

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আয়কর খাতের রিফান্ড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নতুন বিধান আসছে। এই বিধানে ১২০ দিনের মধ্যে রিফান্ড নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ছাড়া আয়করদাতা কর প্রদান সংক্রান্ত রিফান্ড তৈরি হলে রিটার্নে সমন্বয় করতে পারবেন। আর রিফান্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হলে ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে এ অর্থ। এ ছাড়া আগামী বাজেটে রিটার্ন জমা দিলে মিলবে করছাড়। অর্থবছর শেষে অর্থাৎ রিটার্ন জমার নির্ধারিত ৩০ নভেম্বরের আগে রিটার্ন জমা দিলে মিলবে প্রণোদনা। নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে গুনতে হবে জরিমানা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আয়কর খাতে রিফান্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ছিল। কারও ক্ষেত্রে রিফান্ড সহজ হলেও কিছু করদাতা রিফান্ডের জন্য আয়কর অফিসে ঘুরেও সমাধান পাননি। রিফান্ড সংক্রান্ত এসব অভিযোগ নিরসনের লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন বিধান আনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে রিফান্ড আবেদনের ১২০ দিনের মধ্যে ক্লেইম নিষ্পত্তি করতে হবে। আর রিফান্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হলে ৬০ দিনের মধ্যে করদাতার হিসাবে চলে যাবে রিফান্ডের অর্থ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের আয়কর বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘আগে অনেক করদাতা রিফান্ড পেতে ভোগান্তির শিকার হতেন। কিছু ক্ষেত্রে রিফান্ডের আবেদন করে সবকিছু ঠিক থাকার পরও রিফান্ড না পাওয়ার অভিযোগ ছিল। তাই আগামী অর্থবছরের বাজেটে ১২০ দিনের মধ্যে রিফান্ড নিষ্পত্তির বিধান যুক্ত হচ্ছে। আর রিফান্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হলে ৬০ দিনের মধ্যে করদাতার হিসাবে চলে যাবে অর্থ।’
উদাহরণ হিসেবে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বর্তমানে অনলাইনে রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে করদাতার কত টাকা কর আসবে, তা সফটওয়্যারের মাধ্যমে চলে আসে। এক্ষেত্রে যদি ওই করদাতার রিফান্ড সৃষ্টি হয়, তাহলে রিটার্নের ওই ক্যালকুলেশনে দেখানো হবে। আর করদাতা চাইলে তা সমন্বয় করে কর প্রদান করতে পারবেন। যদি করদাতা এই রিফান্ড সমন্বয় না করে অর্থ ফেরত নিতে চান, সেক্ষেত্রে আবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। আর ৬০ দিনের মধ্যে করদাতার হিসাবে প্রদান করা হবে এ অর্থ। এতে রিফান্ড পদ্ধতি সহজ এবং দ্রুত হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।’
সূত্র আরও জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে শুধু রিফান্ডই সহজ হচ্ছে না। বছরজুড়ে করদাতারা রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। বর্তমানে প্রতি বছর নভেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে করের আওতা বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে নতুন পদক্ষেপ। মোটরবাইকের ওপর করারোপের প্রস্তাব নিয়ে নানা আলোচনার পর এ করহার কমানোর সিদ্ধান্ত আসছে। তবে করহার কমানো হলেও মোটরবাইকের ওপর অগ্রিম আয়কর থাকছে। এ ছাড়া অটোরিকশায় নতুন করে যোগ হচ্ছে কর।