

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া দুদল আজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ।
মেসির আলো ছড়ানো ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপযাত্রার শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্ব ফুটবলে মেসির প্রভাব কমেনি, হ্যাটট্রিক করেই তা প্রমাণ করেছেন তিনি। আর প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়াও ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে জর্ডানের বিপক্ষে। কোচ রালফ রাংনিকের দল সে ম্যাচে প্রমাণ রেখেছে দ্রুতগতির আর হাই-প্রেসিং ফুটবল কেমন হতে পারে।
ম্যাচ ভেন্যু টেক্সাসের আরলিংটনের বিখ্যাত আর আধুনিক সুবিধার এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে, ফিফার চাপে নাম পাল্টে যা ডালাস স্টেডিয়াম। গত পরশু ডালাস-ফোর্ট ওর্থ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে সতর্কতা জারি হলেও ম্যাচ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। কারণ হলো ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এ স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ জলবায়ু-নিয়ন্ত্রিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছাদ দিয়ে বন্ধও রাখা যায়। আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচেও স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ রাখার সম্ভাবনা বেশি। যে কারণে ২০ থেকে ২৪ ডিগ্রির সেলসিয়াসের তাপমাত্রা খেলোয়াড় ও দর্শক—কারও জন্যই অস্বস্তিকর হবে না।
তবে ম্যাচটি নিয়ে আয়োজকদের উদ্বেগ আছে। শহরজুড়ে যানজট আর দর্শকদের স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর বিষয়টি নির্বিঘ্ন করা নিয়ে। মেসির আর্জেন্টিনা মাঠে নামছে—ম্যাচের দিন উন্মাদনা কোন পর্যায়ে থাকবে, সেটি গত দুদিনেই স্পষ্ট হয়েছে। স্টেডিয়ামের আশপাশের হোটেল-মোটেলে কোনো কক্ষ ফাঁকা নেই। এক দিন আগেই শেষ। বড় শপিং মল, বিমানবন্দর আর রেস্টুরেন্টগুলোতে ঢুঁ মারলে আকাশি-সাদার জার্সির উপস্থিতি আপনাকে ম্যাচের দিনের সম্ভাব্য একটি চিত্র দিয়ে দেবে।
কাগজে-কলমে শক্তি বিশ্লেষণ আর মাঠের বাইরে আর্জেন্টাইনরা প্রভাবে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি মোটেও একপেশে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেননা অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি ‘অর্গানাইজড প্রেসিং ফুটবল’ এরই মধ্যে ফুটবলবোদ্ধাদের নজর কেড়েছে। কোচ রাংনিকের কৌশলটাই হলো—প্রতিপক্ষকে তাদের রক্ষণভাগ থেকে খেলা গড়ে তোলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত বল দখল করে পাল্টা আক্রমণ করা। মার্সেল সাবিৎসার, কনরাড লাইমার মধ্যমাঠে সে কাজটি অসাধারণভাবে করে থাকেন। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সম্ভাব্য সেরা একাদশের সবাইকে পাচ্ছেন। তাই তিনিও অস্ট্রিয়া কোচ রাংনিকের বড় এ চ্যালেঞ্জটি মোকাবিলায় প্রস্তুত। এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রদ্রিগো ডি পলকে দিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছেন তিনি। তাতে চাপ কাটিয় ওঠার পাশাপাশি মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজের জন্য আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিপরীতে অস্ট্রিয়ার ডেভিড আলাবা, অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগকে মেসিকে সামলাতে হবে। যদিও মেসিকে পুরো ম্যাচে আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব, ফুটবল বিশ্ব সেটি পরখ করেছে অনেকবার।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ঐতিহাসিকভাবে বড় ম্যাচের দল। চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার ক্ষমতাও তাদের আছে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, হতে পারে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষও। ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলবোদ্ধাদের মত, বলের দখল ও আক্রমণ গঠনে এগিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে অস্ট্রিয়াও চমক দেখাতে পারে। গ্রুপ ‘জে’-র শীর্ষস্থান নির্ধারণে এই ম্যাচের ফল হবে নির্ণায়ক। সঙ্গে ডালাসের পরিবেশ-পরিস্থিতি মিলিয়ে বলাই যায়, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া আজকের এই দ্বৈরথ।