

আমাদের জীবনযাত্রায় গতি ধরে রাখতে হাঁটু একটি অপরিহার্য জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি। শরীরের সম্পূর্ণ ভার বহনকারী এই সন্ধিতে যখন ব্যথা শুরু হয়, তখন সিঁড়ি ভাঙা, বসা বা হাঁটাচলা, এমনকি নামাজ পড়াও কঠিন হয়ে পড়ে। হাঁটু ব্যথা বর্তমানে কেবল বয়স্কদের সমস্যা নয়; আঘাত, ভুল জীবনধারা এবং অসচেতনতার কারণে তরুণ-তরুণীরাও এ যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার শিকার হচ্ছে। সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের হাঁটু ব্যথায় ভোগার হার বেশি।
সাধারণ কারণ: হাঁটু ব্যথার কারণ বহুবিধ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বয়সজনিত ক্ষয় ও রোগ, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট, আঘাতজনিত বা কাঠামোগত সমস্যা, লিগামেন্টের আঘাত, মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়া, অস্ত্রোপচারের পরে ক্রমাগত ব্যথা, পেশির দুর্বলতা, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।
লক্ষণগুলো: ব্যথার পাশাপাশি রোগীর হাঁটু ফুলে যাওয়া বা লালচে হওয়া, হাঁটুর সন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং পুরোপুরি ভাঁজ করতে বা সোজা করতে না পারা, হাঁটুতে গরম অনুভব হওয়া, হাঁটাচলা বা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বাড়া, হাঁটুতে ঘষা লাগার মতো বা কটকট শব্দ অনুভূত হওয়া, হাঁটুর শক্তি কমে যাওয়া, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা ইত্যাদি।
কেন ফিজিওথেরাপি: ফিজিওথেরাপি কেবল ব্যথানাশক ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের বিকল্প নয়, সঠিক ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা বহুলাংশে কমে আসে।
ফিজিওথেরাপির ভূমিকা: ফিজিওথেরাপি হাঁটুর ফাংশন উন্নত করে, হাঁটুর স্থিতিশীলতা বাড়ায়, জয়েন্ট সচল রাখে, পেশি শক্ত করে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা প্রতিরোধ করে। তাই হাঁটুর ব্যথা অনুভব করলে সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা: একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর হাঁটু ব্যথার কারণ ও তীব্রতা বিশ্লেষণ করে একটি সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। হাঁটু ব্যথার চিকিৎসায় কিছু ফিজিওথেরাপি টেকনিক যেমন- থেরাপিউটিক ব্যায়াম, ম্যানুয়াল থেরাপি, মোবিলাইজেশন থেরাপি, ইলেকট্রোথেরাপি, ট্রান্সকিউটেনিয়াস ইলেকট্রিকালনার্ভ স্টিমুলেশন (টেনস), আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, পালসড শর্টওয়েব থেরাপি, শারীরিক ভঙ্গি এবং হাঁটাচলার প্রশিক্ষণ, হিট বা কোল্ড থেরাপি।
সতর্কতা: দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা যাবে না, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করতে হবে, হাঁটুতে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া, সিঁড়ি ওঠানামা বা ভারী বোঝা বহনে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা।
হাঁটুর ব্যথাকে অবহেলা নয়। হাঁটুর ব্যথা থেকে সাময়িক উপশমে আইস থেরাপি বা হিট থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার ও সচেতন হাঁটুর ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
উম্মে ছালমা
বাত-ব্যথা, প্যারালাইসিস, স্পোর্টস ইনজুরি ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-পল্লবী।