

এক উইকেটে ৩৩৮ রান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের মাত্র দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে। এতেই ৫২ রানের লিড বাংলাদেশের। টপ অর্ডার ব্যাটারদের দুর্দান্ত ছন্দে সিলেট টেস্টে দারুণ অবস্থানে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র ৮৫ ওভারেই যখন এমন দাপুটে ব্যাটিং। তখন প্রথম ইনিংস শেষে কত রানের লিড নিয়ে থামে স্বাগতিকরা, সেটাই এখন দেখার। তবে এমন দাপুটে ব্যাটিংয়ের পেছনে পরিকল্পনাই কাজে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্বোধনী ব্যাটার সাদমান ইসলাম। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা এ ব্যাটার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে ধরনের পরিকল্পনা ছিল, সে অনুযায়ী আমরা যাচ্ছি।’
দিনের শুরুতে আয়ারল্যান্ড খেলার সুযোগ পেয়েছিল ১৪ বল। এতেই তাদের বাকি ২ উইকেট নিয়ে নেয় বাংলাদেশের বোলাররা। এরপর থেকেই সাদমানদের দাপট। শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলেন তারা। দলের চাওয়া ছিল উদ্বোধনী জুটির কাছে বড় স্কোর। সাদমানই বলছেন সে কথা, ‘ইচ্ছা ছিল ওপেনিংয়ে যদি ভালো হয়, তাহলে নিচের ব্যাটারদের ভালো একটা জুটি হবে। ওইভাবে কথা বলেই আমরা শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত অনেক ভালো আছে, কালকে (আজ) সারাদিন আছে। ইনশাআল্লাহ ভালো একটা পুঁজি যদি দিতে পারি—আমাদের জন্য ভালো।’ ৬৯ বলে দলীয় ফিফটি আর ১২৪ বলে সেঞ্চুরি—বাংলাদেশের রান তোলার গতি ছিল ওভারপ্রতি প্রায় ৫ করে। টেস্টে খুব বেশি এমন দ্রুত রান তুলতে দেখা যায় না নাজমুল হোসেনদের। কিন্তু সিলেটে সেরকম কিছুর পেছনে কি কোনো বিশেষ কারণ ছিল! এমন প্রশ্নে সাদমান বললেন, ‘এমন (দ্রুত রান তোলার) পরিকল্পনা ছিল না। বলের মেরিট অনুযায়ী যে ধরনের বল ছিল ওরকম... যেটা মারার বল ছিল সেটা মেরেছে। যেটা ভালো বল সেটা সম্মান করেছি। ওইরকমভাবেই আমরা ব্যাটিং করছিলাম। তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না।’ এমন ব্যাটিং স্বর্গে সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি সাদমানের। ৮০ রান করে থামতে হয়েছিল তার। দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আফসোসও আছে এই ওপেনারের, ‘অবশ্যই, সেঞ্চুরি না হলে তো একটা আফসোস থাকে। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যতটুকু দিচ্ছেন ওইটা নিয়েই খেলে যাব। আমি চেষ্টা করব যদি পরবর্তী সময়ে এরকম জায়গায় থিতু হতে পারি, চেষ্টা করব বড় করার।’
সাদমান না পারলেও অন্য প্রান্তে থাকা মাহমুদুল ঠিকই পেরেছেন। টেস্টে গত কয়েক বছর নিয়মিত নন তিনি। ছন্দহীনতায় একাদশে সুযোগ পেতে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে। অবশ্য সুযোগ পেয়ে সেটাকে কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবেই। ক্যারিয়ারসেরা ১৬৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন তিনি। তার সামনে এখন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের ছোঁয়ারও সুযোগ। ব্যক্তিগত দুইশর মাইলফলক। সাদমানের সঙ্গে ১৬৮ রানের জুটি ছিল মাহমুদুলের। সাদমানও তাই লম্বা জুটির সঙ্গীর প্রশংসা করলেন এভাবে, ‘জয় (মাহমুদুল) অনেক সুন্দর ব্যাটিং করছে, এখনো আছে। আশা করি, দোয়া করি যেন আরও বড় বা ভালো একটা স্কোর আমাদের দিতে পারে।’ প্রতিপক্ষকে কত রানের লক্ষ্য দিতে চায় বাংলাদেশ! সে পরিকল্পনা এখনো করেনি টিম ম্যানেজমেন্টে, এমনটা নিশ্চিত করেন সাদমান, ‘এখনো তেমন কোনো পরিকল্পনা হয়নি। আমাদের ব্যাটাররা ব্যাটিং করছেন। যতটুকু ব্যাটিং করা যায়, এটাই পরিকল্পনা।’ শেষ পর্যন্ত কোথায় থামেন তারা, সেটাও দেখার। এখনো ব্যাটিংয়ে আসার অপেক্ষায় নাজমুল, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো বিশেষজ্ঞ ব্যাটাররা।