

প্রভাব খাটাতে পারলে কী না হয়! আরেক দপ্তরের কর্মকর্তার নাম কেটে নিজের নাম যুক্ত করে ট্রেনিংয়ের নামে বিদেশ সফর করা যায়। আবার ফাইল ছাড়তেও সময়ক্ষেপণ করা যায়। আর এমন ঘটনাই ঘটিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব মোছা. শাম্মী আক্তার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর অনুবিভাগের দায়িত্বে থেকেও কাস্টমসের রিস্ক ম্যানেজমেন্টের একটি ট্রেনিংয়ে বিদেশ সফর করতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।
এনবিআর থেকে দেওয়া কাস্টমস কর্মকর্তার নাম কেটে সদ্য সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে দিয়ে মালয়েশিয়া সফরে নিজের নাম যুক্ত করে অনুমোদন নিয়েছেন। আঙ্কটাডের খরচে এ ট্রেনিংয়ে তার কোনো অফিসিয়াল দায়িত্ব না থাকার পরও প্রভাব খাটিয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সরকারি আদেশও (জিও) জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আগামী ১০ থেকে ২১ আগস্ট ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কাটড) অর্থায়নে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সিলেক্টিভিটি মডিউল নামে একটি ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন ছয়জন কর্মকর্তা। এনবিআর থেকে এ ট্রেনিংয়ে ছয়জন শুল্ক কর্মকর্তার নামের মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই অনুসারে জিও অনুমোদনের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের শুল্ক অনুবিভাগে পাঠানো হয়। প্রায় ১২ দিনব্যাপী বৈশ্বিক এ সংস্থার ট্রেনিংয়ের প্রতিদিনের খরচ বাবদও মোটা অঙ্কের অর্থ দেবে সংস্থাটি। এ সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি হননি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মোছা. শাম্মী আক্তার। নিজে আয়কর অনুবিভাগের একটি শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। আয়করের দায়িত্বে থেকে কাস্টমসের এই জিও জারির বিষয়ে হস্তক্ষেপ শুরু করেন এ কর্মকর্তা। বৈশ্বিক এ সংস্থার প্রশিক্ষণ উপলক্ষে বিদেশ সফরে যেতে ফাইল অনুমোদনের জন্য তোলার ক্ষেত্রেও সময়ক্ষেপণ করেন। সর্বশেষ সদ্য বিদায়ী এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে দিয়ে শুল্ক কর্মকর্তার নাম কেটে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে জিও জারির অনুমোদন করিয়ে নেন। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে কাজ করার সুবাদে সদ্য সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গেও ছিল ওই কর্মকর্তার ভালো জানাশোনা।
এ বিষয়ে জানতে আইআরডির উপসচিব মোছা. শাম্মী আক্তারের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি উল্লেখ করে তার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও মোছা. শাম্মী আক্তারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আঙ্কটাডের এ ট্রেনিংয়ে বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন কর্মকর্তার নাম আইআরডিতে পাঠায় এনবিআর। এর মধ্যে পাঁচ কর্মকর্তার সঙ্গে আইআরডির উপসচিব শাম্মী আক্তারের নামে জিও জারি করা হয়। ট্রেনিংয়ের জন্য নির্বাচিত অন্য কর্মকর্তারা হলেন কাস্টমস অটোমেশনের প্রথম সচিব সামসুজ্জামান, দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, শুল্ক নীতির দ্বিতীয় সচিব মো. রেজাউল করিম, দ্বিতীয় সচিব সাকিব হোসেন ও ইনজামাম উল হক। ট্রেনিংয়ে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের যাবতীয় খরচ আঙ্কটাড বহন করবে। সেই সঙ্গে প্রতিদিনের জন্য ২৬৭ ডলার করে খরচও দেবে। যার কারণে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে মালয়েশিয়া সফরে নিজের নাম নথিভুক্ত করেন এ উপসচিব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, আঙ্কটাডের এ ট্রেনিং মূলত কাস্টমস সংক্রান্ত। এ কারণে শুধু কাস্টমসের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিবকে মালয়েশিয়ার এ ট্রেনিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। মূলত এটি উপসচিবের কোনো বিষয় নয় বলেও জানান এ কর্মকর্তা।