শেখ হারুন, রূপপুর থেকে
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

পারমাণবিক শক্তিতে বাংলাদেশের নবসূচনা

রূপপুরে চুল্লিতে জ্বালানি লোডিং শুরু
পারমাণবিক শক্তিতে বাংলাদেশের নবসূচনা

দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে পরমাণু শক্তির যুগে পা রাখল বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই মাইলফলকের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার শুরু করল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ধাপে পৌঁছানোকে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জটিল ও সংবেদনশীল ধাপের উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী বিশ্বের দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হলো, যা দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন, রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিসহ শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে, যার প্রতিটি থেকে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে সক্ষম হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ঘাটতি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যেই আজকের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হলো, যা বাংলাদেশের পাশাপাশি রাশিয়ার জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশিয়ার সহযোগিতা এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়নমূলক সম্পর্ক এ প্রকল্পকে আরও অর্থবহ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতীক। পারমাণবিক শক্তি ভবিষ্যতে দেশের শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে। তিনি প্রকল্পটির দীর্ঘ ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ১৯৬১ সালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধারণা প্রথম আসে। এরপর নানা পর্যায়ে সমীক্ষা, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে ১৯৯৫ সালে এটি বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়। পরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সমঝোতার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উদ্যোগ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় সক্ষমতার এক বাস্তব প্রতিফলন। তিনি বলেন, এ দীর্ঘ যাত্রা ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ, তবে একই সঙ্গে এটি শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার এক বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এ প্রকল্পকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কারিগরি সহায়তা ও তদারকি প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি তার রেকর্ডকৃত বার্তায় বলেন, রূপপুরে জ্বালানি লোডিং বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এটি দেশের জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি বলেন, এ সংস্থা শুরু থেকেই বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিরাপদ ও সুরক্ষিত বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাসম্পন্ন দেশের তালিকায় যুক্ত হলো। তিনি জানান, বৈশ্বিক নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রকল্পের কাজ কখনো থেমে যায়নি। দ্বিতীয় ইউনিটেও কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং আগামী বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে ৯০০-এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পারমাণবিক প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাদের অনেকেই প্রকল্পে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে মোট এক হাজার একশর বেশি দক্ষ জনবল এ কেন্দ্র পরিচালনায় যুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি এখন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পথে। পরিকল্পনা, নির্মাণ ও পরীক্ষণসহ প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি স্থাপন ও নিরাপত্তা যাচাই দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে জ্বালানি লোডিং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ধাপ। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টরের ভেতরে স্থাপন করা হবে। এরপর শুরু হবে রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা, যেখানে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ধাপ সম্পন্ন হতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগবে। পরবর্তী ধাপে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে শক্তি বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে সীমিত পরিসরে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা পরবর্তী সময়ে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যাবে। ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্পে কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্মাণ পর্যায়ে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেছেন এবং বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে। এরই মধ্যে শত শত প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে কেন্দ্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করবেন।

১৯৬১ সালে শুরু হওয়া এই স্বপ্ন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ বাস্তবে রূপায়িত হচ্ছে। নানা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে প্রকল্পটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল। ব্যয় ও সময় কিছুটা বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, যার সুফল আগামী দশকগুলোতে দেশ পাবে।

স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে গর্ব ও আশার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার বিষয়ে আরও উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রূপপুরে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়; বরং জাতীয় সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

কর্মকর্তারা জানান, রিঅ্যাক্টরের কোরে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোই পারমাণবিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা, তবে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে কয়েক মাস সময় লাগবে, কারণ এতে জটিল নিরাপত্তা, পরীক্ষা এবং কমিশনিং প্রক্রিয়া জড়িত।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রক্রিয়া এক ধাপে নয়; বরং ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়াটি প্রায় ৩০ দিন সময় নেবে, যার মধ্যে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টরের কোরে স্থাপন করা হবে কঠোর নজরদারির মধ্যে। এটি পুরো প্রকল্পের সবচেয়ে সংবেদনশীল শারীরিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত।

এরপর শুরু হবে রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া, যা আরও প্রায় ৩৪ দিন চলবে। প্রকৌশলীরা রিঅ্যাক্টরের আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে বিভাজন প্রক্রিয়া স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রিত থাকে। এরপর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির ধাপ শুরু হবে, যা প্রায় ৪০ দিন স্থায়ী হবে।

সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. শওকত আকবর বলেন, জ্বালানি লোডিং হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর সূচনা। তিনি বলেন, প্রতিটি ধাপ—জ্বালানি প্রবেশ থেকে শুরু করে প্রথম ক্রিটিক্যালিটি এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ বৃদ্ধি—আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে, যেখানে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তার মতে, জ্বালানি লোডিংয়ের প্রায় ২৯-৩০ দিনের মধ্যে ‘প্রথম ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জিত হতে পারে (প্রায় ১% ক্ষমতায়), এরপর ৩%, ৫%, ১০%, ১৫% ইত্যাদি ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ বৃদ্ধি করা হবে। রিঅ্যাক্টর প্রায় ৩০% ক্ষমতায় পৌঁছানোর পরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগবে।

এই প্রক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো রিঅ্যাক্টরের কোরে স্থাপন করা হয়। প্রতিটি অ্যাসেম্বলিতে একাধিক ফুয়েল রড থাকে, যার ভেতরে ইউরেনিয়াম ডাইঅক্সাইড পিলেট থাকে। ইউনিট-১-এ মোট ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টরের মূল কাঠামো তৈরি করে। এরপর ইউরেনিয়াম পরমাণু নিয়ন্ত্রিত বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপ পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়ে আবারও সমতায় কেপ ভার্দে

লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে আর্জেন্টিনা

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

পৃথিবীকে চমকে দিয়ে সমতায় ফিরল কেপ ভার্দে

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে নতুন যে রেকর্ড গড়লেন মেসি

মেসির গোলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

প্রথমবার নকআউটে নেমেই বাজিমাত, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল মিসর

দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এমপি তাহসিনা রুশদীর

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে প্রথমবার শেষ ষোলোতে মিসর

১০

আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগেই বিশ্বকাপ জয়ের ঘোষণা কেপ ভার্দের

১১

চট্টগ্রামে অসহায় ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

১২

বদলে গেল ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের সময়!

১৩

মিসরের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া

১৪

আলি খামেনির জানাজায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান 

১৫

পুরো কেপ ভার্দে স্কোয়াডের বাজারমূল্য শুধু আলভারেজেরই অর্ধেক

১৬

যুক্তরাজ্যের আর্কাইভে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি

১৭

খামেনির জানাজার আগে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

১৮

আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে বড় সতর্কবার্তা

১৯

নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসছে এআই প্রযুক্তি: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

২০
X