

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ নামাজ। আর জামাতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কাতার সোজা করা এবং কোনো খালি জায়গা না রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নামাজের কাতার কেবল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর নাম নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক। অনেক সময় দেখা যায়, জামাত শুরু হওয়ার পর সামনের কাতারে হঠাৎ কোনো জায়গা খালি হয়ে যায়, হয়তো কেউ ওজু ভেঙে যাওয়ার কারণে বেরিয়ে গেছেন অথবা ভুলবশত জায়গাটি ফাঁকা রয়ে গেছে। এমন অবস্থায় পেছনে অবস্থানরত মুসল্লিদের করণীয় কী, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে।
শরিয়তের দৃষ্টিতে নামাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় এই খালি জায়গা পূরণ করা শুধু কাম্যই নয়, বরং নামাজের পূর্ণতার জন্য জরুরি।
ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, আপনি নামাজে শরিক হয়ে যাওয়ার পর যদি দেখেন যে সামনের কাতারে কোনো জায়গা খালি আছে, তবে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা আপনার দায়িত্ব। এক্ষেত্রে বিধান হলো, আপনি নামাজ পড়া অবস্থাতেই হেঁটে সামনে গিয়ে সেই খালি জায়গাটি পূরণ করতে পারবেন। এটি নামাজের কোনো ক্ষতি করে না, বরং কাতারের শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
মুফতি আবরার আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় সামনের ঠিক পরের কাতারটি নয়, বরং তারও সামনের কাতার অর্থাৎ দুই কাতার সামনে জায়গা খালি রয়েছে। এক্ষেত্রেও শরিয়ত মুসল্লিকে সামনে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, আপনি এক কাতার সামনে এগিয়ে গিয়ে কিছুটা সময় থামবেন এবং এরপর পুনরায় সামনে এগিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় কাতারের খালি জায়গাটি পূরণ করবেন। একবারে দৌড়ে বা তাড়াহুড়ো করে সামনের দিকে যাওয়া উচিত নয়।
সতর্কতা ও গুরুত্ব
নামাজ শুরুর আগেই আমাদের খেয়াল রাখা উচিত যেন সামনের কাতারগুলো সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ হয়। কাতারে কোনো খালি জায়গা না রাখা এবং কাতার সোজা করে দাঁড়ানো নামাজের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা অপরিহার্য অংশ। তাই সচেতন মুসল্লি হিসেবে নামাজ শুরুর আগেই আমাদের সামনে কোনো খালি জায়গা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া এবং সেটি পূর্ণ করে দাঁড়ানো উচিত। তবে যদি নামাজ শুরু করার পর হঠাৎ সামনে কোনো ফাঁকা জায়গা নজরে আসে, তবে তা পূরণে সচেষ্ট হওয়াও নামাজেরই সৌন্দর্যের অংশ।