

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। লেবার পার্টির এ সরকার মাত্র ২৩ মাসের মতো টিকেছে। গতকাল সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া ভাষণে স্টারমার এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি পার্টি প্রধানের পদও ছাড়েন।
কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি দায়িত্ব পালন করে যাব এবং সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে আমার সব রকম চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
কয়েকদিন ধরে কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এরপর গতকালই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। এর আগের দিন রোববারও তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে লড়াই চালিয়ে যাবেন। নানা কেলেঙ্কারি, ভুল নীতি, উচ্চপদস্থদের পদত্যাগের বিপর্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও স্টারমার জানিয়েছিলেন যে দলের শীর্ষ পদে থাকবেন।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে ১০ বছরে সপ্তম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর জন্য পথ প্রশস্ত হয়েছে।
কেন পদত্যাগ করলেন স্টারমার: এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কয়েক মাস ধরে লেবার পার্টির ভেতর থেকেও তার ওপর চাপ বাড়ছিল। তার নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট হয়ে মধ্য-বামপন্থি দলটির আইনপ্রণেতারা চেয়েছিলেন তিনি যেন ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভূমিধস বিজয়ের পর স্টারমার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটির জনপ্রিয়তার আকস্মিক পতনের ফলেই এই অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির আইনপ্রণেতারা সেই ক্ষোভ প্রশমনে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
এরপর সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে উদীয়মান গ্রিন পার্টি ও রিফর্ম ইউকের কাছে ব্যাপক ভরাডুবির পর ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তারা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসন-বিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হচ্ছে। ওই নির্বাচনের পর লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। দলের নেতারা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আগামী নির্বাচনে তার নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
চাপের মুখে তার সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে জুন মাসের মাঝামাঝিতে শীর্ষ দুই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার পদত্যাগ তার সরকারের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। স্টারমারের পদত্যাগের অন্যতম কারণ এই জনপ্রিয়তা হ্রাস। জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছিল স্টারমার সরকারকে।
জীবনযাত্রার মান স্থবির ও বারবার ভুল পদক্ষেপের কারণে তার প্রধানমন্ত্রিত্বও হোঁচট খাচ্ছিল। এর মধ্যে তার অন্যতম খারাপ সিদ্ধান্ত ছিল কেলেঙ্কারিতে জড়িত সাবেক এমপি পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত করা। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসার পর ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে স্টারমার সরকারের ভারমূর্তি তলানিতে পৌঁছায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু হলেও তার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন স্টারমার। সমালোচনা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রশংসাও অর্জন করেছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় সমর্থন জোগাড় করা এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব প্রশমনের চেষ্টা।