

দিল্লিতে ব্রিকসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংস্থার চেয়ারম্যান ভারতের সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার দুদিনের এ ১৬তম সম্মেলন শেষ হয়। এদিন সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও শীর্ষ কূটনীতিকদের স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তিনি এ জোটকে একটি ‘বিশেষ কোয়ালিশন’ বলে উল্লেখ করেছেন। ডোভাল জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে গ্লোবাল সাউথের আওয়াজ তুলতে ব্রিকসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল বৈঠকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি নতুন সদস্য হিসেবে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকরা অংশ নেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে যোগ দেওয়া বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন ব্রাজিলের বহুপক্ষীয় রাজনৈতিকবিষয়ক সচিব কার্লোস মার্সিও বিকালহো কোজেনডে, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, দক্ষিণ আফ্রিকার মন্ত্রী খুম্বুদজো এনশাভেনি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির মহাসচিব আলি মহম্মদ হাম্মাদ আল শামসি, মিশরের স্টেট ইনফরমেশন সার্ভিসের প্রধান আলা ইউসেফ, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি ঘাদির নিজামিপুর, ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স কাউন্সিলের ভূঅর্থনীতির ডেপুটি ইয়ায়াত রুয়াত এবং ইথিওপিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিসের অ্যানালিসিস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মিলিয়ন লেমা তাদেসে।
বৈঠকের পর অংশগ্রহণকারী সব দেশের নিরাপত্তা প্রধানরা একসঙ্গে একটি গ্রুপ ফটোও তোলেন।
এর আগের দিন দিল্লিতে পৌঁছে ভারতের অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক। তারা সম্মেলনের প্রথম দিন অনুষ্ঠানের ফাঁকে ওই আলোচনা করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী’ বলে বর্ণনা করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন ও উভয় পক্ষই সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, আমাদের একে অন্যের মৌলিক স্বার্থকে সম্মান করতে হবে ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হবে। তিনি ভারত ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সংলাপব্যবস্থা পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা ও গণমাধ্যম খাতে পারস্পরিক বিনিময় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ওয়াং ই।