

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক শাহেদ আলম লিখেছেন, ‘মেয়েটিকে রক্ষা করেন! সংসদ সদস্যকে ইমপিচ করেন।’
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন।
কালবেলার পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো :
মেয়েটিকে রক্ষা করেন! সংসদ সদস্যকে ইমপিচ করেন।
ঘটনা-১ :
সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে সারা বিশ্বের চোখে হিরো হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ইয়ামাল বড় হয়েছে ইউনিসেফের শেল্টারে। ইউনিসেফ শেল্টারেই সেসময়ের জাতিসংঘের বিশেষ দূত মহাতারকা লিওনেল মেসির হাতে গোসল করানোর ছবি আপনারা দেখেছেন। সেদিনের শেল্টারে থাকা শিশু যে একদিন সারা বিশ্ব জয় করতে পারে, সেটা হয়তো ইয়ামালকে না দেখলে আমরা বিশ্বাস করতাম না। একটা শিশুর মধ্যে, জীবনের মধ্যেই বিশ্ব জয়ের অফুরান বটিকা দিয়ে রেখেছেন স্রষ্টা। আমাদের কেবল ওগুলো বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব, সুরক্ষা দেবার দায়িত্ব। জীবন যেন বিকশিত হতে পারে সেটার পরিবেশ নিশ্চিত করাই দায়িত্ব।
ঘটনা -০২:
মরিয়মের বয়স তখনও ১৭, পশ্চিমে এদের বলা বয় টিনএজার। অফুরান প্রাণশক্তি থাকে টিনএজারদের। তারা বিশ্বজয়ের সবরকম শক্তি সামর্থ্য নিয়ে পৃথিবীতে আসে। মরিয়ম, পারিবারিক অভাবের তাড়নায় চাকরির প্রলোভনে একজন ৭৭ বছর বয়সের বৃদ্ধ এমপির যৌন লালসার টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন- এটাই সত্য। ফাঁসকৃত ভিডিও থেকে স্পষ্টই বোঝা গেছে- অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে এমপি সাহেব ধরা খেয়েছেন, মেয়েটির কোনো সেক্সুয়াল লস সেখানে হয়নি।
এই টিনএজ মেয়েটাকে এখন কেন এমপির কৃতকর্মের পাপে পাপী হতে হবে? কেন তাকে ৭৭ বয়সী বৃদ্ধের বিয়ে করা বউ নাটকের অভিনেত্রী হতে হবে? কোন আইনে। কোন ইনসাফে? কোন বিচারে? মেয়েটির বাবা জামায়াত কর্মী হিসেবে তার নেতার ইজ্জত বাঁচাতে মেয়েটার জীবনকে বলি দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে কি আমাদের সমাজ, সংসদীয় রীতি সেটাকে উপেক্ষা করবে? দল হিসেবে জামায়াতের কি কোনো ভূমিকা নেই এই জুলুমের বিবাহ নাটক স্থগিত করার?
আমরা কেউই ধোয়া তুলসী পাতা নই। ছেলে-মেয়ের সম্মতিতে স্বাভাবিক যৌনাচার এটা পৃথিবীর আদিমতম সত্য বিষয়। ৫৭ বছরের বয়স গ্যাপের বিবাহ নাটক আমাদের সভ্য সমাজে অভিনন্দিত হয় না। এর বাইরে, সেটা যখন চাকরির প্রলোভনে দরিদ্র পরিবারের মেয়ের সাথে হয়, সেটা স্বাভাবিক বিয়ে নয়, অপরাধ।
এমনিতে মানুষের প্রাইভেসি লঙ্ঘন ও গোপন ক্যামেরা দিয়ে কারও চরিত্রহনন গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু সেটা স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা ও হুকমতে দ্বীন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করা চেহারাগুলো যখন এসব যৌনলিপ্সা দেখায়, তখন সেটা আর সমাজের কালেক্টিভ ভর্ৎসনার বাইরে থাকে না। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। গাজী নজরুল তার এমপি পদ সুরক্ষায় এখন মেয়েটির সাথে বিবাহের নাটক করেছে, সম্মতি এবং সহযোগিতা করছে টিনএজ মেয়েটার বাবা!
মেয়েটিকে বাঁচাতে হবে। সমাজের সম্মিলিত ট্রলে যেন সে আত্মহননের পথ বেছে না নেয়, সেই সুরক্ষা দল হিসেবে জামায়াতকে নিশ্চিত করতে হবে, সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে, সংসদকেও এগিয়ে আসতে হবে। কে জানে মরিয়ম তার সুরক্ষা পেলে হয়তো মালালা ইউসফজাই অথবা গ্রেটা থুনবার্গের মতো বিশ্ব পরিচিত অ্যাম্বাসাডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে! অথবা সেই-ই হতে পারে নারী নির্যাতনবিরোধী সবচেয়ে বড় ইসলামি ফেস!
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অথবা সংসদীয় সভা ডাকুন। অনুরোধ করব বিশেষ রুলিং আনার ব্যবস্থা করুন। ভালো দৃষ্টান্ত হবে যদি এনসিপির কোনো তরুণ এমপি এই বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এমপি পদের প্রলোভনে যৌন বিকৃতি রুচি ও আইনের বরখেলাপ এনে গাজী নজরুলকে অভিশংসনে আনুন। উন্মুক্ত আলোচনা হোক। আসুন আমাদের কন্যাশিশু ও নারীদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিই। দল-মত নির্বিশেষে।
কিন্তু মেয়েটার জীবন রক্ষা করেন। বিয়ের নাটকটা বাতিল করেন। জীবন রক্ষা করেন। জীবনই বিশ্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, ইমপিচ বা ইমপিচমেন্ট অর্থ হলো, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি বা অন্য কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ, সংবিধান লঙ্ঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আইনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা। বাংলায় এর প্রচলিত প্রতিশব্দ ‘অভিশংসন’।