

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে রাজধানীর চারটি বেসরকারি হাসপাতালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ এবং থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের আদলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস মডেল চালু করা হবে।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে কিডনি-লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমে আসবে। বিদেশের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে দেশেই অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা মিলবে। এই হাসপাতালে দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক দক্ষ জনবল যুক্ত করা হবে। এ-সংক্রান্ত একটি সংশোধিত আইন চলতি সংসদ অধিবেশনে পাস হওয়ারও কথা রয়েছে।
একই সঙ্গে পাঁচটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে ই-হেলথ কার্ড। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে হেলদি বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পিপিপি মানেই স্বাস্থ্যসেবার বেসরকারীকরণ নয়। বরং সরকারি মালিকানা ও নীতিনির্ধারণ বজায় রেখে বেসরকারি খাতের দক্ষতা, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাকে জনস্বার্থে কাজে লাগানো। তাদের মতে, স্বচ্ছ চুক্তি, জবাবদিহি, কার্যকর তদারকি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে পিপিপি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। অন্যথায় অতীতের মতো এ উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, সরকারের প্রচলিত পদ্ধতিতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবল নিয়োগ ও উচ্চ বেতন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য করপোরেট সিস্টেমে পরিচালনা করার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। করপোরেট আদলে পরিচালনা করা হলে অভিজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসার গুণগতমান ঠিক থাকবে। এ ক্ষেত্রে বিএমইউর বর্তমান ও অন্য করপোরেট হাসপাতালের সেবামূল্যের মাঝামাঝি একটি মূল্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে দরিদ্র মানুষের সেবা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকার যেভাবে কৌশলগত উপায়ে ভর্তুকি মূল্যে চিকিৎসা সেবা কিনে নেবে, ঠিক একই মডেলে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে সরকার চিকিৎসাসেবা কিনে দরিদ্র মানুষের জন্য নিশ্চিত করতে পারবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারের কৌশলগত চিকিৎসাসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে পর্যালোচনা করতে হবে কোন কোন চিকিৎসাসেবা সরকারি হাসপাতালে অপ্রতুল। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল নির্ধারণ, হাসপাতালের ক্যাটাগরি প্রস্তুত ও ক্যাটাগরি অনুসারে সেবা মূল্য নির্ধারণ করে জনগণের জন্য চিকিৎসাসেবা ক্রয় করতে হবে। নয়তো পুরো বিষয়টি বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টালের মতো হতে পারে। করপোরেট ধাঁচে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড পরিচালনা কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারের কৌশলগত চিকিৎসাসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে হাসপাতাল পরিচালনা, মনিটরিং ও জবাবদিহিতার জন্য আলাদা একটি কমিশন কিংবা বডি তৈরি করা যেতে পারে। যাদের কাজ হবে পুরো সিস্টেম মনিটরিং করা।
করপোরেট ধাঁচে চলবে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল এবং থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের আদলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস মডেল চালু করা হবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অধীনে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু হলে দেশের মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য বিদেশ গমনের প্রবণতা কমবে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি পরিচালিত হবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ, আর সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার থাকবে।
বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে হাসপাতালে কার্ডিও অ্যান্ড সেরিব্রোভাসকুলার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা সেন্টার, কিডনি রোগ ও ইউরোলজি সেন্টার এবং জরুরি ও ট্রমা সেন্টারের মতো পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য হাসপাতালটিতে স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে সব নিয়োগই হবে চুক্তিতে। এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৫০ শয্যার এ হাসপাতাল উদ্বোধন হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ভবন নির্মাণ করেছি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছি। এটি একটি উচ্চমানের হাসপাতাল হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন, সে জন্য সরকারই চিকিৎসার ফি নির্ধারণ করে দেবে। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি উভয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এখানে নিয়োজিত করা হতে পারে। তিনি বলেন, হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। তবে এটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ভিত্তিতে কাজ করবে। এটি একটি সরকারি হাসপাতাল হিসেবেই থাকবে, তবে এর ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও করপোরেট ধাঁচের।
বিএমইউ সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ জুন বিএমইউ আইন সংশোধনের অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। নতুন বিধানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে লাভজনক বা অলাভজনক কোম্পানি গঠন করতে পারবে। এসব কোম্পানির শেয়ারও কেনা যাবে। চলতি সংসদ অধিবেশনেই এই সংশোধনী বিল উঠতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঁচটি সেন্টারে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে। এতে একদিকে যেমন হৃদরোগ, কিডনি-লিভার প্রতিস্থাপনের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে, সেই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও কমবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে। হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হলে জটিল রোগের চিকিৎসাপ্রাপ্তিতে মানুষের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি কমে আসবে।
রাজধানীর চার হাসপাতাল দিয়ে পিপিপি শুরু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেড, ইমপালস হাসপাতাল এবং গুলশানের সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ কর্মসূচির আওতায় আসছে। এর মধ্যে সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৪ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ওই বৈঠকেই সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে হেলদি বাংলাদেশ কর্মসূচির রূপরেখায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে পিপিপি ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা চালু এবং পাঁচটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ই-হেলথ কার্ড চালু নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ডা. ফজলে রাব্বি খান বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের সঙ্গে কাজ করা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। সরকারের প্রস্তাবিত পিপিপি মডেল একটি দূরদর্শী চিন্তা। আমরাও চাই দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে।
পাঁচ জেলায় ই-হেলথ কার্ড
নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নোয়াখালী ও খুলনায় পরীক্ষামূলকভাবে ই-হেলথ কার্ড চালু হবে। এ জন্য প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি জেলার অন্তত একটি উপজেলাকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ই-হেলথ কার্ড ব্যবহার করে রোগীরা সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
কেন এখন পিপিপি প্রয়োজন
বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্যসেবার প্রায় ৬৫ শতাংশই বেসরকারি খাত প্রদান করছে। এ খাতে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১২ লাখ কর্মী কাজ করছেন। অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই জনগণকে বহন করতে হয়, যার বড় অংশই বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হয়। প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে ব্যয়ের তথ্যও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা অব্যবহৃত থাকে। প্রায় ৩০ হাজার শয্যার এই অবকাঠামোর মূল্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। সরকারি বিনিয়োগ ছাড়াই এই সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্যসেবার বড় ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
পিপিপির অতীতের অভিজ্ঞতা
দেশে এর আগে স্বাস্থ্য খাতে পিপিপির কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও বেশির ভাগই সফল হয়নি। অতীতে ১০ থেকে ২০ শয্যার ছোট সরকারি হাসপাতাল পিপিপি ব্যবস্থায় পরিচালনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অংশীদারত্বে ডায়ালাইসিস সেবা চালু রয়েছে। তবে চুক্তির কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি) নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। এদিকে কভিড-১৯ মহামারির সময়ও সরকার বেশকিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে পরিচালনাগত দুর্বলতা ও সুশাসনের ঘাটতিতে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল বেসরকারি খাতকে যুক্ত করলেই সফলতা আসে না; প্রয়োজন উপযুক্ত ক্ষেত্র নির্বাচন, কার্যকর চুক্তি, শক্তিশালী তদারকি এবং জবাবদিহি।
ভারত-তুরস্কের সফল মডেল
ভারত ও তুরস্ক—দুই দেশই স্বাস্থ্য খাতে পিপিপি মডেল সফলভাবে কাজে লাগাচ্ছে। তুরস্কে হেলথ ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রামের আওতায় পিপিপি মডেলে আধুনিক ‘সিটি হাসপাতাল’ নির্মাণ করা হয়েছে। বেসরকারি খাত হাসপাতাল নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে সেই সুবিধা ব্যবহার করে এবং চিকিৎসাসেবা দেন সরকারি চিকিৎসকেরা। এতে আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো দ্রুত গড়ে উঠেছে। এর ফলে মানসম্পন্ন শয্যার হার ৫২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটিতে ২০টিরও বেশি স্বাস্থ্য ক্যাম্পাসে ১০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এদিকে ভারতে পিপিপি মূলত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডায়ালাইসিস, ডায়াগনস্টিক সেবা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হচ্ছে। ন্যাশনাল হেলথ মিশনের আওতায় সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ক্যানসার, কিডনি রোগসহ জটিল রোগের চিকিৎসা সাশ্রয়ী করা হয়েছে।
সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে কোথায় পিপিপি
সরকারি হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ল্যাব, ইমেজিং, ডায়ালাইসিস, ওষুধ বিতরণ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মতো ক্ষেত্রেও পিপিপির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ক্যানসার চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তুলতেও এই মডেল কার্যকর হতে পারে। এছাড়াও যেসব ক্ষেত্রে সরকারি অবকাঠামো রয়েছে কিন্তু জনবল ও ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে পিপিপি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, চর, হাওর, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনা সেবার মান ও প্রাপ্যতা বাড়াতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালযের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি আধুনিক করপোরেট ধাঁচে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই চালু হবে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। হাসপাতালের মালিকানা সরকারেরই থাকবে শুধু ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবে আধুনিকতা। হাসপাতালটিতে বিশেষায়িত আধুনিক চিকিৎসা মিলবে, কিন্তু ব্যয় কমে আসবে। ফলে বিদেশ গমনের প্রবণতাও কমবে।
তিনি পিপিপিতে চার বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনার বিষয়ে বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পিপিপিতে হাসপাতাল চালানো হবে। হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত এগ্রিমেন্ট হবে। পিপিপি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে জনবহুল রাজধানীর মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে আরও সুযোগ তৈরি হবে।