কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চাঞ্চল্যকর মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি সুপ্রিম কোর্ট বারের

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর ও ন্যক্কারজনক অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন। এছাড়া মামলার বিশাল জট কমাতে উচ্চ আদালতে অবিলম্বে বিচারক নিয়োগ, মিথ্যা মামলা বন্ধ এবং হয়রানির শিকার নির্দোষ ব্যক্তিদের জন্য ‘ক্ষতিপূরণ বোর্ড’ গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৪ মে) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য।

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি বলেন, ‘এই নৃশংস, নির্লজ্জ, ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য সমগ্র জাতি আজকে অসম্মানিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদেরও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের অতীতের অভিজ্ঞতা হলো—বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্রুত বিচার করলে এটা কোনো বেআইনি কাজ নয়; বরং দীর্ঘসূত্রিতা করলে মানুষ সেটাকে খারাপ মনে করে।’

নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কারও কোনো সাজা হলে আপিল বিভাগে আসার পর সেই আপিল শুনানি হতে কত বছর লাগবে, কেউ জানেন না। এজন্য সরকারের আশ্বাসেও মানুষ বিশ্বাস করছে না।’

প্রধান বিচারপতির কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনসহ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ তৈরি করুন। বিশেষ বেঞ্চ করলে তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি হবে, জনগণও দেখতে ও বুঝতে পারবে যে বিচার হয়েছে।’

উচ্চ আদালতে বিচারক সংকটের কথা তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘বিচারকের স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। আগে আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চ থাকলেও এখন মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে কাজ চলছে। হাইকোর্টে কারও জামিন হলে এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত করলে সাত-আট বছর ধরে সেটার আর শুনানি হচ্ছে না।’

ঈদুল আজহার ছুটির পরপরই আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিচারক নিয়োগের আইন না থাকায় এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। সরকার এভাবে ধীরগতিতে চলতে পারে না। লম্বা সিরিয়ালের কারণে মানুষের বিচার পেতে দেরি হলে তা দুর্নীতির জন্ম দেয়। কমপক্ষে দুটি বা তিনটি বেঞ্চ যেন করা যায়, আপিল বিভাগে অবিলম্বে সেভাবে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।’

দেশে মিথ্যা মামলার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে তা বন্ধের জোর দাবি জানান সুপ্রিম কোর্ট বারের শীর্ষ এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘ঘটনা ঘটে একটা, মানুষ মারা যায় একজন, গুলি করে একজন—কিন্তু আসামি করা হয় ১০০ জনকে। পুলিশও দেখা যায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়, অথচ বিচারে গিয়ে সাজা হয় মাত্র ৫-৭ জনের। এই প্রথা বন্ধ করতে হবে।’

যেসব তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) জেনেশুনে মিথ্যা প্রতিবেদন দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া পুলিশ অফিসারদের পদাবনতি (ডিগ্রেডেশন) করতে হবে, তাদের বেতন-কাঠামো পরিবর্তন ও সাজা নিশ্চিত করতে হবে।’

এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা বা ‘ম্যালিসিয়াস প্রসিকিউশন’-এর শিকার হয়ে যারা বছরের পর বছর জেল খাটেন, তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য ইংল্যান্ডের আদলে দেশে একটি ‘ক্রিমিনাল কম্পেন্সেশন বোর্ড’ গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর বিচারকরা যদি ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়বিচার করেন, তবে মামলার এত জট থাকবে না।’

শিশু রামিশা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির পক্ষে আইনি লড়াই না করার বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি।

বিষয়টিকে ঢাকা বারের ‘নিজস্ব বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি আইনি অধিকারের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, ‘তারা (ঢাকা বার) মনে করলে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে প্রত্যেকটা মানুষের আইনগত আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। একজন আইনজীবীরও অধিকার আছে মামলা লড়ার। আইনিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর যদি আসামির সাজা বহাল থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে আর কারও কোনো সন্দেহ (ডাউট) থাকে না।’

কালবেলা/এএসএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিপদ সতর্কতা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রত্যাহার সৌদি আরবের

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: জাহাঙ্গীর আলম

আন্দোলনের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন মোদির এক মন্ত্রী

বয়স জালিয়াতি করে বিয়ের চেষ্টা, বন্ধ করল প্রশাসন

রাজনৈতিক উত্তাপ নেই / সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: পাবনার পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক

চাঁদা না পেয়ে ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

মধ্যরাতে মোদির ভিডিও বার্তা, প্রশ্নফাঁস রোধে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

কারও কথায় কান দেবেন না, বিএনপি আপনাদের নিরাপত্তা দেবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

চট্টগ্রামে জমে উঠছে মেয়র নির্বাচন, মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি, নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাল অলিম্পিক কমিটি

১০

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি / মোজতবা খামেনি পরমাণু বোমা বানাতে বেশি আগ্রহী

১১

‘বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে’

১২

দিন-রাত এক করে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

১৩

ছুটির দিনেও তীব্র গ্যাস সংকট, অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন বন্ধ

১৪

সাত অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কসংকেত

১৫

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৬

ট্রাস্ট ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৬০ হাজার

১৭

‘ভিক্ষা নয় কাজ করে বাঁচতে চাই’, অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে স্বাবলম্বী জহিরুল

১৮

লোহিত সাগরে হামলায় গভীর উদ্বেগ জাতিসংঘ মহাসচিবের

১৯

২৫ জুলাই / ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

২০
X