

সংগীতশিল্পী ও পরিচালক আহমেদ হাসান সানি। ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ শিরোনামের সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসছে ১৯ ডিসেম্বর। সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। আরও আছেন আজাদ আবুল কালাম, তানভীর অপূর্ব, এ কে আজাদ সেতু, কেয়া আলমসহ অনেকে। সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন খালিদ মাহমুদ। এ সিনেমার প্রেক্ষাপট ও নিজের প্রত্যাশা নিয়ে সানির সঙ্গে কথা হয় কালবেলার। লিখেছেন মহিউদ্দীন মাহি
মুক্তির অপেক্ষায় নিজের প্রথম সিনেমা, কেমন অনুভব করছেন?
এ অনুভূতিটা শিশুদের মতো। যেখানে সবাই আছে, যেমন চরম উত্তেজনা আছে, তেমনই ভয়ও আছে। যেটা থাকাটা স্বাভাবিক বলেই আমি মনে করি। কারণ, জীবনের প্রথম যে কোনো কাজই করার ক্ষেত্রে আলাদা ভালোলাগা থাকে, কাজটির প্রতি যত্নও থাকে বেশি। সেসব ভালোলাগা থেকেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। সিনেমাটি মুক্তির সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনা ও ভয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চাপে আছেন?
কিছুটা, তবে ভালোলাগাটাই বেশি কাজ করছে। কারণ, আমাদের পুরো টিম সিনেমাটিকে দারুণভাবে ভালোবেসে যত্ন নিয়ে সম্পূর্ণ করেছে। তাই আমি আশাবাদী দর্শক আমাদের চাপে ফেলবে না। তারা ভালোবেসে আমাদের পরিশ্রমকে সফল করবেন।
সিনেমার নামটি নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে। বিষয়টি কেমন লাগছে?
নামটি আমাদের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এটি রাখার পেছনেও কিছু কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে, আমাদের সবাইকেই রাজনৈতিক আলাপ স্বাধীনভাবে করার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বিগত দিনে। প্রায় সময় বিভিন্ন জায়গায় লেখা থাকে ‘রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ’। কিন্তু রাজনৈতিক আলাপটা আসলে জরুরি। মানুষ যত বেশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হবে, ততই দেশ নিয়ে ভাবতে শিখবে। আমরা এ সিনেমার মাধ্যমে সেই জায়গাটিতে টাচ করতে চেয়েছি। রাজনৈতিক আলাপ যে জরুরি, আমরা এ সিনেমায় সেটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এটি করতে না পারলে মানুষ সামাজিকভাবে যেমন এগোবে না, তেমনি দেশও পিছিয়ে যাবে। এ জায়গা থেকে বের হতেই সিনেমাটি নির্মাণ।
সানি তো গানের মানুষ, এই পরিচয়ে সফলতাও পেয়েছেন। নতুন পরিচয়ে সফলতার সম্ভাবনা কতটা?
আমি গান, সিনেমা সবই করতে চাই জীবনে। দেখি আমার প্রথম সিনেমা দর্শক কতটা ভালোবাসে। সবে তো শুরু হলো চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে। ফল যাই হোক, অভিজ্ঞতটা অসাধারণ হবে—এটি আমি বিশ্বাস করি। এখন দেখি এ জার্নি আমাকে কোথায় নিয়ে যায়।
এ সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী প্লট কোনটি?
এ সিনেমার একটা হৃদয় আছে। সেটিই সবচেয়ে শক্তিশালী।
সিনেমার গানগুলো নিয়ে জানতে চাই? গান দুটি। একটি হচ্ছে ‘দুঃখ দেবে যদি’। গানটির কথা লেখার পাশাপাশি সুর করেছেন সপ্তক সরকার। সংগীতায়োজন করেছেন রুসলান রেহমান। অল্প সময়ে গানটি শ্রোতাদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়া শুরু করেছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছি আমি। অন্যটি ‘রাজনীতি’। এটি র্যাপার সায়েন নূরের লেখা ও সুর করা।
প্রত্যাশা কেমন...
দর্শক দেখুক এবং তাদের মন্তব্য জানাক; এটাই প্রত্যাশা। সবকিছু তাদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।