

চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এখনো উচ্ছেদ আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাটেনি। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাটিতে বসবাসরত নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের বসতি হঠাৎ হারানোর ভয় এবং বিভিন্ন মহলের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আলোচনা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে।
গত ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও অপরাধ চক্রের বিস্তারের কারণে রাষ্ট্রের ভেতরে একটি সন্ত্রাসী কাঠামো গড়ে উঠেছিল, যার অন্যতম উদাহরণ জঙ্গল সলিমপুর। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধের শেষ আশ্রয়ও ধ্বংস করা হবে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে জঙ্গল সলিমপুর থেকে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের মধ্যেই রাখা হবে।
তবে প্রশাসনের এই অবস্থান ও মন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক পুরোপুরি দূর হয়নি। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মহল থেকে ‘উচ্ছেদ হবে’, ‘এলাকা ভেঙে দেওয়া হবে’, ‘সরকার উন্নয়ন প্রকল্প করলে এখানে থাকা যাবে না’—এ ধরনের কথা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এতে জনমনে ভয় বাড়ছে এবং কোথাও কোথাও উত্তেজনাও তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রীর সফরের সময় জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কয়েকশ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই উচ্ছেদ আতঙ্ক ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, তারা কোনো সহিংসতা বা অপরাধ চক্রের অংশ নন, বরং বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করা সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ চক্রের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘এলাকায় দীর্ঘদিনের অবৈধ অর্থনৈতিক স্বার্থ হারানোর আশঙ্কা থেকেই একটি চক্র পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে এলাকা নিয়ন্ত্রণে আছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।’
রাষ্ট্রীয় কঠোর অবস্থান ও চলমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও জঙ্গল সলিমপুরে মূল সংকট হিসেবে রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ ও বসতি নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও উচ্ছেদ আতঙ্ক।