

এশিয়ার শীর্ষ ধনীদের একজন মুকেশ আম্বানি ঘোষণা দিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান জিও প্লাটফর্মস শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) হতে পারে।
শুক্রবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিস-এর বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার সভায় আম্বানি জানান, জিওর পরিচালনা পর্ষদ আইপিওর খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে।
ভারতের সবচেয়ে বড় টেলিকম অপারেটর জিওর গ্রাহকসংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পারে।
আম্বানি বলেন, জিওর তালিকাভুক্তি বিশ্বকে দেখাবে যে ভারত বৈশ্বিক মানের প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলতে সক্ষম।
২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা জিও স্বল্পমূল্যের মোবাইল ডেটা সেবার মাধ্যমে ভারতের টেলিকম খাতে বড় পরিবর্তন আনে। পরে প্রতিষ্ঠানটি ক্লাউড কম্পিউটিং, করপোরেট সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতেও সম্প্রসারিত হয়।
গত বছর জিও এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতী এয়ারটেল পৃথকভাবে চুক্তি করে ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট সেবা আনার উদ্যোগ নেয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জিও ও এনএসইর তালিকাভুক্তি ভারতের পুঁজিবাজারে নতুন গতি আনবে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আইপিও বাজারে দেখা দেওয়া মন্দাভাব কাটাতে সহায়তা করবে।
সম্প্রতি জিও টেলিকমের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। চলতি মাসে মেটা ঘোষণা দেয়, তারা গুজরাটে রিলায়েন্স নির্মাণাধীন এআই-সক্ষম ডেটা সেন্টারের সক্ষমতার একটি অংশ লিজ নেবে। ২০২০ সালে মেটা জিওতে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল।
বিনিয়োগ ব্যাংক জেফারিস গত বছর জিওর সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল। এ মূল্য প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান টেলিকম কোম্পানিগুলোর একটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে।
জিওর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি রিলায়েন্স গ্রুপের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। ২০০৬ সালে রিলায়েন্স পেট্রোলিয়ামের আইপিওর পর এটি হবে গ্রুপটির কোনো ব্যবসা ইউনিটের প্রথম বড় পাবলিক অফার।