

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ঘিরে আছে ফিক্সিংয়ের কালো থাবা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিপিএলও এর ব্যতিক্রম নয়। বছরের পর বছর ফিক্সিং বিতর্কের মধ্যেই আটকে আছে জনপ্রিয় এই লিগটি। তবে এবার সেই কলঙ্ক মুছতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফিক্সিং রুখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। আসন্ন আসর থেকেই এই টুর্নামেন্টকে কড়া নজরদারিতে রাখতে যাচ্ছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বিপিএলের ফিক্সিং ঠেকাতে বিসিবির নবগঠিত ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শাল এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। তারই অংশ হিসেবে রোববার দেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ছিবগাত উল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আসন্ন বিপিএল সামনে রেখে দুর্নীতি দমন ও নজরদারির কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি। ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিপিএল নানা সময় ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং বিতর্কে জড়িয়েছে। অতীতে এসব অভিযোগের কারণে টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। শুরুর দুই মৌসুম যেতেই ২০১৪ সালের বিপিএলকে স্থগিত করতেও বাধ্য হয়েছিল বিসিবি। ২০১৩ সালের বিপিএলে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় বিপিএল অ্যান্টি-করাপশন ট্রাইব্যুনাল। যার মধ্যে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়; বাকি পাঁচ বছর মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল তার। এই প্রেক্ষাপটে বিপিএলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে প্রথমে এক বছরের জন্য পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তাকে বিসিবির নবগঠিত ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান করা হয়। বিপিএলের ১১তম আসরে ব্যাপক আকারে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ৯০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছিল বিসিবিতে। তার ভিত্তিতে বিপিএলের আগামী আসরের নিলাম থেকে বাদ দেওয়া হয় ৯ ক্রিকেটারকে। তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়ও। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মার্শাল। সিআইডি প্রধান ছিবগাত উল্লাহ জানান, মার্শালের সঙ্গে বৈঠক মূলত বিপিএলকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সিআইডির পক্ষ থেকে সহযোগিতা, ‘হ্যাঁ, আমরা পুরো বিসিবি টিমের সঙ্গে বসেছি। তাদের লিগ্যাল প্রতিনিধিরাও ছিলেন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।’
তিনি জানান, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সঙ্গে যুক্ত সিআইডি কর্মকর্তারাও এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। কাজের পরিধি নিয়ে ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ‘আমি বিস্তারিত বলছি না, তবে কিছু আন্তর্জাতিক নীতি ও প্রোটোকল রয়েছে, যেগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। আইসিসি থেকে আসা একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে মার্শালের সঙ্গে আমাদের সাইবার পুলিশিং কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেছেন। আমরা দেখছি আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যেতে চাই, কোথায় ধূসর এলাকা বা ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাঠামো দাঁড় করানো হচ্ছে।’ ক্রিকেট দুর্নীতিমুক্ত করতে মার্শাল ও সিআইডি কাজ করবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। আমরা চাই এটি যেন কলঙ্কমুক্ত থাকে। সেই লক্ষ্যেই সিআইডি, অ্যালেক্স মার্শাল এবং বিসিবি একসঙ্গে কাজ করছে।’
এবারের বিপিএলের প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গেই থাকছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। আসন্ন এই মৌসুমে বাড়তি নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা টুর্নামেন্টকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।