

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশ দুটি পরমাণু সংকট নিয়ে আলোচনায় বসছে। আশা করা হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আগামীকাল শুক্রবার ওমানে এ বৈঠক করতে যাচ্ছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছেন একজন আঞ্চলিক কূটনীতিক। এমন সময় এ খবর প্রকাশ্যে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনী ধাওয়া করেছে। অন্যদিকে মার্কিন রণতরীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী।
ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চুক্তি না হলে সম্ভবত ‘খারাপ কিছু’ ঘটবে। এর মধ্য দিয়ে ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর ফলে পরস্পরের বিমান হামলার হুমকি তৈরি হয়েছে এবং বিস্তৃত যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, ইরান এরই মধ্যে জানিয়েছে যে তারা তাদের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না। এটিকে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি লাল রেখা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ন্যায্য ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে’ আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন।
আলোচনার বিষয়বস্তু, পরিধি, স্থান নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মধ্যে গত মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার জাহাজ আটকানোর চেষ্টা করেছে ইরানের নৌবাহিনী। কিন্তু জাহাজটি না থামায় এটিকে ধাওয়া দেয় ইরানি সেনারা। পরে যুদ্ধজাহাজের সহায়তায় জাহাজটি ‘পালিয়ে’ যেতে সমর্থ হয়।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটিকে দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের নৌবাহিনীর সশস্ত্র ছোট জাহাজ মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজকে আটকানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত জাহাজটি আটকাতে পারেনি তারা।
সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক ফার্ম ভ্যানগার্ড টেক তাদের ক্লায়েন্টদের কাছে এক মেসেজে জানিয়েছে, ৫০ ক্যালিবার মেশিনগান সমৃদ্ধ ইরানের ছয়টি ছোট জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী ট্যাংকারটির কাছে যায়। ওই সময় ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে।
ইরানি নৌসেনারা মার্কিন জাহাজটির নাবিককে ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশনা দেয় এবং জাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন না থেমে গতি আরও বাড়িয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ এসে ট্যাংকারটিকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায়।
এর আগে ইউকে ম্যারিটাইম ট্রেড অপারেশন্স এজেন্সি বলেছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে ওমানের ১৬ কিলোমিটার উত্তরে একটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আরব সাগরে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ড্রোনটি তাদের একটি বিমানবাহী রণতরীর দিকে ধেয়ে আসছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সুরক্ষার স্বার্থে ইরানি ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, রণতরী থেকে একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান ড্রোনটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন রণতরীর দিকে ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ এগিয়ে আসছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ড্রোনটি রণতরীর দিকে আসা অব্যাহত রাখায় সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। ভূপাতিত ড্রোনটি ‘শাহেদ-১৩৯’ মডেলের ছিল বলে শনাক্ত করেছে তারা।
এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম দেশটির একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা তাদের একটি ড্রোনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার আগ পর্যন্ত রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) কাছে সফলভাবে তথ্য পাঠাচ্ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তেহরান।