

মর্জিনা খাতুন হাসি। এলাকার মানুষ হাসি আপা নামে চেনেন তাকে। হাসিখুশি মানুষটি ছিলেন এলাকার সবার প্রিয়; সবার সঙ্গে মিশতেন, রাখতেন খোঁজখবর। সেই প্রিয় ‘হাসি আপা’কে অশ্রুসজল বিদায় জানালেন এলাকাবাসী।
চিকিৎসক মেয়ের ঢাকায় বাসায় যাওয়ার জন্য রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা থেকে বুধবার সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং সুপারভাইজার মর্জিনা খাতুন। এর ঘণ্টাখানেক পরই মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা। কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বারখাদা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা খাতুন হাসির জানাজা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায়। জানাজা শেষে জুগিয়া কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
মর্জিনা খাতুনের প্রতিবেশী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘হাসি আপা খুবই হাসিখুশি একজন মানুষ ছিলেন। তিনি সবার খোঁজখবর রাখতেন। মানুষকে সহযোগিতা করতেন। এলাকায় তিনি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার মৃত্যুতে এলাকার মানুষ ব্যথিত ও শোকাহত।’
নিহতের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমি স্কুলের শিক্ষকতা করতাম, এখন অবসরে আছি। ঈদের পর আমি ঢাকায় অবস্থান করছিলাম মেয়েদের বাসায়। আমার স্ত্রী বুধবার অফিস শেষ করে পাংশা থেকে
ঢাকায় রওনা হয়। এর মাঝে খবর আসে বাসটি পানিতে পড়ে গেছে। মর্জিনা নিজের অসুস্থতার জন্য চিকিৎসক দেখানোর উদ্দেশে মেয়ের বাসায় আসার কথা ছিল।’
নিহত হাসির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহতের দুই মেয়ে আমেনা খাতুন মুনমুন ও ফাতেমা ফারহানা সোনিয়া ঢাকায় থাকে। এর মধ্যে সোনিয়া ও তার স্বামী চিকিৎসক।
এদিকে দৌলতদিয়ায় নদীতে যাত্রীবাহী ডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া খাইরুল ইসলাম খাঁ জানান, জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে কীভাবে তিনি নদীতে ছিটকে পড়লেন, তা তার জানা নেই। নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত পাননি। তবে মোবাইল গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।
খাইরুল আরও জানান, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলেন। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। সিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এদিন তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।
খাইরুল ইসলাম খাঁ জেলার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। এ ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের লাশ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে গেছেন।
দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে বাস ডুবে কুষ্টিয়ার চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলার খাগড়বাড়িয়ার হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্ডু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।