

মাত্র ৫০ টাকার ভাড়া নিয়ে ছাত্র-শ্রমিক দ্বন্দ্বে বাসে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগে ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাস মালিকরা। তারা অভিযোগ করেছেন, সামান্য ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে পার্কিং করা শতাধিক বাস ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহনের কাউন্টারগুলোয় ভাঙচুর এবং নগদ টাকা লুট করেছে। গতকাল রোববার দুপুরে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেনসহ মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এমন অভিযোগ করেন।
এদিকে, বাস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং শ্রমিকদের আহত করার প্রতিবাদে বরিশাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, ভাঙচুরের কারণে বাসগুলো এখন চলাচলের উপযোগী নয়। তাই ক্ষতিপূরণসহ সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত বরিশাল থেকে দেশের সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
এদিন সকাল থেকে ঢাকাসহ দেশের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরদূরন্তের যাত্রীরা। তারা ঝুঁকি নিয়ে থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকে গন্তব্যে যাত্রা করছেন। চলমান এ সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় হিজলা থেকে বরিশালে ফেরার পথে হাফ ভাড়া দেওয়া নিয়ে বাসের সুপারভাইজার এবং হেলপারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বক্করের। শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে হিজলা থেকে বরিশালে বাস ভাড়া ৫০ টাকার স্থলে ২৫ টাকা দিতে চেয়েছিলেন ওই শিক্ষার্থী, তা না নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বাসের শ্রমিকরা। বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় একদল শ্রমিক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে দফায় দফায় হামলা, পাল্টা হামলা এবং সংঘর্ষে জড়ান শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা। এতে উভয়পক্ষের অর্ধশত ছাত্র-শ্রমিক আহত হন।
এ ঘটনার জেরে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে নূর পরিবহন নামের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর করা হয় শতাধিক বাস। এর ফলে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে সাড়ে তিন ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও গতকাল সকাল থেকে ফের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন মালিক ও শ্রমিকরা।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন দাবি করেছেন, নথুল্লাবাদ টার্মিনালের মধ্যে থাকা একটি বাসও অক্ষত নেই। প্রতিটি বাসেই গণহারে ভাঙচুর করা হয়েছে। টার্মিনালের মধ্যে দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলোয় ভাঙচুর করা হয়েছে। গেট ভেঙে সমিতির মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করেছেন শিক্ষার্থীরা। ভেতরে ঢুকতে না পেরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছেন। আমরা যে জীবন নিয়ে বাসায় ফিরতে পারব, তাও ভাবিনি।
তিনি আরও বলেন, এখানে শুধু ভাঙচুর হয়েছে তাই নয়, পরিবহনের কাউন্টারগুলোয় লুটপাটও করা হয়েছে। শিক্ষার্থী পরিচয়ে হামলাকারীরা কাউন্টার থেকে নগদ কয়েক লাখ টাকা লুট করেছেন। শুধু গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার থেকে তারা ৪ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত বরিশাল থেকে সারা দেশে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ অধ্যক্ষ ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সূত্রপাত বিএম কলেজ ছাত্রের মাধ্যমে হলেও হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় অংশ নিয়েছে একাধিক কলেজ ও স্কুল শিক্ষার্থীরা।
তিনি বলেন, বাসে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ যারা করেছে তারা কোথাকার শিক্ষার্থী, সেটা তো আগে খুঁজে বের করতে হবে। ছাত্ররা বলেছে, ঘটনার সময় কিছু টোকাই পোলাপান ওখানে ভাঙচুর এবং বাসে আগুন দিয়েছে। তার পরও বিষয়টি নিয়ে মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা আমাদের জানাবেন। এরপর ক্ষতিপূরণ বা সমাধান নিয়ে ভাবা যাবে।