কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আবাসনে সুযোগ থাকছে কালো টাকা সাদা করার

ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

দেশে জনসংখ্যা বাড়ায় আবাসনের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। এ সুযোগ কাজে লাগাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। জানা গেছে, কালো টাকা সাদা করার পাশাপাশি জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে উল্লিখিত মূল্যের তুলনায় প্রকৃত মূল্য কম দেখানো হলে পরে অতিরিক্ত অর্থ স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা দিয়ে নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন বক্তব্যে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার বিধান আলোচনা ছাড়াই বিলের অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়। একই সঙ্গে এ টাকার উৎস নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, সে বিধানও রাখা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, এটি দেশের অর্থনীতিতে বৈষম্য তৈরি করবে। কারণ, সরকারি-বেসরকারি কিংবা ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সহজেই কর ফাঁকি, অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়াবেন। এক শ্রেণির মানুষ শত বিঘা জমি ও হাজার হাজার ফ্ল্যাটের মালিক বনে যাবেন, আর আরেক শ্রেণির মানুষ এসব ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকবেন বছরের পর বছর। এতে বৈষম্য বাড়তে থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সমালোচনার মুখে তারা সে সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়। দুই দশক পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আবার কালো টাকা সাদা করার পথ তৈরি করেছে। আগামীতে যে কেউ আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করতে পারবেন। এ সুযোগ রেখে অর্থবিলে আয়কর আইন ২০২৩ এর প্রথম তপশিলে সংশোধন এনেছে।

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার উৎস নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে সে বিধানও রাখা হয়েছে। এ বিধান রেখে বৃহস্পতিবার নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিকেল ৩টায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করেন।

অর্থবিলে আয়কর আইন ২০২৩-এর প্রথম তপশিল সংশোধনে বলা হয়, ‘এ আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি ‘স্বপ্রণোদিতভাবে’ প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তি এর ‘উৎস’ এবং এর বিপরীতে ‘পরিশোধিত করের’ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।’

এ বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘ক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি হলে, তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের উপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যেভাবে একটা ধাপ অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা থাকে, তারপর বিভিন্ন ধাপে আয় হলে তার ওপর করহার পরিবর্তন হয়, এক্ষেত্রেও তাই হবে। একইভাবে যিনি বিক্রি করে অপ্রদর্শিত অর্থের মালিক হবেন এবং বৈধ করতে চাইবেন তার জন্যও বিধান রাখা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘বিক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা ‘অধিক’ হলে, তিনি ‘অপ্রদর্শিত’ ওই অতিরিক্ত অঙ্কের ওপর ‘মূলধনি মুনাফা’র জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করবেন। অর্থাৎ, তিনি এই জমি যখন কিনেছেন তখন যে মূল্য ছিল এবং তিনি যে টাকায় বিক্রি করেছেন এর মধ্যে যে ব্যবধান থাকবে, সেটিই তার মুনাফা। এবং এ আয়ের ওপর তাকে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি তার অপ্রদর্শিত অর্থ ‘স্বপ্রণোদিত’ বৈধ করার আগেই আয়কর আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো অডিট বা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, তাহলে তখনো তিনি এ অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তার সেই অর্থের ওপর তখন যে কর ধার্য হওয়ার কথা, তার চেয়ে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে তাকে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন রিহ্যাব বলছে, বাজেটে এ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো নজরে এসেছে, তাতে আবাসন খাতের জন্য প্রত্যাশিত কোনো কার্যকর নীতিসহায়তা বা প্রণোদনার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রডের ওপর সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ নির্মাণ ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফ্ল্যাটের মূল্য এবং সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।

রিহ্যাব আরও বলছে, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের সঙ্গে প্রায় ২৬৯টি লিংকেজ শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ফলে আবাসন খাতের গতি কমে গেলে শুধু ডেভেলপার বা ক্রেতারা নয়, রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, আসবাবপত্র, পরিবহনসহ অসংখ্য শিল্প এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নির্মাণব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার ফলে আবাসন খাত আরও সংকুচিত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও পড়বে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‎চর দখল নিয়ে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ভারতের ভিসা আবেদন নিয়ে আইভ্যাকের নতুন নির্দেশনা

লেবাননের প্রতি ‘সম্মান দেখানো’ শান্তিচুক্তির অংশ : ইরান

১৯ বছর পর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, স্মৃতিতে মেসির জাদু

বাজেটে আবাসন খাতের গুরুত্বপূর্ণ দাবি উপেক্ষিত, ফ্ল্যাটের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা

খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া তরুণের অস্বাভাবিক মৃত্যু

‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

ফরিদপুরে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

‘স্বাস্থ্যসেবার আজ ও আগামী’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

১০

হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে ‘আমার ফাঁসি হয়েছে’: আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

১১

সর্বকালের সবচেয়ে ‘সমালোচিত’ বিশ্বকাপের সাক্ষী হচ্ছে বিশ্ব?

১২

এভারেস্টজয়ী নুরুননাহারকে পূবালী ব্যাংকের সংবর্ধনা

১৩

সাংবাদিকদের প্রতি ইসলামী আন্দোলনের বিশেষ আহ্বান

১৪

তদন্তে মিলল জামায়াত নেতার চাঁদাবাজির অভিযোগ

১৫

আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন

১৬

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিলিভারের যৌথ উদ্যোগে করপোরেট সেশন

১৭

শিক্ষক, গবেষক তৈরির লক্ষ্যে ড্যাফোডিলে টিএএফ ও অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রামের আবেদন শুরু

১৮

কোটি টাকা নিয়ে ঘোরার অভিযোগ / মন্ত্রী সাহেবকে জিজ্ঞেস করেন ‘প্রুফটা দেখাতে’: আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

১৯

ইসলামী ব্যাংকের জন্য নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের প্রচেষ্টা চলছে : নতুন প্রশাসক

২০
X