

বিসিবি নির্বাচন ঘিরে কম জল ঘোলা হয়নি। প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনার সাক্ষী হচ্ছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। বোর্ড সভাপতি থেকে শুরু করে পরিচালক—সবকিছুতেই নতুন নতুন সমীকরণের যোগ। সেখানে নতুন দাবি, বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ আরও কিছুদিন বৃদ্ধি অথবা সম্ভব হলে অ্যাডহক কমিটি গঠন। আর তৃতীয় প্রস্তাব হচ্ছে, নির্বাচন পিছিয়ে নতুন করে তপশিল ঘোষণা করা। ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে এমন প্রস্তাব দেন মনোনোয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া দুই প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বাবু ও মির্জা ইয়াসির আব্বাস। তাদের আশা, এই দাবির সঙ্গে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা বাকিরাও একমত হবেন। যদিও গতকালের ঘটনার সঙ্গে তামিমের সম্পৃক্ততা নেই বলেই জানা গেছে। পারিবারিক কারণে দেশের বাইরে আছেন তামিম। ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, নতুন প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন তিনি।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও ফেরার সুযোগ ছিল প্রার্থীদের। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চিঠিতেই গতকাল ১২টা পর্যন্ত সেরকম একটা সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সে সুযোগ নেয়নি কেউই। উল্টো বিকল্প কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তারা। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বোর্ডের স্থায়িত্ব। কেননা, আগামী ৭ অক্টোবরই শেষ হচ্ছে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ। যে কোনো মূল্যেই তাই ৬ অক্টোবর হতে হবে নির্বাচন। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন পরিচালনা পর্ষদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতাও আছে। কিন্তু এর মধ্যে এমন প্রস্তাব কেন! রফিকুল ইসলাম বাবু উত্তরে বলেন, ‘এখানে ভালো ভালো ক্রীড়া সংগঠকরা অনুপস্থিত। আমরা চাই, তারা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সেটার কিছু ব্যবস্থা করা।’ নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকে একের পর এক সূচি পরিবর্তন থেকে নানা ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সেটা ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মনে করেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা।
বিসিবি নির্বাচনে ১৫টি ক্লাব নিয়েও আছে বিতর্ক। শুরুতে তাদের কাউন্সিলরশিপ দেয় বিসিবি। কিন্তু এরপর নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সেটা স্থগিত হয়ে যায়। আবার আপিল করে ফেরত আনার পর হাইকোর্টের রায়ে আটকে যায় তাদের ভোটাধিকার। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অর্থাৎ তাদের ছাড়াই হতে পারে নির্বাচন। এতে ৩০০-এর বেশি ক্রিকেটার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করেন সংগঠকরা। তাদের দাবি, এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে নতুন তপশিল করে সংগঠকদের নতুনভাবে কাউন্সিলর নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় ক্রিকেটে বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন তারা। কেননা, কাউন্সিলরশিপ না থাকলে সেই সব ক্লাবে কীসের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করবেন তারা! দাবিগুলো ক্রীড়া উপদেষ্টা বরাবর জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই দাবিগুলো ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে জানাতে চাই। উনি যথাযথ একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যেটার মাধ্যমে ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ক্রিকেট ক্রিকেটের জায়গায় থাকবে।’ এমন বিতর্ক মাথায় নিয়ে নির্বাচন হলে সেটা দেশের ক্রিকেটের সুনামকে নষ্ট করবে বলে মনে করেন আরেক কাউন্সিলর ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা প্রার্থী ইয়াসির আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি যে বাংলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্বার্থে এটা সমাধান করা যাবে এবং এটা করা দরকারও। কারণ, বিতর্কের কথা যেটা সবাই বলছে, এটা শুধু বাংলাদেশের কাছেই নয়, আপনারা সবাই জানেন যে পুরো বিশ্ব কিন্তু তাকিয়ে থাকে। কোনো একটা খেলার ফেডারেশন বা বোর্ডের দিকে এবং পুরো বিশ্বেই একটা বিতর্কের মুখে পড়ে যাবে।’ তাদের বিশ্বাস, ক্রীড়া উপদেষ্টা তাদের দাবিগুলো মেনে নতুন করে নির্বাচনী রূপরেখা তৈরি করবেন।