

নাটোরের সিংড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে লিজ নেওয়া একটি মাছ চাষের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার গাড়াবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
বিষে পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে ওঠায় মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী তরুণ মাছ চাষি রনি মন্ডল। তিনি ওই গ্রামের নুরুল মন্ডলের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রনি মন্ডল তার বাড়ির পাশে এক একর আয়তনের একটি লিজ নেওয়া পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন রাতেও পুকুর দেখে তিনি ঘুমাতে যান। কিন্তু পরদিন সকালে পুকুরে গিয়ে দেখতে পান রুই, কাতলা, মৃগেলসহ চাষ করা সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এই দৃশ্য দেখে পুকুর পাড়েই অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে পুকুরের পানিতে বিষাক্ত কীটনাশকের তিনটি খালি বোতল ভাসতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ ও মিলন হোসেন জানান, পুকুরে বিষাক্ত কীটনাশকের খালি বোতল পাওয়া যাওয়ায় এটি স্পষ্ট যে, শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের দেওয়া বিষের কারণেই মাছগুলো মারা গেছে। এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষি রনি মন্ডল জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই গ্রামের প্রতিপক্ষ মুজিবুর রহমান ও তার লোকজন এই পুকুর নিয়ে আমার সঙ্গে বিরোধ করে আসছিল। তারা আমাকে পুকুর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিল। পুকুরের সব বৈধ কাগজপত্র আমার থাকা সত্ত্বেও কিছুদিন আগে তারা আমার বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। আজ তারা বিষ দিয়ে আমার সব শেষ করে দিল। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এ ঘটনায় সিংড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুজিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো এই বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।