শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত’দের পেছনে খরচ ২৮০০ কোটি

ইসলামী ব্যাংক
‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত’দের পেছনে খরচ ২৮০০ কোটি

বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে ‘অবৈধভাবে’ নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের পেছনে বছরে প্রতিষ্ঠানটির খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এই হিসাবে ২০১৭ সালে ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ‘অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত’দের বেতন-ভাতায় খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের দেওয়া বেতন-ভাতা আইনি দৃষ্টিতে বৈধ নয়। তাই এসব অর্থ ফেরত পেতে ব্যাংকের আদালতে যাওয়া উচিত।

‘অবৈধভাবে’ চাকরিতে ঢোকা এই কর্মকর্তাদের মধ্যে ২০০ জনকে গত দুদিনে ছাঁটাই করেছে ইসলামী ব্যাংক। পাশাপাশি ৪ হাজার ৭৭১ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণাধীন (ওএসডি) করা হয়েছে। ওএসডি হওয়া মানে তাদের বেতন-ভাতা অব্যাহত থাকবে, তবে কোনো কাজ বা দায়িত্ব থাকবে না।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ‘অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত’ এই কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং এস আলম গ্রুপের প্রভাবের সময় পরীক্ষা না দিয়ে শুধু সিভি জমা দিয়ে তারা চাকরিতে ঢুকেছিলেন।

ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার। এর অর্ধেকের বেশি কর্মী চট্টগ্রাম অঞ্চলের। অথচ ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ব্যাংকের মোট কর্মী ছিলেন ১০ হাজার। এরপর থেকেই যোগ্যতা বিবেচনা না করে অযোগ্যদের চাকরিতে নেওয়া শুরু হয়, যা ব্যাংকের আর্থিক সংকট ও সুনামহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংককে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে নতুন পর্ষদ নিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নিয়েই প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীর মান বা যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। সিনিয়র অফিসার থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ পরীক্ষার আওতায় আনা হয়।

জানা গেছে, ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ গত ১৪ আগস্ট পরীক্ষার তারিখ ২৯ আগস্ট নির্ধারণ করেছিল। পরে ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার মো. হানিফ ২৭ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করলে আদালত বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ পর্যালোচনা করে ২৫ সেপ্টেম্বর জানায়, ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই কর্মীদের চাকরি, নিয়োগ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তাদের নিজস্ব এখতিয়ারে। তবে সিদ্ধান্তগুলো অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের মধ্যে হতে হবে।

এ সিদ্ধান্তের আলোকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা গ্রহণ করে, যা শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৫ হাজার ৩৮৫ কর্মীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশ নেন এবং তারা নিয়মিত অফিসও করেছেন। তবে বাকি ৪ হাজার ৯৭১ জন পরীক্ষা এড়িয়ে পরদিন অফিসে হাজির হন। এদের মধ্যে ২০০ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বাকি ৪ হাজার ৭৭১ জনকে তাদের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

পরীক্ষা আয়োজনের আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক থেকে একটি নোটিশ জারি করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়। তবে পরীক্ষার দিন বহু কর্মী পরীক্ষায় না বসে বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। তারা সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে পরীক্ষার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হয়নি দাবি করে তারা বলছেন, হাইকোর্ট নিয়মিত প্রোমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নতুন করে বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন করেছে, যা আদালতের আদেশের পরিপন্থি।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কর্মীদের মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা নেওয়া বাংলাদেশে নতুন অভিজ্ঞতা। এর আগে ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে এভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। সাধারণত পদোন্নতির জন্যই ভাইভা বা লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংককে এখন দুই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—প্রথমত, তারা কেন পরীক্ষাহীনভাবে হাজারো কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল এবং দ্বিতীয়ত, কেন এখন ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নিচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে, যদি ব্যাংকের নীতিমালায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান থাকে, তবে তারা তা করতে পারবে। ফলে বিষয়টি এখন আদালত ও ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

কর্মীদের ছাঁটাই ও কাজ থেকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তাদের মধ্য থেকে অতিরিক্ত উগ্র আচরণ করা ২০০ জনকে গত দুদিনে ছাঁটাই করা হয়েছে। বাকিদের আপাতত ওএসডি করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া কর্মকর্তাদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক তাদের ওপর পরীক্ষা চাপিয়ে দিয়েছে। মোহাম্মদ ইস্কান্দার সুজন, এস এম এমদাদ হোসাইন, মোহাম্মদ ইকবাল, দিলরুবা আক্তার, শারমিন আক্তার ও নাসরিন জান্নাত নামে কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হানিফ সংকেতের ‘চৈতন্যে’ জুলাই নাই: সারোয়ার তুষার

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১০

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

১১

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

১২

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

১৩

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

১৪

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

১৫

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

১৬

সান মারিনো ম্যাচের একাদশে নেই শমিত

১৭

ইউএনওর অভিযানে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

১৮

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

১৯

ভারতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার ক্লার্ক

২০
X