

দীর্ঘ চার মাস বন্ধ ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনপ্রিয় রুট সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি সিলেটি কমিউনিটির মধ্যে ছিল হতাশা। শেষ পর্যন্ত সিলেট-ম্যানচেস্টার-সিলেটের আকাশে ফের ডানা মেলেছে বিমান। ম্যানচেস্টার থেকে ২৭২ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা বিজি-২০৮ ফ্লাইট গতকাল রোববার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমান কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটই নয়, বন্ধ হওয়া আরও রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা রুটেও ফের চালু হচ্ছে ফ্লাইট।
গত ১ মার্চ থেকে হজ ফ্লাইট নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে সাময়িকভাবে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে তখন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে ও প্রবাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়ে ফের সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি জানান। সরকারও হজ মৌসুম শেষে রুটটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের ১ জুলাই থেকে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি বিমান যোগাযোগের ঢাকা-নারিতা রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই রুট বন্ধে তখন অপারেশনাল ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের কারণ দেখানো হয়েছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রবাসীর চাহিদার কারণে ফের রুটটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই রুটে ফ্লাইট চালু করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এদিকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অবতরণের পর যাত্রীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা; বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা। সেই দাবি পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ রুটে ফ্লাইট চালু রাখতে সরকার কাজ করবে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সিলেটে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর বসবাস যুক্তরাজ্যে। তাদের নিয়মিত যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় রেখেই ফ্লাইটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি যেন ভবিষ্যতে আর বন্ধ না হয় সে বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেবে।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়বে এবং সিলেটকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানের উচ্চ ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাড়া কমানোর বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দীর্ঘদিনের কিছু অব্যবস্থাপনা দূর করতে সময় লাগলেও প্রবাসীদের সুবিধা বিবেচনায় রেখে এ রুটে ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে যাতে আরও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়, সেজন্য ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের কার্যকর বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রামসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে বিমানের ভাড়া মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, নির্বাচনের আগে প্রবাসীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।
সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইটে আসা যাত্রী পারভীন বেগম বলেন, রুটটি বন্ধ থাকায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে ছিলেন। এখন আবার সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আরেক যাত্রী গোয়ালাবাজারের বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, অন্য রুট ব্যবহার করলে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। সরাসরি সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হওয়ায় প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপকৃত হবেন।