

৬ অক্টোবর হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। কিন্তু তার আগেই নির্বাচন ঘিরে নানা নাটকীয়তা রূপ নিয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় জায়গা মেলেনি ঢাকা লিগের সর্বশেষ আসরে খেলা ১৫টি ক্লাবের। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের সিইসির কার্যালয়ে শুনানিতে অংশ নেন ক্লাবগুলোর কর্মকর্তারা। সেখানে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও সংগঠক তামিম ইকবাল। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান পরিস্থিতিকে নোংরামি মনে করেন তিনি। তবে সামনের দিনগুলোতে এই নোংরামি হবে না বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে থাকা বিসিবির বর্তমান মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠুও জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র মেনেই বিচার করবে নির্বাচন কমিশন।
বিসিবি নির্বাচনে ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৬১টিকে রেখে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেখানে প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের বেশ কয়েকটি ক্লাবের কাউন্সিলরদের নাম স্থগিত করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে অভিযুক্ত হওয়ায় তাদের না রাখার কথা বলেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটার হতে সমস্যা নেই তাদের। একই সঙ্গে অভিযোগ থাকার পরও বিসিবিই তাদের কাছে কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। সব মিলিয়ে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার পর হঠাৎ ইসির এমন সিদ্ধান্তে ভিন্ন ইঙ্গিত দেখছেন তামিমরা। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আমি ক্রিকেটের সিনিয়রদের থেকে শুনেছি, ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে কোনোদিন এত নোংরামি তারা দেখেনি। যে জিনিসটা আপনারা করে যাচ্ছেন, করতেছেন, এটা কিন্তু একটা ইতিহাস হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সময়েও কিন্তু এ জিনিসগুলোই ফলো করা হবে। সুতরাং আমার বিনীত অনুরোধ, এই জিনিসগুলো আপনারা কইরেন না। সৎপথে নির্বাচনটা করেন।’
১৫টি ক্লাবের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ থাকলেও তামিম বলছেন এ ক্লাবগুলো হঠাৎ জন্ম নেয়নি। প্রতিটি ক্লাবের একটা ইতিহাস আছে। একই সঙ্গে এখানে ক্রিকেটারদের রুটিরুজিও জড়িয়ে, ‘এখানে ১৫টি ক্লাবের চেয়ে বড় বিষয় হলো, আপনারা যে সিদ্ধান্তটা নিতে যাচ্ছেন, ৩০০ জন ক্রিকেটারের কথা মাথায় রাখতে হবে। এই ১৫টা ক্লাব নিয়মিত ক্রিকেট খেলে, বিভিন্ন ডিভিশনে ক্রিকেট খেলে এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়কে পারিশ্রমিক দেয়। ওই টাকা দিয়েই কিন্তু তাদের একটা বছরের ৭০-৮০ শতাংশ আয় হয়। আর তাদের পরিবারও জড়িত।’ সেজন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই সবকিছু
বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত মনে করেন তামিম, ‘আপনারা (ইসি) যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এ জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’
ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিলে ভবিষ্যতে এ ক্লাবগুলোতে কেউ স্পন্সর করবে না জানিয়ে তামিম বলেন, ‘যদি আমার এই ভোটিং অধিকার আমার থেকে নিয়ে নেওয়া হয়, আমি তো পরবর্তী তিন বছরের জন্য আর টাকা-পয়সা দেব না। ওই ২০ জন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব কে নেবে? এই চিত্রটা ১৫টি ক্লাবের ক্ষেত্রেও সত্যি। তার মানে ৩০০ জন। এই ১৫ জন কাউন্সিলর যদি টাকা-পয়সা না দেন, এই ৩০০ জন খেলোয়াড়ের দায়িত্বটা কে নেবে? ইসি না বিসিবি!’ এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি। ১৫ ক্লাবের একটির কাউন্সিলর বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমানও। তিনি জানিয়েছেন, ন্যায় বিচার পাবেন তারা।