তারাবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

মালকা বানুর দেশেরে বিয়ার বাদ্য আল্লাহ বাজে রে

মালকা বানুর দেশেরে বিয়ার বাদ্য আল্লাহ বাজে রে। ছবি : সংগৃহীত
মালকা বানুর দেশেরে বিয়ার বাদ্য আল্লাহ বাজে রে। ছবি : সংগৃহীত

সময়টা ১৯৭৪ সাল। ক্যালেন্ডারের পাতায় তখন ১৫ নভেম্বর। পরিচালক ফয়েজ চৌধুরীর হাত ধরে রুপালি পর্দায় মুক্তি পেল সিনেমা ‘মালকা বানু’। আর সেই সঙ্গেই বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে গেল এক অমর প্রেমকাহিনি।

পর্দার গল্পে দেখা গেল সওদাগর আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর ভরা সংসার—এক কন্যা আর সাত পুত্র। একদিন দাপুটে মনু মিয়া পাইক-পেয়াদা আর লস্কর নিয়ে হাজির হলেন বাঁশখালীর সরল গ্রামে। দীর্ঘ পথচলায় ক্লান্ত মনু মিয়া বিশ্রাম নিলেন সওদাগরের বাড়িতে। আর ঠিক সেই অলস দুপুরে, ক্লান্ত চোখের সামনে ভেসে উঠল এক মায়াবী মুখ।

কাজির মক্তবে তখন পাঠরতা সওদাগর দুহিতা, অনিন্দ্য সুন্দরী মালকা বানু। সেই মক্তবেই চার চোখের প্রথম মিলন। দৃষ্টির সেই বিনিময় থেকেই মনু মিয়ার হৃদয়ে গেঁথে গেল মালকা বানুর ছবি। শুরু হলো প্রেম। সিনেমার পর্দায় সেই লাজুক মালকা বানু ছিলেন আমাদের জীবন্ত কিংবদন্তি শাবানা। আর তার প্রেমিক মনু মিয়া হয়ে পর্দা কাঁপিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত ‘রাজপুত্র’ ইলিয়াস জাভেদ।

সিনেমায় নানা ঘটনা-অঘটনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে মালকা বানুকে বধূবরণ করে রাজপ্রাসাদে ফেরেন মনু মিয়া। আর সেই আনন্দঘন মুহূর্তে বেজে ওঠে সেই কালজয়ী সুর—‘মালকা বানুর দেশেরে বিয়ার বাদ্য আল্লাহ বাজে রে, মনু মিয়ার দেশেরে বিয়ার বাদ্য আল্লাহ বাজে রে...’

সত্তর-আশির দশক পেরিয়ে আজ ২০২৬ সাল। ক্যালেন্ডার বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু মানুষের মুখে মুখে ফেরা এই গানের আবেদন ফুরোয়নি এতটুকুও। সাদা-কালো পর্দার সেই তুমুল জনপ্রিয়তাই একসময় দাবি তুলল রঙিন সংস্করণের। ১৯৯১ সালে কামরুজ্জামানের পরিচালনায় এলো ‘রঙিন মালকা বানু’। এবারের জুটিতে ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পা। ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করল, সেই ছবিও হলো সুপারহিট।

তবে সিনেমার এই জাঁকজমক, জাভেদ-শাবানার রসায়ন আর গানের সুরের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক রক্তমাংসের সত্য কাহিনি। মালকা বানু ও মনু মিয়া কেবল লোককাহিনি বা সিনেমার চরিত্র নন, তারা ছিলেন এই বাংলারই মানুষ।

জাভেদ-শাবানার কল্যাণে যে গল্প মানুষ পর্দায় দেখেছে, তার শেকড় গভীরে প্রোথিত আছে চট্টগ্রামের মাটিতে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা গ্রামে আজও কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মনু মিয়ার নির্মিত মসজিদ। ওদিকে বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নে মিলবে মালকা বানুর স্মৃতিচিহ্ন—তার নামেই রয়েছে মসজিদ আর বিশাল দিঘি।

ইতিহাস আর জনশ্রুতি ঘেঁটে জানা যায়, পর্দার রোমান্সের চেয়ে বাস্তব জীবন ছিল কিছুটা ভিন্ন। মনু মিয়ার প্রথম স্ত্রী খোরসা বানুর কোনো সন্তান ছিল না। আর তাই মালকা বানু ছিলেন মনু মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। সিনেমার ফ্যান্টাসি আর বাস্তবের ইতিহাস মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে এই দুটি নামে, যা আজও আমাদের স্মৃতিকাতর করে তোলে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ, জবাব দিল আজারবাইজান

৬০০ ফুট পতাকা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা

বিয়ের পর জীবনসঙ্গী নিয়ে দীপ্তি চৌধুরীর ফেসবুক পোস্ট

পদ্মায় বাস ডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

আইইউবিএটির সামার ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন

বজ্রপাতে বাবা-মেয়ের মৃত্যু

‘ভাগ্য সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম’, ভারতে আসছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছে বসুন্ধরা ট্রেনিং সেন্টার

খাল নিয়ে আ.লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ

১০

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা ও বিশেষ ছাড় ঘোষণা চিকিৎসকের

১১

ইসরায়েলি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে আল-আকসায় জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল

১২

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জাতীয় দলে ফিরছেন সালাউদ্দিন

১৩

ঈশ্বরদীর লিচুর জন্য হিমাগার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

১৪

কেন্দ্রীয় যুবদলকে স্বাগত জানিয়ে সাতক্ষীরায় জেলা যুবদলের র‍্যালি

১৫

চলতি মাসেই ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন দীনেশ ত্রিবেদী

১৬

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ / সবুজ পরিবেশ, নিরাপদ কৃষি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের প্রত্যাশা

১৭

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, ৫ দিনের রিমান্ডে দুই আসামি

১৮

বাংলাদেশে ১৫ বছর পর ওয়ানডে খেলতে এলো অস্ট্রেলিয়া

১৯

সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার

২০
X