

মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি হওয়া পণ্য চালান খালাসের দায়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এনএম ট্রেডার্সের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করে কমলাপুরের অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কাস্টম হাউস। যে পণ্য চালানের জন্য লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত হয়েছে, সেই পণ্য চালাক আটক থাকার পরও কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সটি খুলে দিয়ে নতুন করে পণ্য চালান খালাসের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এ সুযোগে মাত্র তিন দিনের মাথায় চারটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার পণ্য খালাস নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে মেসার্স সাদাফ ট্রেডিংয়ের আমদানি করা পণ্য চালানে বড় ধরনের মিথ্যা ঘোষণার প্রমাণ পায় কমলাপুর কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। শুল্ক ফাঁকির অপরাধে এখনো পণ্য চালানটি কমলাপুর কাস্টম হাউসে আটক রয়েছে। এ চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এন এম ট্রেডার্সের। শুল্ক ফাঁকি দিতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনার অপরাধে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করেন তৎকালীন লাইসেন্সিং কমিটির সভাপতি। সম্প্রতি লাইসেন্সিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি পদোন্নতি পেয়ে কমিশনার হিসেবে বদলি হয়ে যান। আইসিডি কমলাপুরের লাইসেন্সিং কমিটির নতুন সভাপতি হন যুগ্ম কমিশনার বিল্লাল হোসেন। সভাপতি হয়েই তিনি সাময়িক স্থগিত করা এন এম ট্রেডার্সকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিল্লাল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে এন এম ট্রেডার্সকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’ মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য চালান আটক থাকার পরও কীসের ভিত্তিতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে কমলাপুর কাস্টম হাউসের কমিশনার ড. নাহিদা ফরিদী জানান, তিনি এন এম ট্রেডার্সের বিষয়ে অবগত নন। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন বলেও জানান।
কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ এন এম ট্রেডার্স অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কোটি টাকার চারটি পণ্য চালান খালাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। তবে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটির দাবি অভিযোগ থেকে শুনানির মাধ্যমে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
জানতে চাইলে এন এম ট্রেডার্সের রফিক কালবেলাকে বলেন, ‘মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানিতে আমার কোনো দায় নেই। কারণ, আমদানিকারকের মিথ্যা ঘোষণার বিষয়টি আমি জানতাম না। যার কারণে আমার লাইসেন্সের সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য কাস্টম হাউসে আবেদন করি। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে।’