

ইউনিসেফের ফটোশুটে ছয় মাস বয়সী লামিনে ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছিলেন লিওনেল মেসি। সেদিন কেউ জানত না, একদিন তারা বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সির পূর্বসূরি-উত্তরসূরি হবেন। ছোট্ট সেই শিশু বড় হয়েছে, উল্টে দিতে শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের পুরোনো হিসাব।
২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল বার্সেলোনার হয়ে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে মাঠে নামা। ওটা ছিল শতাব্দী-পুরোনো (আর্মান্দ মার্তিনেজ সাগির) রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার দিন। সূচনা হয়েছিল বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে। তারপর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপে শুধু পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লেখার অদ্ভুত এক যাত্রা।
সেই মৌসুমেই আসে লা লিগায় অভিষেক গোল। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর, গ্রানাদার বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের ম্যাচে। বয়স তখন ১৬ বছর ৮৭ দিন। একই মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পোর্তোর বিপক্ষে ১৬ বছর ৮৩ দিন বয়সে ম্যাচ শুরু করে নাম তুললেন ইতিহাসের পাতায়। অক্টোবরেই আবার এল ক্ল্যাসিকো—১৬ বছর ১৫৩ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনার মঞ্চে পা রাখলেন। আর নভেম্বরে রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের বিপক্ষে ১৬ বছর ১৫৩ দিনে হলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়।
ইয়ামালের জন্য রেকর্ড মানে শুধু একটি মাইলফলক নয়, এটা যেন বাতাসে শ্বাস নেওয়ার মতোই স্বাভাবিক। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রানাদার বিপক্ষে লা লিগায় সর্বকনিষ্ঠ জোড়া গোল করার রেকর্ড হলো ১৬ বছর ২১৩ দিন বয়সে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে হানসি ফ্লিকের অধীনে তিনি হয়ে উঠলেন সত্যিকারের নেতা—৫৫ ম্যাচে ১৮ গোল ও ২১ অ্যাসিস্ট। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে নিজের শততম ম্যাচে গোল করলেন। বয়স ছিল ১৭ বছর ২৯১ দিন, বনে গেলেন বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ শত ম্যাচ খেলা ফুটবলার এবং গোলদাতা।
২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার বিপক্ষে স্পেনের হয়ে অভিষেক। ১৬ বছর ৫৭ দিন বয়সে স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিনিধি। আর সেই ম্যাচেই গোল, ৭-১ ব্যবধানের জয়ে—স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। রেকর্ড দুটো ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ গাভির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেন একই রাতে। তারপর এল ইউরো ২০২৪। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেন ১৬ বছর ৩৩৮ দিনে—ইউরো ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২১তম মিনিটে পায়ের বাইরে থেকে মাইক মাইনিয়ানকে ফাঁকি দিয়ে গোলে ঢুকল একটা বাঁকানো শট। বয়স তখন ১৬ বছর ৩৬২ দিন। ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে—জন্মদিনের পরদিন, মাত্র ১৭ বছর ১ দিনে বয়সে হলেন সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, যিনি ইউরো বা বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন, টপকে যান পেলের রেকর্ড।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি সারিয়ে কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন, স্পেন গোল করতে পারল না। তারপর সৌদি আরবের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পেয়ে ১০তম মিনিটে করলেন গোল। বিশ্বকাপে ১৮ বছর বা তার কম বয়সে দলের প্রথম গোল করার দিক থেকে ইয়ামাল হলেন ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। ওপরে আছেন শুধু কিংবদন্তি পেলে। বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা তালিকার সপ্তম স্থানে ছিলেন মেসি, ইয়ামাল তাকে সরিয়ে নিজে সপ্তমে বসলেন। পেলে, মেসি, ইয়ামাল—যেখানে এক রেখায় মিলছে।