

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর মতো অবস্থানে নেই বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা মোকাবিলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলার পথে যাচ্ছে না।
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক শক্তি পাঠিয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘বিশাল ও সুন্দর নৌবহর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই সামরিক উপস্থিতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করানো।
তবে এত বড় প্রস্তুতির পরও ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা তাৎক্ষণিকভাবে হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র আগে নিশ্চিত হতে চায় যে ইসরায়েল, তাদের আরব মিত্র দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা যথেষ্ট সুরক্ষিত আছে কি না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড ও প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতারসহ বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাঠাচ্ছে। এসব ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অবস্থান করছেন।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর, তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েলে হামলা করে এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে ইরান আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত ছিল।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হামলা চালায়, তাহলে তার প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘তারা যদি এবার যুদ্ধ শুরু করে, তবে সেটি হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।’
খামেনির এ বক্তব্যের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই তিনি এমন কথা বলবেন।’ তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। যদি না পারি, তাহলে দেখা যাবে তিনি ঠিক ছিলেন কি না।’