

৩৪৪ কোটি টাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২ নামের বিতর্কিত একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উঠছে আজ মঙ্গলবার। শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
আজ সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বর্তমান সরকারের চতুর্থ একনেক সভায় বিবেচ্য বিষয়ের তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছে শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পটি। একনেক তালিকায় প্রকল্পটিকে নতুন বলা হলেও এ প্রকল্পটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বিতর্কিত ও পুরোনো। শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা সম্প্রসারণের আড়ালে প্রকল্প ঘিরে সরকারি অর্থ লোপাটের পরিকল্পনা রয়েছে বলে হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ নিয়ে গত ২৩ মে দৈনিক কালবেলায় ‘অনিয়মে কাবু শিশু হাসপাতাল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রকল্পটি ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সি-ব্লক ভবনের ওপর ভিত্তি করেই নতুন এই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও হাসপাতালের পূর্ববর্তী প্রশাসন প্রকল্পটি বাতিল করেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিশু হাসপাতালের পুরোনো সেই চক্রটি ফের নতুন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদনের পাঁয়তারা করছে। প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন হলে সরকারি শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণের নামে ৩৪৪ কোটি টাকার বড় অংশই হরিলুট হবে।
সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ভবন থেকে সীমিত সংখ্যক শয্যা বৃদ্ধি পেলেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়ে। প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটার নামে হরিলুটের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভবনের অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে পার্কিংয়ের প্রবেশপথ এতটাই সংকুচিত যে, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রকল্পটি জনস্বার্থে কতটা কার্যকর, নাকি এটি সরকারি অর্থ অপচয়ের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করছে—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৩ মে কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মেগা প্রকল্পের পেছনে অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করছেন নেসার উদ্দিন নামে এক কর্মকর্তা, যার মূল পদ ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডেভেলপমেন্ট)’, তবে সদ্য বিদায়ী পরিচালককে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাকে ‘ডেপুটি ডিরেক্টরের (ফাইন্যান্স)’ মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেন। বর্তমানে হাসপাতালের সব আর্থিক খাতে নেসার উদ্দিন তার নিজস্ব লোক বসিয়ে একটি শক্তিশালী আর্থিক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন।