

ভারতের বিহারের আলোচিত খান স্যার কোচিং সেন্টারে হামলায় করা মামলার অন্যতম আসামি প্রিন্স যাদবকে নেপালের একটি হোটেলে রহস্যজনকভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তিনি কোচিং পরিচালক রোশন আনন্দের ছোট ভাই। ঘটনার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং তার পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুন পাটনায় জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়সাল খান, যিনি খান স্যার নামে পরিচিত, তার কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি ছিলেন প্রিন্স যাদব। মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নেপালে পালিয়ে যান এবং কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে বিরাটনগরের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
শনিবার গভীর রাতে হোটেল কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তার মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
প্রিন্স যাদবের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা নেপালে ছুটে যান। পরিবারের দাবি, ঘটনাটির পেছনে রহস্য রয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে।
এদিকে পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন, যদিও এখন পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং দেওয়ার জন্য ফয়সাল খান (খান স্যার) তৈরি করেন খান গ্লোবাল স্টাডিজ। ক্রমেই তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ যদি হয় মাতৃভাষায় (হিন্দি) শিক্ষাদানের অনন্য পদ্ধতি, দ্বিতীয় কারণ তাহলে সস্তায় শিক্ষাদান।
সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীরা যাতে অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে লক্ষ রেখেই খান স্যার ওই কোচিং সেন্টার খোলেন। প্রতিষ্ঠিত কোচিং ইনস্টিটিউটগুলো যেখানে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ফি দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে থাকে, খান স্যারের কোচিং সেন্টার সেখানে ফি নেয় সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজার রুপি।
খান গ্লোবাল স্টাডিজ দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ায় একই পদ্ধতিতে পাটনায় খোলা হয় আরও কোচিং ইনস্টিটিউট। তারই অন্যতম রওশন আনন্দর জ্ঞান বিন্দু। এই দুই কোচিং সেন্টারের মধ্যে পেশাগত রেষারেষি শুরু থেকেই। রেষারেষির দরুন আগেও খান স্যারের কোচিং সেন্টারের ওপর হামলা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনায় প্রিন্স যাদবের বিরুদ্ধে নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ ছিল। ওই ঘটনায় তার ভাই রোশন আনন্দসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে হামলার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এলে নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। এ ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের করে পুলিশ এবং খান স্যারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রিন্স যাদবের আকস্মিক মৃত্যু এখন বিহারের বহুল আলোচিত এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে। নেপাল ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। বর্তমানে কোচিং সেন্টার এলাকায় পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে।