

মঞ্চে আলোর ঝলকানি, হাততালির গর্জন আর গানের তালে দুলে ওঠা হাজারো দর্শক—এ সময়ের মঞ্চ মানেই যেন বেলী আফরোজ। বর্তমান সংগীতাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় এ গায়িকা তার কণ্ঠ আর উপস্থিতির জাদুতে বারবার মুগ্ধ করছেন শ্রোতাদের। বছরের বেশিরভাগ সময়ই লাইভ কনসার্ট আর টিভি শো নিয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই তার। ঠিক এমন ব্যস্ততার মাঝেই সম্প্রতি কালবেলার মুখোমুখি হন বেলী আফরোজ। সেই আলাপচারিতায় উঠে আসে তার চলমান কাজের ব্যস্ততা, সংগীতজীবনের নেপথ্যের গল্প আর জীবনকে দেখার গভীর, বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। লিখেছেন তামজিদ হোসেন
সম্প্রতি জন্মদিনের কিছু ভিডিও দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ায়। কয়টা কেক কাটলেন আর কততম জন্মদিন পালন করলেন?
এবার আমার জন্মদিনে আটটি কেক কেটেছি। আর কততম জন্মদিবস গেল এটা বলা যাবে না। আমি সবসময় পঁচিশ বছরের একটা মানুষ, এটা বুঝতে হবে। তবে আমি এবার আমার বন্ধুদের কল্যাণে ঘুরে ঘুরে জন্মদিনের কেক কেটেছি।
শোনা যায়, আপনি গান গাওয়ার পাশাপাশি ড্রামও বাজাতে পারেন। ড্রামস বাজানোর এ শখটা কীভাবে এলো?
আমার ভাই একজন মিউজিশিয়ান। তিনি ড্রাম বাজান এবং নিয়মিত ছাত্রদের শেখাতেন। ভাই যখন তার ছাত্রদের ড্রাম বাজানো শেখাতেন, আমি মনোযোগ দিয়ে সব দেখতাম। ছাত্ররা চলে যাওয়ার পর আমি ভাইকে বলতাম, ‘ভাইয়া, তুমি ওদের যেমন করে শিখিয়েছিলে, আমি কি তেমন করে বাজাতে পারি দেখো তো।’ অবাক করার বিষয়, একদিনেই আমি সেটি আয়ত্ত করে ফেলি। এরপর থেকেই ভাইয়ের কাছেই নিয়মিতভাবে আমার ড্রাম বাজানো শেখা শুরু হয়।
চট্টগ্রামের নারীদের ব্যান্ড দল ‘ব্লু বার্ড’-এর আপনি জুনিয়র মেম্বার ছিলেন। সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে?
ড্রাম বাজানো শিখতে শিখতেই ‘ব্লু বার্ড’ টিমের একজন সদস্য আমার ড্রাম বাজানো দেখেন। আমার বাজনা তার নজর কাড়লে তিনি আমাকে ‘ব্লু বার্ড’-এ ড্রামার হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য ইনভাইট করেন। এরপর প্রায় দুই মাস তাদের সঙ্গে নিয়মিত প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাই। সেই প্রস্তুতির ফল হিসেবেই করি আমার প্রথম শো। এভাবেই ‘ব্লু বার্ড’-এর সঙ্গে আমার ড্রামার হিসেবে যাত্রার শুরু হয়।
পাওয়ার ভয়েসের মঞ্চ থেকে আজকের এ অবস্থানে আসা—স্ট্রাগলটা কেমন ছিল?
অনেক কষ্ট করেছি আমি। আমার এমনও হয়েছে যে, আমি একটা চলচ্চিত্রে গান গেয়ে টাকা পেতাম পাঁচ হাজার, তখন তো আমার ঢাকায় বাসা ছিল না, সে সময় আমি খুব নিম্নমানের একটা হোটেলে থাকতাম। তখন রাতে বিরিয়ানি খেয়ে পরদিন নন এসি বাসে করে আবার চট্টগ্রামে ফিরে যেতাম। অনেক কঠিন একটা সময় ছিল তখন আমার, তবে ওই দিনগুলো এখন আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়।
গান কি আপনার প্রধান জীবিকা?
গান আমার ধ্যান, জ্ঞান, জীবিকা সবকিছু। এককথায় গান আমার জীবনের খোরাক।