

অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচন হচ্ছে তো! এই প্রশ্ন এখন আবারও চারদিকে উঠতে শুরু করেছে। এক মাসও নেই হাতে, অথচ নির্বাচন ঘিরে বোর্ডের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তবে প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে যাচ্ছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল—এমন একটা খবর এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে। যদিও বিষয়টি ঘিরে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করছেন না তিনি। কখনো বলছেন, রাখলে থাকবেন আবার কখনো বলছেন ভোট করার সামর্থ্য নেই তার। পুরো ব্যাপারটাই এখন অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। তবে নির্বাচন ঘিরে যে ধারণা জরুরি, সেটা এখনো মেলেনি। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের বিসিবির সভায় আসন্ন নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণা করার সম্ভাবনাও আছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
চার বছর পরপর আসে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। গত কয়েকটি নির্বাচনে তেমন কোনো আমেজ দেখা যায়নি। এবার আমেজের আভাস মিললেও এখনো সবকিছুই অস্পষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শুরুতে ছিল অভিজ্ঞ পরিচালক মাহবুব উল আনামের নাম। কিন্তু নানা কারণে সেখানে পরিবর্তন এসে গেছে। নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তেই এখনো অটল তিনি। তবে সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকেও নির্বাচনে অংশ নিতে দেখা যাওয়ার একটা গুঞ্জন আছে। যদিও এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তামিম ইকবাল ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট বুলবুলের নাম। বিভিন্ন সূত্র বলছে, তামিমকে প্রেসিডেন্ট করার ব্যাপারে বড় একটি রাজনৈতিক দলেরও সমর্থন আছে। তবে আরেকটি সূত্র বলছে, বর্তমান সরকার চাচ্ছে বুলবুলের নেতৃত্বে পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
ফারুক আহমেদের ওপর অনাস্থায় বুলবুলকে সভাপতি বানান বোর্ড পরিচালকরা। তবে তিনি এসেছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কোটায় পরিচালক হয়ে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় ক্লাব ক্রিকেট কিংবা অন্য কোনোভাবে কাউন্সিলর হওয়ারও তেমন সুযোগ নেই তার। তাই তো আবারও এনএসসির মনোনীত হয়েই বোর্ডে আসতে পারেন বুলবুল—এমন খবর কালবেলায়ও প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও সে সময় বুলবুলের নিকটজনরাও কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিলেন। কিন্তু এখন বুলবুলও সেরকম কথাই বলছেন। গণমাধ্যমে তার দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন করার আভাস মিলেছে। সেটা সরকারের প্রতিনিধি হয়েই। তিনি বলেছেন, ‘আমি তো বলেছি কখনো নির্বাচন করব না। আমি কীভাবে নির্বাচন করব? নির্বাচন করতে যে রসদগুলো লাগে, সেটা আমার নেই। আমি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল থেকে এসেছি। তারা যদি আমাকে রেখে দিতে চায়, থাকব, চেষ্টা করব।’ অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মত আছে তারও। যদিও শুরুতে বলেছিলেন একটা টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলে চলে যাবেন তিনি। এখন আবার তার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তো ১২০ বলে খেলতে হয়। সেটা তো দুই ওভারে শেষ হয়ে যায় না। সবকিছু নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর। এখন লম্বা ইনিংস খেলার চেষ্টা করছি।’ বুলবুল আসলেই কী চাচ্ছেন, সেটা স্পষ্ট করছেন না তিনি।