

রাত গভীর হলে শহরের গলির ভেতর কিছু দরজা খোলে যা দিনের আলোয় দেখা যায় না। ডিজিটাল দুনিয়াতেও তেমনই একটি দরজা আছে; নাম তার নাম Virtual Private Network (VPN) বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। লাখো ব্যবহারকারীর কাছে এ প্রযুক্তি আজ পরিণত হয়েছে পরিচয় আড়ালের ঢাল, অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে। আর এই অন্ধকারের দরজা দিয়ে যে বিষ ঢুকছে, তা এখন বাংলাদেশের শিশুদের শরীর ও মনকে ধ্বংস করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দরজা কি আরও বেশিক্ষণ খোলা রাখার বিলাসিতা আমাদের আছে? পরিচয় লুকানো মানেই কি সন্দেহজনক নয়?
একজন সৎ মানুষের মুখ ঢাকার কী প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি সরল হলেও এর উত্তর অনেক কিছু বলে দেয়। ভিপিএন ব্যবহারকারীদের বিপুল একটি অংশ প্রযুক্তিটি বেছে নেন নিজের অনলাইন পরিচয় ও অবস্থান লুকাতে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য পরিচয় লুকানোর এত প্রয়োজন কেন? সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ভিপিএন ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পরিচালিত হয় ভূ-অবরুদ্ধ অবৈধ কনটেন্টে প্রবেশ, পর্নোগ্রাফি; বিশেষত শিশু পর্নোগ্রাফি দেখা এবং সাইবার অপরাধের উদ্দেশ্যে।
বাংলাদেশে যখন কোনো ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বন্ধ করে দেয়, তখন কিছু ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে ভিপিএনের দ্বারস্থ হন। এই প্রবণতা কী ইঙ্গিত দেয়? রাষ্ট্রের আইনি সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশের এই তাড়া কার্যত আইন অমান্যের একটি সংগঠিত সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। যে রাষ্ট্র নাগরিকের ভালোর জন্য একটি দরজা বন্ধ করে, ভিপিএন সেই দরজার দেয়াল ভেঙে দেয়।
শিশু ধর্ষণের মহামারি ও ভিপিএনের ভয়াবহ সংযোগ
বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি মহামারির রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান বারবার দেখিয়েছে যে প্রতি বছর শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং প্রকৃত সংখ্যা নথিভুক্ত ঘটনার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যম। বিশেষত ভিপিএন সুরক্ষিত পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট একটি গুরুতর নিয়ামক হিসেবে উঠে আসছে।
সম্পর্কটি বোঝার জন্য একটি সরল প্রশ্ন করা যাক: একজন কিশোর বা তরুণ যখন বছরের পর বছর ধরে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা চরমপন্থি পর্নোগ্রাফি দেখে, তার মানসিকতায় কী পরিবর্তন আসে? মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এই ধরনের কনটেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থাকে (রিওয়ার্ড সিস্টেম) পুনর্গঠিত করে, শিশুদের প্রতি যৌন আগ্রহকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ধর্ষণকে ক্ষমতার প্রকাশ হিসেবে মহিমান্বিত করে। এটি কোনো অনুমান নয়, এটি পুনঃ পুনঃ প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্য।
গবেষকরা দেখেছেন, যেসব দেশে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ-প্রতিক্রিয়ার এই শৃঙ্খলটি উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যে মুহূর্তে শিশু ধর্ষণের ঘটনা মহামারির রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশে ভিপিএন ডাউনলোড অস্বাভাবিক সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় যা ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি কনটেন্টে প্রবেশের ঘটনাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দুটো তথ্য একসাথে রাখলে যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় তা হলো: আমরা কি এই সম্পর্ককে আর অস্বীকার করতে পারি?
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো অনলাইন গ্রুমিং বা শিশু প্রলোভন প্রক্রিয়া। ভিপিএন ব্যবহার করে পরিচয় আড়াল করা প্রাপ্তবয়স্করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে, ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করে এবং তারপর তাদের যৌন নিপীড়নের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভিপিএন অপরাধীকে দ্বিগুণ সুবিধা দেয়। প্রথমত, তার আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখে; দ্বিতীয়ত, তদন্তকারীদের পক্ষে তাকে ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে। ফলে ধর্ষক ধরা পড়ে না, শিশুটি ন্যায়বিচার পায় না এবং অপরাধী একই কাজ বারবার করতে সাহস পায়।
বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যে প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে জরুরি তা হলো: ধরা পড়া শিশু নির্যাতনকারীদের কতজনের ডিভাইসে ভিপিএন পাওয়া গেছে এবং তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখতেন? এই তথ্যটি পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ করা শুরু হলে এ প্রযুক্তি ও শিশু ধর্ষণের সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নীতিনির্ধারকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিশু শোষণের ডিজিটাল সুড়ঙ্গ
ইউনিসেফ এবং ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা সিএসএএম বিতরণের ক্ষেত্রে ভিপিএন একটি প্রধান হাতিয়ার। অপরাধীরা তাদের অবস্থান ও পরিচয় আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে শিশু পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদান করে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেপ্তার হওয়া শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের একটি বড় অংশের ডিভাইসে ভিপিএন সফটওয়্যার পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিপদটি আরও গভীর। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ইন্টারনেটের দাম কমছে, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার অবকাঠামো সেই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে না। ফলে ভিপিএনের আড়ালে পরিচালিত শিশু শোষণের ঘটনাগুলো তদন্ত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের এখনও অপ্রতুল। অপরাধী জানে সে ধরা পড়বে না; এই দায়মুক্তির নিশ্চয়তাই তাকে বারবার অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
সামাজিক অবক্ষয়ের নীরব জোয়ার
ভিপিএনের সাহায্যে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে প্রবেশ এখন অত্যন্ত সহজ। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ব্যবহারকারীরা নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এবং সামাজিক সম্পর্কের জন্য ধ্বংসাত্মক কনটেন্টে ডুবে যাচ্ছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই কনটেন্টের সংস্পর্শ তাদের যৌন মনোভাব, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব সম্পর্কের ধারণাকে মারাত্মকভাবে বিকৃত করে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কিশোর যখন বাস্তব জীবনে তার কল্পনার প্রতিফলন খোঁজে, তখন সে প্রতিরোধের মুখে পড়লে সহিংস হয়ে ওঠে। এই মনস্তাত্ত্বিক পথটিই বহু ক্ষেত্রে ধর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। তাই ভিপিএনসুলভ পর্নোগ্রাফি এবং শিশু ধর্ষণের মহামারির মধ্যে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী সুতো টানা আছে যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এখনই উপলব্ধি করতে হবে।
সাইবার অপরাধের নিরাপদ বর্ম
ডিজিটাল প্রতারণা, পরিচয় চুরি, র্যানসমওয়্যার আক্রমণ, হ্যাকিং; এই অপরাধগুলোর তদন্তে বিশ্বের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যে বাধার মুখে পড়ে তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভিপিএন। অপরাধী যখন একটি দেশের ভিপিএন সার্ভারের আড়াল থেকে অন্য দেশে হামলা চালায়, তখন তদন্তকারীরা আসল অপরাধীর কাছে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ ভিপিএন সার্ভার লগ রাখে না বা রাখলেও তা ভিন্ন দেশের এখতিয়ারে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ই-কমার্স প্রতারণা; এসব অপরাধের একটি বড় অংশে ভিপিএন ব্যবহার করে অপরাধীরা পরিচয় আড়াল করে। ভুক্তভোগীরা বিচার পান না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি সমাজে অপরাধের প্রবণতাকে উৎসাহিত করে।
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদ যখন কোনো কনটেন্ট নিষিদ্ধ করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে সামাজিক ঐকমত্য ও আইনি কর্তৃত্ব। ভিপিএন সেই কর্তৃত্বকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়। এটি কেবল আইন অমান্য নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রযুক্তিগত বিদ্রোহ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই যেখানে যার প্রযুক্তিগত সামর্থ্য আছে সে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে?
বিশ্বের বেশ কিছু দেশ, যেমন- চীন, রাশিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিপিএন ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো স্বৈরাচারী প্রবৃত্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র আসলে কতটুকু সার্বভৌম? বিশেষত যখন সেই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক শিশুদের ক্ষতি করছে, তখন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আর রাজনৈতিক থাকে না, এটি হয়ে ওঠে নৈতিক দায়িত্ব।
যাচাইয়ের অধিকার : রাষ্ট্রের ন্যায্য দাবি
বিপুলসংখ্যক ভিপিএন ব্যবহারকারী আসলে কী উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন? প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি হয়, রাস্তায় যানবাহন চেকিং হয়, ব্যাংকে লেনদেন যাচাই হয়; এগুলো কি ব্যক্তির অধিকারের লঙ্ঘন? না, কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একটি ন্যূনতম স্বচ্ছতা প্রয়োজন। ডিজিটাল জগতে সেই স্বচ্ছতার দাবি করা কি অন্যায্য? বিশেষত যখন সেই অস্বচ্ছতার আড়ালে শিশু ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ ঘটছে?
ভিপিএন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা যায় ব্যবহারকারীর লগ সংরক্ষণ করতে এবং আইনি আদেশের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের কাছে তা সরবরাহ করতে। এটি গণনজরদারি নয়, এটি প্রচলিত টেলিযোগাযোগ আইনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ মাত্র। ফোন কোম্পানিগুলো যেমন আদালতের আদেশে কল রেকর্ড দেয়, ভিপিএন প্রতিষ্ঠানগুলোও তেমনি লগ সরবরাহ করতে বাধ্য হওয়া উচিত। একজন শিশু ধর্ষককে শনাক্ত করতে পারলে যদি কোনো ব্যক্তির ভিপিএন লগ দেখতে হয়, সেই মূল্য পরিশোধ করতে সভ্য সমাজের অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
সিদ্ধান্তের সময় : শিশুর জীবন না প্রযুক্তির স্বাধীনতা?
প্রযুক্তি নিরপেক্ষ, কিন্তু তার ব্যবহার নিরপেক্ষ নয়। ভিপিএন একটি হাতিয়ার। সেই হাতিয়ার কারও হাতে সাংবাদিকতার ঢাল, কারও হাতে শিশু শোষণের অস্ত্র; দুটোই সত্য। কিন্তু যখন সেই অস্ত্রের আঘাতে একটি শিশুর শৈশব চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যখন একজন ধর্ষক ভিপিএনের আড়ালে নিশ্চিন্তে পরবর্তী শিকার খুঁজছে, তখন ‘প্রযুক্তির স্বাধীনতা’ কথাটি ব্যবহার করতে বিবেক বাধা দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে আজ শিশু ধর্ষণ মহামারির যে রূপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়তে হলে কেবল আইনি সংস্কার বা সামাজিক সচেতনতা যথেষ্ট নয়। ডিজিটাল পরিবেশকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভিপিএনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কনটেন্টে প্রবেশ রুদ্ধ করা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়া এবং ভিপিএন সেবাদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা; এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার সময় এখনই।
অন্ধকারের দরজা খোলা রাখা কখনও সভ্যতার লক্ষণ নয়। বিশেষত যখন সেই দরজা দিয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢুকছে। একটি জাতির সভ্যতার পরিমাপ হয় তার সবচেয়ে দুর্বল সদস্যদের সে কতটুকু রক্ষা করতে পারছে তার মানদণ্ডে। আমাদের শিশুরা রক্ষা পাচ্ছে না- এই ব্যর্থতার একটি বড় অংশের দায় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণহীনতার, ভিপিএনের অপব্যবহারের এবং আমাদের সম্মিলিত নিষ্ক্রিয়তার।
লেখক : গবেষক ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষক, গণতন্ত্র (সীমান্তহীন) প্যারিস, ফ্রান্স