কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪, ০২:৫৩ এএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

১৪ দলের শরিকরা দায় নিতে নারাজ

আ.লীগকে দোষারোপ
১৪ দলের শরিকরা দায় নিতে নারাজ

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারে থাকা ১৪ দলীয় জোট দেশ শাসন করলেও এখন সব দায় দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন সংগঠন আওয়ামী লীগের ওপর চাপাচ্ছে শরিকরা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে খাদে পড়া দল আওয়ামী লীগের ওপর। জোটে না থাকার মতো সিদ্ধান্তের কথাও কোনো কোনো দল ভাবছে।

ছাত্রদের এই আন্দোলনে হতাহতের সংখ্যাকে ‘গণহত্যা’র সঙ্গে তুলনা করে বিচারের দাবি ওঠায় জোটপ্রধান শেখ হাসিনাকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ১৪ দলের শরিকদের আসামি করেও মামলা দায়ের হয়েছে। সরকারে থাকাকালীন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তীর যেমন আওয়ামী লীগের দিকে ছুটছে, তেমনি ১৪ দলের শরিকরাও দায় এড়াতে পারে না; কিন্তু ১৪ দলের শরিকরা পুরো দায় চাপিয়েছে আওয়ামী লীগের ওপর। জোট নেতাদের দাবি, ছাত্রদের মনোভাব বুঝতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ১৪ দলের পরামর্শও গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়নি। এমনকি যা করার একক সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ ও সভাপতি শেখ হাসিনা করেছেন। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তও আওয়ামী লীগ ও এর সভাপতি শেখ হাসিনার একক। ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেয় দলটি অর্থাৎ এক প্রকার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর জোটের শরিকরা এখন অতীত কার্যক্রমের আত্মমূল্যায়ন করছে, ভুলভ্রান্তি কী ছিল সে বিষয়েও আলোচনা করছে।

এ বিষয়ে সাম্যবাদী দলের সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া কালবেলাকে বলেন, যদি আওয়ামী লীগের কোনো দোষ থাকে তবে তো জোটের নেতারা সে বিষয়ে কথা বলবেনই। আমাদের তো গুরুত্ব কম ছিল; কিন্তু এই যে দুঃসময় এখন—তাদের নেতারা কোথায়? হাইব্রিড দিয়ে দল ভর্তি করেছিলেন, তারা এখন কোথায়? আমরা সার্বিক বিষয়ে মূল্যায়ন করছি।

ছাত্র আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশত্যাগ করেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর থেকে দলটির বেশিরভাগ নেতা আত্মগোপনে যান। কেউ দেশের বাইরে চলে যান, এমনকি ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন, ফোন রেখেছেন বন্ধ।

জোটের এক নেতা বলেন, এতদিন একসঙ্গে জোটে থেকে দেশ চালিয়েছেন, সরকারের মন্ত্রিত্ব উপভোগ করেছেন; এখন আওয়ামী লীগ যখন বিপদে, তারা কেন দায় অস্বীকার করছেন? দায় আওয়ামী লীগের থাকলে জোটের অংশীদার হিসেবে অবশ্যই ১৪ দলের শরিকদেরও নিতে হবে। একক দলের সিদ্ধান্তে সব হয়েছে দোষারোপ করলে তখন কেন প্রতিবাদ করেননি? যদি মতের মিল না থাকে, জোটের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়, তবে কেন তখন জোট ত্যাগ করেননি?

জানা যায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জোটের নেতারা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দোষারোপের পাশাপাশি জোট ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শরিক ঘোষণা করেনি। জোটের বন্ধন যে নড়বড়ে, তা গত জাতীয় নির্বাচনের সময় পরিলক্ষিত হয়। আওয়ামী লীগ আসন ভাগাভাগি নিয়ে ১৪ দলের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করে। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদের অসহযোগিতার কারণে ছেড়ে দেওয়া আসনে জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও নির্বাচনে পরাজিত হন।

বারবার জোটের শরিকরা শেখ হাসিনাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি শুনেননি বরং সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী কালবেলাকে বলেন, এই লাশের দায় আমরা নেব না। হেফাজতের আন্দোলনের সময় আমাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তও আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জোটের তো এখন কোনো অস্তিত্বই নেই। দুঃসময় বলে নয়, বিবেকের তাড়নায় বলছি, এত লাশের দায় নিয়ে অন্য কেউ জোটে থাকলে থাকতে পারে, আমরা থাকব না।

রাজনৈতিক প্রয়োজনে ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ১৪ দলীয় জোট গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ। আদর্শিক জোট হিসেবে আখ্যায়িত করে শরিক অন্য দলগুলো হলো বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি-জেপি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুলিশ দেখে পালানোর চেষ্টা, ‘ছাদ থেকে পড়ে’ আ.লীগ নেতার মৃত্যু

১০ দিনে দ্রুত বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্য একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে : ভ্যান্স 

ব্রাজিল সমর্থককে এআই দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে ট্রল, যুবককে লিগ্যাল নোটিশ

আশাশুনিতে ‘গোপন বৈঠক’ থেকে গ্রেপ্তার ৬

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা

২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?

দুই বছর পর আবারও ওটিটিতে অপূর্ব

চট্টগ্রামে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন

যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে শিবির নেতা নিহত

১০

গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট সমান হলে কে যাবে নকআউটে, যা বলছে ফিফার নতুন নিয়ম

১১

লেবাননে ইরানি প্রক্সিরা না থামলে আবারও হামলা হবে: ট্রাম্প

১২

বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে

১৩

পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসএসসি বিরাশিয়ানের প্রাণবন্ত আয়োজন

১৪

যোগ দিবসে কলকাতায় মোদির যোগাসনচর্চা 

১৫

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখা, জানেন কি এর রহস্য?

১৬

মহশূন্যেও বিশ্বকাপ-জ্বর! স্পেস স্টেশনে ফুটবল সম্ভব?

১৭

চমেক হাসপাতালকে রোগীবান্ধব করতে মেয়রের তাগিদ

১৮

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

১৯

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

২০
X