

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও স্পেনে বিদ্যুৎ বিল কমেছে। দেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ এখন এর সুফল দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর থেকে স্পেনের প্রতিটি পরিবার গড়ে মাসে প্রায় ১০ ইউরো করে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করেছে। এর মূল কারণ হলো সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের ব্যাপক ব্যবহার করছে তারা।
স্পেনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২১ সালে যেখানে বিদ্যুতের দামে গ্যাসের প্রভাব ছিল ৫২ শতাংশ, ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৯ শতাংশে। এ সময়ে দেশটিতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে বিশ্ব অস্থিরতার মধ্যেও স্পেনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুরক্ষা ঢাল হিসেবে কাজ করছে। গ্যাসের দাম বাড়লেও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে স্পেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বড় অগ্রগতি করেছে। ২০১৯ সালের পর দেশটি তাদের সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করেছে।
বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় স্পেনে বিদ্যুতের দাম অনেক কম। উদাহরণ হিসেবে, চলতি বছরের মার্চে ইতালিতে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ছিল ১৪৩ ইউরো, যেখানে স্পেনে ছিল মাত্র ৪২ ইউরো।
এদিকে জ্বালানি খাতে জনগণকে স্বস্তি দিতে স্পেন সরকার ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বিদ্যুতের ওপর সাময়িক কর কমিয়েছে। এর ফলে প্রতিটি পরিবার মাসে গড়ে আরও ৮ ইউরো সাশ্রয় করেছে।
তবে ২০২৫ সালের বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে এগিয়ে চলেছে স্পেন। সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করতে ব্যাটারি সংরক্ষণ সুবিধা ও নতুন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
সূত্র: ইউরোনিউজ