

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। সেই বলটি জাদুঘরে রাখার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক হয়নি। পেনাল্টি মিস না করলে হতে পারত। তবে রেকর্ড হয়েছে। এমন এক রেকর্ড যা ইতিহাসে বহু বছর স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ম্যাচে প্রথম গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে গেছেন। পরে আরও একটি গোল করেছেন মেসি। আর্জেন্টিনা জিতেছে ২-০ তে। বিশ্বকাপে মেসির গোল এখন ১৮। আর ক্লোসার ১৬টি। যে বলে বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি, সেটিও জাদুঘরে ঠাঁই পাবে হয়তো।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা যে মেসিময় হতে যাচ্ছে, তা শুরুতে বোঝা যায়নি। শুরুতেই পেনাল্টি মিস করলেন। মানে ভাগ্য সঙ্গে নেই। কিন্তু ইতিহাসের বিরলতম প্রতিভাকে তো কেবল ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলে না। হয়তো তাই দুটি অনিন্দ্যসুন্দর গোলে বুঝিয়ে দিলেন বিশ্বকাপে এবারও তিনিই মধ্যমণি। বাকিরা পার্শ্বচরিত্র। ম্যাচের ৮ মিনিটে মার্টিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করেন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ। ভিএআরের রায়ে রেফারি পেনাল্টি দেন। মেসি স্পট কিক পোস্টের বাইরে মারেন। এটা তার এই বিশ্বকাপে প্রথম পেনাল্টি মিস। গতকাল পেনাল্টি মিসের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পরিসংখ্যানবিদ জানাচ্ছেন, মেসির ক্যারিয়ারে এটি ৩৩তম পেনাল্টি মিস। টাইব্রেকার বাদে এ পর্যন্ত মোট ১৪৯টি পেনাল্টি শট নিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসও করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে এতদিন ঘানার আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি একার দখলে নিলেন তিনি। পরে অবশ্য আক্ষেপের রেকর্ড পেছনে ফেলে বর্ণিল ইতিহাস গড়েছেন। ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। এর পর মেসির বাঁ পায়ের শট অস্ট্রিয়ার জাল খুঁজে নেয়। এটিই তার রেকর্ড গড়া গোল। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৮টি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি পেছনে ফেলেছেন। তা ছাড়া বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮ বিশ্বকাপ) এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোকে (১৯৭০ বিশ্বকাপ) ছুঁয়েছেন। হতেই পারে পরের ম্যাচে দুই কিংবদন্তিকে ছাড়িয়েও যাবেন। যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। প্রথমে আলভারেজের শট অস্ট্রিয়া ডিফেন্ডারের গায়ে লাগে। ফিরতি বল পেয়েছিলেন মেসি। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন। সেটি ঠেকান আরেক ডিফেন্ডার। এবার ফিরতি বলে মেসির শট গোলে যায়। ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে মেসির দল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। তৃতীয় জর্ডান ও চতুর্থ আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।