

বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ১২২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বুথফেরত জরিপ দিতে শুরু করেছে। এতে দেখা যায় যে, বিজেপি ও জেডিইউর ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট ফের বড় ব্যবধানে জিততে যাচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
খবরে বলা হয়েছে, দৈনিক ভাস্করের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে এনডিএ ১৪৫ থেকে ১৬০টি, কংগ্রেস ও আরজেডির জোট এমবিবি ৭৩ থেকে ৯১টি, জেএসপি ০ থেকে ৩টি ও অন্যরা ৫ থেকে ৭টি আসন পেতে যাচ্ছে।
এ ছাড়া জেভিসি, ম্যাট্রিজ, পি-মার্ক, পিপলস ইনসাইট ও পিপলস পালসের বুথফেরত জরিপেও দলগুলোর কাছাকাছি আসন পেতে যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে। তবে ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিতে আসা প্রশান্ত কিশোরের দল তেমন ভালো করতে পারিনি বলে জরিপগুলোতে উঠেছে।
এ দফায় মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। ভোট গণনা হবে আগামী ১৪ নভেম্বর।
বিরোধী দলগুলোর জোট মহাগাঠবন্ধন বা মহাজোটে ভাঙনের খবর ছড়ালেও বিকাশশীল ইনসান পার্টির প্রধান ও উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মুকেশ সাহানি সে খবর পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। এই পর্বকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) ছোট অংশীদারদের জন্য শক্তি পরীক্ষার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিতন রাম মাঞ্জির নেতৃত্বাধীন হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা ও রাজ্যসভার সদস্য উপেন্দ্র কুশওয়াহার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা—দুটি দলই ছয়টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের মন্ত্রিসভার নয় মন্ত্রী এই পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদিন যেসব জেলায় ভোট হয়, তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, সীতামারহি, মধুবনী, সুপৌল, আরারিয়া ও কিষাণগঞ্জ। এসব জেলার সীমানা নেপালের সঙ্গে যুক্ত। এই ভোটপর্বে সীমাঞ্চল অঞ্চলের বহু জেলা অন্তর্ভুক্ত। এখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বেশি, ফলে এ পর্বটি সরকার ও বিরোধী—দুই জোটের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে নজরকাড়া আসনের মধ্যে একটি হলো ভাগলপুর জেলার কাহালগাঁও। এখানে চারদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। মহাগাঠবন্ধনের শরিক আরজেডি ও কংগ্রেসের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ দেখা যাবে। এর আগে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে ৬৫ শতাংশের বেশি ভোটার অংশ নিয়েছিলেন, যা রেকর্ড পরিমাণ ভোটার উপস্থিতি।