ফরহাদ সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলা

মোট সাক্ষী ৫০, তিন বছরে সাক্ষ্যগ্রহণ ছয়জনের

মোট সাক্ষী ৫০, তিন বছরে সাক্ষ্যগ্রহণ ছয়জনের

চট্টগ্রামের শিশু আয়াত হত্যার তিন বছর পার হয়ে গেলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রমে তেমন অগ্রগতি হয়নি। মামলায় মোট ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে নিহত শিশুর পরিবার। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকেলে নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট এলাকার আলি মুন্সি সড়কের বাসা থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত। পিবিআই জানায়, আয়াতকে অপহরণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করে দেহ ছয় টুকরো করে সাগর ও খালের দুই জায়গায় ফেলে দেয় ভবনের ভাড়াটিয়া আবির আলী। টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে এমন নির্মম পরিকল্পনা করে সে। পুলিশ জানায়, আয়াতকে অপহরণের পেছনে ছিল মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্য। আবির চেয়েছিল আয়াতের পরিবারের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা আদায় করে সেই টাকায় তিনটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে বড়লোক হতে; কিন্তু শিশুটি কান্না শুরু করলে সে তাকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ব্যাগে ঢুকিয়ে প্রথমে ছাদে রেখে পরে টুকরো করে খালে ও সাগরে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় আবিরের বাবা ও মাকে। এরপর গ্রেপ্তার হয় হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতাকারী এক কিশোর। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর পিবিআই পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় আবিরকে, আর তার বাবা-মাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। কিশোর সহযোগীকে ‘দোষী’ হিসেবে চিহ্নিত করে আলাদাভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। মোট ৩৫৭ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয়েছে ৫০ জনকে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন চট্টগ্রাম মহানগর ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে। সর্বশেষ গত ১৩ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী আয়াতের বাবা সোহেল রানা। সোহেল রানা বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রম খুবই ধীরগতিতে চলছে। আমি বারবার বিচারককে অনুরোধ করেছি, সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ যেন মাসে মাসে হয়। আমার স্বাস্থ্য ভালো নয়, জানি না জীবিত থাকাকালে মেয়ে হত্যার বিচার দেখতে পারব কি না।’ মানবাধিকার কর্মী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলাগুলো ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির দাবিতে আমরা বহুদিন ধরে কথা বলছি। এ ধরনের মামলায় দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ সন্তানের পরিবারকে আরও হতাশ করে তোলে।’ এ বিষয়ে সরকারি কৌঁসুলি মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরাও চাই এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। প্রধান আসামি এখনো কারাগারে রয়েছে। ৫০ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। চেষ্টা করছি দ্রুত শেষ করতে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হাতুড়িপেটা করল সন্ত্রাসীরা

রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা রাশিয়া-ইউক্রেনের

পর্যটকদের ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ কমাতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড

পেয়ারা দোকানিকে মারধর ছাত্রদল নেতার, প্রতিবাদে সিনিয়রকে পা ভাঙার হুমকি

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে, সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া জানালেন মির্জা ফখরুল

ঝালকাঠিতে মাদকসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

সাত মাসে সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় ১০৮ জনের মৃত্যু

পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে ভারতজুড়ে নীরব মোমবাতি মিছিলের ডাক সিজেপির

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

মানবাধিকার ইস্যুতে ইইউর অবস্থানকে ‘ভণ্ডামি’ বলল ইরান

১০

শিশু ইসরাফিলের চিকিৎসায় প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা

১১

জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল: শামসুজ্জামান দুদু

১২

সাঙ্গু নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবি, পর্যটক নিখোঁজ

১৩

দিনাজপুরে ৯ নারীর পুশ-ইন ঠেকাল বিজিবি, সীমান্তে উত্তেজনা

১৪

৪৩ সাংবাদিককে হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিতের দাবি বিপিজেএফের

১৫

২০২৬ সালে বসবাসের জন্য ইউরোপের সেরা শহর কোনগুলো?

১৬

ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মেঘমল্লারের পদত্যাগ

১৭

৪৮ ফিলিস্তিনিকে ধরে নিয়ে গেল ইসরায়েলি বাহিনী

১৮

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন প্রশ্নে মুখ খুললেন রিজভী

১৯

এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আগে দেখেনি গ্রামবাসী

২০
X