই ফাইনাল ম্যাচে প্যাগ্লিউকার সেই ভুলের কথাই মনে রাখত।’

তার পরিবর্তে, এই ফাইনালটি আজো স্মরণীয় হয়ে আছে শুটআউটে ব্যাজিওর সেই পেনাল্টি মিসের জন্য। ইতালির ফ্রাঙ্কো বারেসি ও ড্যানিয়েল মাসারো এবং ব্রাজিলের মার্সিও সান্তোস আগেই পেনাল্টি মিস করেছিলেন। ব্রাজিলের জয়ের মুহূর্তটি নির্ভর করছিল সেই মানুষের ওপর যিনি একাই ইতালিকে ফাইনালে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু ব্যাজিও বল মারলেন বারের ওপর দিয়ে। তার সেই জাদুকরী টুর্নামেন্টের এক বেদনাদায়ক সমাপ্তি।

প্যাগ্লিউকা ব্যাজিওকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তটি স্মরণ করে বলেন, ‘সেখানে এক বিশাল হতাশা ছিল। সে নিজেকে অপরাধী মনে করছিল, কিন্তু আমরা তাকে বলেছিলাম যে তোমার কারণেই আমরা আজ ফাইনালে আসতে পেরেছি, তাই তোমার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই।’

‘এটাই ফুটবল। আপনি এক মুহূর্তে নায়ক এবং পরের মুহূর্তেই খলনায়ক হয়ে যেতে পারেন। আমরা তাকে যতটা সম্ভব সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। সে খুব ভেঙে পড়েছিল। এখনও যখন তার সাথে আমার দেখা হয়, আমরা মাঝেমধ্যে সেই দিনের কথা বলি। সেই দিনের অনুভূতি আমার হৃদয়ে চিরকাল থেকে যাবে,’ যোগ করেন তিনি।

ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি এলেও, তাদের সেই রক্ষণাত্মক এবং ‘আন-সেলেসাও’ (ব্রাজিল সুলভ নয় এমন) খেলার স্টাইল নিয়ে বিতর্ক থামেনি—যার কারণে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে তাদের নিজেদের ভক্তদের কাছ থেকেই হুড়ো ধ্বনি শুনতে হয়েছিল।

কারমোনা স্মরণ করেন, ‘কর্মকর্তারাও অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, এমনকি শিরোপা উদযাপনের সময় একজন কর্মকর্তা এক সাংবাদিককে আঘাত করেছিলেন। রিও ডি জেনিরো এবং সাও পাওলোর মিডিয়ার মধ্যেও এক ধরণের ক্ষমতার লড়াই চলছিল। সব মিলিয়ে শিরোপা উদযাপনের মধ্যেও এক ধরণের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল।’

ব্রাজিল কোচ কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা অবশ্য সমালোচকদের কথায় কান দেননি। তিনি আমেরিকার বিখ্যাত গায়ক ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার গানের লাইন দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিয়েছিলেন, ‘আই ডিড ইট মাই ওয়ে’ (আমি আমার নিজের পথেই এটি করেছি)।

মেজর লিগ সকারের জন্ম

বিশ্বকাপের দুই বছর পর মেজর লিগ সকার চালু হয়। প্যাগ্লিউকা বলেন, ‘আমার মতে, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ আমেরিকানদের ফুটবলের কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছিল।’

রথেনবার্গ আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ ফুটবল অনুসারীদের মধ্যে অনেক সংশয় ছিল, যারা মাথা চুলকে বলছিল: ‘এই ফুটবল-বিমুখ জাতি কীভাবে এত বড় আয়োজন করবে?’ আমার মনে হয় আমরা তাদের ভুল প্রমাণ করতে পেরেছি।’

১৯৯৬ সালের এপ্রিলে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে সান জোসে ক্ল্যাশের ১-০ গোলের জয়ে এরিক উইনাল্ডা এমএলএস ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন। ম্যাচ শেষে তিনি জুর্গেন ক্লিন্সম্যানের কাছ থেকে একটি অভিনন্দনমূলক ফোন পান, যিনি তাকে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় তুমি এখনও বুঝতে পারছ না এই গোলটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

বর্তমানে এমএলএস-এ ৩০টি দল রয়েছে। এটি ডেভিড বেকহ্যাম, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, কাকা, ওয়েন রুনি এবং লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা সুপারস্টারদের স্বাগত জানিয়েছে। রথেনবার্গ বলেন, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ সফল না হলে এই লিগ হয়তো এক বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ত।

ফিফা অবশ্য রথেনবার্গের কিছু প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল—যেমন সেই “আইস হকি”র আইডিয়া বা বল ও গোলপোস্ট বড় করার প্রস্তাব। ‘আমরা খেলাটিকে চার কোয়ার্টারে ভাগ করার কথা ভেবেছিলাম। আমরা বড় গোলপোস্টের কথাও ভেবেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়। সেপ ব্ল্যাটার বলেছিলেন: ‘আমরা বিশ্বের প্রতিটি দেশের গোলপোস্টের আকার পরিবর্তন করতে পারি না!’

এর পরিবর্তে, রথেনবার্গ এবং তার দল বুঝতে পেরেছিলেন যে তাদের “আসল ফুটবল ভক্তদের” দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। ফলে ব্যাক-কাউন্টডাউন ঘড়ি এবং ৩৫-গজের শুটআউটের মতো আইডিয়াগুলো বাদ দেওয়া হয়।

‘যারা ফুটবল ভক্ত নয় তাদের রূপান্তর করা এক দীর্ঘ লড়াই ছিল এবং এর মাধ্যমে আমরা ফুটবলারদের মূল আবেগকেই আঘাত করছিলাম।’

একসময় আমেরিকার টিভিতে ‘সকার’ খুঁজে পাওয়াই দায় ছিল। রথেনবার্গ জানান, ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের কোনো ইংরেজি সম্প্রচার যুক্তরাষ্ট্রে ছিল না। অথচ এখন পুরুষ এবং নারীদের ফুটবল আমেরিকান সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি মিশে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা টেলিভিশন সম্প্রচারহীন এক যুগ থেকে আজ সম্পূর্ণ স্যাচুরেশনের (প্রাচুর্যের) যুগে পৌঁছেছি। এখন আপনি ড্রাইভ করার সময় দেখতে পাবেন বাচ্চারা ফুটবল খেলছে, বেসবল বা বাস্কেটবল নয়!’

‘আপনি যদি শপিং মলগুলোতে যান, তবে আপনি মানুষের গায়ে তাদের স্থানীয় দল, মেসি, বায়ার্ন মিউনিখ বা টটেনহ্যাম, রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার জার্সি দেখতে পাবেন। যেসব শহরে বেসবল বা আমেরিকান ফুটবল রাজত্ব করে, সেখানেও ফুটবলের জার্সি আজ চোখে পড়ার মতো।’

রথেনবার্গ মনে করেন, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থে একটি ‘সকার নেশন’-এ পরিণত করার পথ তৈরি করে দেয়।

সূত্র: বিবিসি

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

প্রকৃতির অলংকার অনিন্দ্যসুন্দর প্রজাপতি ‘হরতনি’

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, বিশ্বকাপ থেকে বাদ রেফারি ওমর আরতান

নেইমারের চোটের বর্তমান অবস্থা জানাল ব্রাজিল

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হয়নি : নেতানিয়াহু

ডিআইজির কক্ষ থেকে আরও ২ কালনাগিনী সাপ উদ্ধার

আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

নাইটক্লাব কাণ্ডে তদন্তে স্টোকস, নেতৃত্ব নিয়েও শঙ্কা

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক / ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার

১০

চেকপোস্টে ৩ বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক

১১

জোড়া পেনাল্টিতে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নেদারল্যান্ডসের

১২

ভোরে ঝরল ৪ প্রাণ

১৩

অপরাধবিষয়ক টিভি অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করল ইরাক

১৪

যে বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছিল ‘অনেক কিছু’

১৫

‘ফেভারিট নয়, তবে বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার পর্তুগাল’

১৬

সৌদিতে প্রাণ গেল প্রবাসী ফল ব্যবসায়ীর

১৭

চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার : ডা. ডোনার

১৮

আর কোনো যুদ্ধ চান না ট্রাম্প, নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা

১৯

প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

২০
X