চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের মাইকিং

পাহাড় ধসের শঙ্কায় চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের মাইকিং। ছবি : কালবেলা
পাহাড় ধসের শঙ্কায় চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের মাইকিং। ছবি : কালবেলা

নিম্নচাপের প্রভাবে দুদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। সেইসঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে নগরের সবকটি আশ্রয়কেন্দ্র। পাহাড়ের আশপাশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান কালবেলাকে বলেন, ‘সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার এবং আমবাগানে ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।’

বৃষ্টিমুখর চট্টগ্রাম শহর। ছবি : কালবেলা

আবহাওয়ার এই বৈরী অবস্থায় আরও কয়েকদিন চলতে পারে। এ অবস্থায় রোববার রাত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। আজ সকালেও নগরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়। নগরের টাংকির পাহাড় এবং আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসামিত গৃহ নির্মাণ, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় ও আশেপাশে মাইকিং করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা কালবেলাকে বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার রাত থেকেই চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ছয়জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মাইকিং থেকে শুরু করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।’

বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা কালবেলাকে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ মতিঝর্ণা সংলগ্ন পাহাড়ে মাইকিং করা হয়েছে। বাকলিয়া এলাকায় দুপুর থেকে মাইকিং করা হয়েছে নদীর পাড়ের লোকজন যেন সতর্ক থাকে এবং যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।’

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, ‘লালখান বাজার পোড়া কলোনি বস্তি এলাকা, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়াও উত্তর হালিশহর সংলগ্ন সমুদ্রপাড়ের কাছে বসবাসকারী মানুষজনকে বাসস্থান খালি করতে মাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

টানা বৃষ্টির কারণে ছন্দপতন ঘটেছে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনে। বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রাস্তায় বের হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। সড়কে গাড়ি চলাচল কম থাকায় যানজট তেমন কোথাও দেখা যায়নি। তাছাড়া নগরের নিম্নাঞ্চলে এবার জলাবদ্ধতা তৈরি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা রাতভর জলজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে পানি নেমে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছেন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রবিবার রাতেই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি, খাল-নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। চসিকের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বজায় ছিল।

পরিদর্শনকালে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত রাখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার এবং পানি প্রবাহ সচল রাখার ফলে সারাদিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। এ অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। নগরবাসীর সহযোগিতাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে যাতে পানি না উঠে প্রকল্প এলাকায় সেজন্য ঢাকা থেকে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিনকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা এবং ঘুরে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নিম্নঅঞ্চলগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি চলাচল তদারকি করেন।

এদিকে আগামী সাত দিন দেশের চট্টগ্রামসহ, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং এসব অঞ্চলের উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনে পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এসব জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা হতে পারেও বলে সতর্ক করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে থাইল্যান্ডের হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

আমি অনেক দিন ধরেই ইরানের হিটলিস্টে আছি: ট্রাম্প

ঢামেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করলেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির 

তিস্তার পানি কমলেও কচুরিপানায় ভরে গেছে ফসলি জমি

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ, পাবেন বিভিন্ন সুবিধা

কেইন বনাম হালান্ড, কাকে সেরা বললেন ইংলিশ অধিনায়ক?

বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার অবস্থান কত

বন্যা, ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে ইসলামের নির্দেশনা

‘কখনো হাল না ছাড়া’ দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে মানুষ মনে রাখুক: স্কালোনি

১০

এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার ব্ল্যাকআউটে কিউবা

১১

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, ভবিষ্যদ্বাণী দিল সুপার কম্পিউটার

১২

‘বৈষম্যহীন দেশের জন্য এত রক্ত দেওয়ার পরও চাঁদাবাজি-দখলবাজি শুরু হয়েছে’

১৩

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

১৪

বদলে যাচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চিত্র / ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ট্রাম্পের অনুমতি

১৫

টানা বৃষ্টিতে পানের বরজে ধস, স্বপ্নভঙ্গ চাষিদের 

১৬

বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম কাদের

১৭

কোরআনের যে ৪০ আয়াত প্রতিটি মুসলিমের মুখস্থ থাকা উচিত

১৮

সন্তানকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ, জীবিত উদ্ধার মা-শিশু

১৯

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টায় দুই দফা ভূমিকম্প

২০
X