

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং বাসের রুট, স্টপেজ ও ভাড়ার তথ্য সহজলভ্য করতে ‘প্যাসেঞ্জার’ (Passenger) নামে নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ‘ম্যাংগো’-এর আওতায় তৈরি এই অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা রাজধানীর বিভিন্ন বাসের রুট, নির্ধারিত স্টপেজ এবং বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার তথ্য সহজেই জানতে পারবেন।
উদ্যোক্তা জানান, রাজধানীতে প্রতিদিন লাখো মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করলেও সঠিক তথ্যের অভাবে যাত্রীদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোন বাস কোথায় যাবে, কোন স্টপেজে থামবে কিংবা নির্ধারিত ভাড়া কত- এসব তথ্য সহজে না পাওয়ায় যাত্রী এবং বাসকর্মীর সঙ্গে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা দূর করতেই ‘প্যাসেঞ্জার’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে।
‘ম্যাংগো’র প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সালেহ সাজ্জাদের একক প্রচেষ্টায় নির্মিত অ্যাপটি এরই মধ্যে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড প্লেস্টোরে উন্মুক্ত হয়েছে। ‘Man’ (মানুষ) এবং ‘Go’ (যাওয়া)– এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে ‘ম্যাংগো’ নামকরণ করা হয়েছে।
‘ম্যাংগো’র মূল লক্ষ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের যাতায়াতকে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা। বর্তমানে অ্যাপটির প্রাথমিক সংস্করণে ঢাকার বিভিন্ন বাসের নাম, রুট, নির্ধারিত স্টপেজ এবং বিআরটিএ-এর তালিকা অনুযায়ী ভাড়ার তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি– উভয় ভাষায় ব্যবহারযোগ্য এই অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা গন্তব্য অনুযায়ী উপযুক্ত বাস খুঁজে পাবেন, বাস কোথায় কোথায় থামবে তা আগেই জানতে পারবেন। ফলে নির্ধারিত ভাড়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ায় বাসকর্মীদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কও এড়ানো সম্ভব হবে।
উদ্যোক্তা সালেহ সাজ্জাদ কালবেলাকে বলেন, ‘সঠিক তথ্য মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। ‘ম্যাংগো’ প্রকল্প এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যাত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গণপরিবহন ব্যবহার করবে, বাসচালক ও সহকারী ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে, মালিক বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফলন পাবে এবং সর্বোপরি ঢাকা পাবে একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা।’
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে অ্যাপটিতে রিয়েল-টাইম বাস লোকেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা এবং ডিজিটাল টিকেটিং সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সালেহ সাজ্জাদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান, ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, দাতা সংস্থার সম্পৃক্ততা নিয়ে ম্যাংগো আগামীর সুশৃঙ্খল, আধুনিক, নিরাপদ, আরামদায়ক, বাধাহীন অগ্রযাত্রা বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।’
অ্যাপটির সহজবোধ্য ফিচার, প্রোগ্রাম ও কার্যকারিতার জন্য এখন পর্যন্ত যেসব ব্যবহারকারী অ্যাপটি ডাউনলোড করেছেন, তারা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
এই অ্যাপটির নির্মাণ শুরুর পূর্বে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে ঢাকা শহরের গণপরিবহন সেবাকে সুশৃঙ্খল ও ডিজিটালাইজড করা সম্ভব, তা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। কনসেপ্টটির স্বাতন্ত্রিকতার জন্য এর কপিরাইট সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সালেহ সাজ্জাদ বলেন, ‘জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে গত ২৮ জুন একটি পত্র প্রেরণ করেছেন।’
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তা।