

সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দল তাদের নান্দনিক শৈলী এবং বর্ণাঢ্য ইতিহাসের জন্য পরিচিত হলেও, ফুটবলের আধুনিক পরিবর্তন ও কৌশলগত কারণে বর্তমানে অনেকেই দলটির অন্ধ অনুসারী হওয়া থেকে বিরত থাকতে চান।
জেনে নিন ফুটবলপ্রেমীদের ব্রাজিল সমর্থন না করার ৭ কারণ—
১. আবেগ-সর্বস্ব ও আত্মতুষ্টি : এক সময়ের ‘জোগো বোনিতো’ বা নান্দনিক ফুটবলের ঐতিহ্য থেকে সরে এসে বর্তমানে ব্রাজিল অনেক সময় ফলাফল-ভিত্তিক ও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে, যা দর্শকদের প্রত্যাশিত বিনোদন দিতে ব্যর্থ হয়।
২. দলীয় শৃঙ্খলার অভাব : গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে অনেক সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে অতিরিক্ত মেজাজ দেখানো, লাল কার্ড পাওয়ার প্রবণতা এবং মাঠের বাইরের শৃঙ্খলার অভাব দেখা যায়।
৩. চরম ট্রফি খরা : রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও, দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে কোনো বিশ্বকাপ শিরোপা না পাওয়া এবং বৈশ্বিক মঞ্চে সাম্প্রতিক সময়ে নকআউট পর্ব থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নেওয়া।
৪. ইউরোপীয় ফুটবলের আধিপত্য : আধুনিক ফুটবলে ইউরোপীয় দলগুলোর (যেমন- জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন) ট্যাকটিক্যাল ও শারীরিক শক্তি অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, যার ফলে লাতিন আমেরিকান স্টাইল কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে।
৫. তারকা-নির্ভরতা ও অতি-ব্যক্তিত্ব : দলের একক কোনো বড় তারকার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা অনেক সময় পুরো দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দল হিসেবে খেলার চেয়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
৬. 'সেভেন আপ' ট্রমা : ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক হারটি ব্রাজিল ভক্তদের জন্য এখনো একটি বড় মানসিক ধাক্কা। এই লজ্জা ও ট্রলের ভয়ে অনেকে দলটিকে সমর্থন করতে চান না।
৭. নতুন ও ভারসাম্যপূর্ণ দলের উত্থান : বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে অনেক দেশ (যেমন- আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, এমনকি এশিয়ান জায়ান্ট জাপান) দারুণ কৌশলগত ও সংগঠিত ফুটবল খেলছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের নতুন করে অন্য দল বেছে নিতে উৎসাহিত করছে।
এদিকে ফুটবল ভক্তদের কাছে যে কোনো দলের সমর্থন পরিবর্তন হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়।
যদিও ব্রাজিল সমর্থকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সমর্থকদের ট্রল করে লাভ নেই; মাঠের অর্জনই তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই সেভেন আপ নিয়ে যতই হাসি-ঠাট্টা হোক, তারা নিজেদের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার কথাই সামনে আনেন।
বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে এ ধরনের ট্রল নতুন নয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে পতাকার দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা, জার্সি মিছিল, ব্যানার, পোস্টার, ট্রফির প্রতিকৃতি প্রদর্শন কিংবা সেভেন আপ উপহার-সবই ফুটবলকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক ধরনের উৎসবের অংশ।
তবে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব খুনসুটি যেন সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সেটি যেন কেবল মাঠ ও সমর্থকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ না নেয়।