

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে মাত্র ৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। হাইস্কোরিং ম্যাচে দুই দলই লড়েছে দুর্দান্তভাবে। তবে শেষ পর্যন্ত জেতা হয়নি টাইগারদের। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো অস্ট্রেলিয়া।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিসের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় অজিরা। ৬ বলে ১১ রান করা ইংলিসকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। তিনে নামা কুপার কনোলি সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করা কনোলিকে ফেরান নাহিদ রানা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলেন ১৯ বলে ২০ রানের ইনিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।
পাওয়ারপ্লের পর টাইগার বোলারদের উপর চড়াও হন অজি ব্যাটাররা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়েছেন ম্যাট রেনশ এবং টিম ডেভিড। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন রেনশ এবং ডেভিড। আগ্রাসি ব্যাটিংয়ে রান বাড়িয়েছেন দুজন। দলের ১৪১ রানের মাথাতে ২৬ বলে ৪৫ রান করে থামেন ডেভিড। রেনশ অবশ্য ফিফটি ছুঁয়েছেন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন রেনশ। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরী খেলেছেন ৬ বলে ৮ রানের ইনিংস। রেনশর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ফিফটির পরেও চলেছে। বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন রেনশ। অজিরাও ছুটেছে দুইশ রানের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুইশর খুব কাছে গিয়ে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫২ বলে ৮৯ রান করে টিকে ছিলেন রেনশ। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা।
বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা এবং মুস্তাফিজুর রহমান।
জবাব দিতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। আরেক ওপেনার সাইফ হাসানও ছিলেন দারুণ সাবলীল। ৩ ওভারেই ৪২ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ, বিনা উইকেটে। ৪র্থ ওভারেই থেমেছে তানজিদের উইলোবাজি। ১৫ বলে ৩০ রানের ক্যামিও খেলা তানজিদকে ফেরান ম্যাট রেনশ।
পাওয়ারপ্লের ফায়দাটা সুদে আসলে লুটেছে বাংলাদেশ। তিনে নেমে সাইফ হাসানের সাথে যোগ দেন সৌম্য সরকার। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান তোলে বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লের রান।
সৌম্য থেমেছেন পাওয়ারপ্লে শেষেই। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। ৯ বলে ১৫ রান করে দলের ৭৭ রানের মাথাতে থামেন সৌম্য। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন সাইফ। চারে নেমে বেধড়ক পিটুনি শুরু করেন পারভেজ হোসেন ইমন। দারুণ সব শটে রান বের করেছেন ইমন। হাঁকিয়েছেন দারুণ সব বাউন্ডারি। সাইফও ছুটেছেন ফিফটির দিকে।
সাইফ-ইমনের জুটিটা ভালোই এগোচ্ছিল। তবে টানা দুই ওভারে দুজনের বিদায়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কমে যায় দলের রানের গতি। ৩ ছক্কা ২ চারে ২২ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন ইমন। দলের ১৩৪ রানের মাথাতে থামেন সাইফ হাসান, ৩৩ বলে করেছেন ৪২ রান।
সুবিধা করতে পারেননি শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ৮ বলে ৭ রান করেছেন তিনি। পাঁচে নামা অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও কিছুটা সংগ্রাম করেছেন। সাতে নামেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। দুজনে রান তুলেছেন ধীর গতিতে। বাউন্ডারি বের করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ১৮তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার বোলিং সামলে ৮ রান নেন হৃদয় এবং সাকলাইন। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৩৪ রান, হাতে ৫ উইকেট।
বোলিংয়ে আসেন নাথান এলিস, স্ট্রাইকে সাকলাইন। প্রথম দুই বল ডট, পরের বলে চার মারেন সাকলাইন। পরের বল আবার ডট। পরের বলে ১ রান নেন সাকলাইন। স্ট্রাইকে ফেরেন হৃদয়। শেষ বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ ওভারে দরকার ২৩ রান।
শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন অ্যারন হার্ডি, স্ট্রাইকে সাকলাইন। প্রথম বলে ওয়াইড, পরের বলে আসে ১ রান। স্ট্রাইকে ফেরেন হৃদয়। পরের বলে ডট, পরের বলে ২ রান। এরপর আবারও ওয়াইড। সমীকরণ চলে আসে ৩ বলে ১৮ রানে। পরে বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন হৃদয়। পরের বলে দারুণ এক শট খেলেন হৃদয়, তবুও হয়েছে কেবল চার। শেষ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৮ রান। তুলে মারলেন হৃদয়, ধরা পড়লেন একদম বাউন্ডারিতে। ৭ রানে জয়লাভ করে অস্ট্রেলিয়া, জিতে নেয় সিরিজটাও। ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে থেমেছে বাংলাদেশ। হৃদয় আউট হয়েছেন ২২ বলে ৩৫ রান করে। সাকলাইন টিকে ছিলেন ১১ বলে ১৩ রান করে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২ উইকেট নেন অ্যারন হার্ডি। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন জোয়েল ডেভিস, অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিস এবং ম্যাট রেনশ।