কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০১:১৪ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চেয়ে ফরহাদ মজহারের কড়া স্ট্যাটাস

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর সঙ্গে গবেষক ফরহাদ মজহার। পুরোনো ছবি
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর সঙ্গে গবেষক ফরহাদ মজহার। পুরোনো ছবি

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের সাবেক অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তি চেয়েছেন কলামিস্ট ও গবেষক ফরহাদ মজহার।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে তিনি চিন্ময় প্রভুর মুক্তি দাবি করেন। পোস্টটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র এবং পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে অবিলম্বে মুক্তি দিন, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ ধর্ম ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল জনগণের নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষা করুন, আত্মঘাতী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ করুন। হিন্দু মানেই দিল্লির দালাল, বিজেপির এজেন্ট, হিন্দুত্ববাদী এ ধরনের ঘৃণাবোধক সাম্প্রদায়িক ট্যাগিং পরিহার করুন।

সর্বোপরি আমাদের বুঝতে হবে- আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশের পক্ষে নয়, বরং বিরুদ্ধে। মোটা মাথা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে সেটা মোকাবিলা করা যাবে না। মূর্খতা পরিহার করুন। যারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে রাজনীতি ব্যাখ্যা করেন ও ক্রমাগত গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেন, তাদের সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এন্টেনা সাফ ও তীক্ষ্ণ করুন।

জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গঠন করবার যে শর্ত তৈরি হয়েছে, তা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটা সম্ভব যদি আমরা পরস্পরের সাথে কথা বলি এবং জাতীয় ঐক্যমত তৈরির মধ্য দিয়ে গণরাজনৈতিক ধারা শক্তিশালী করে তুলি। চাই সকলের আন্তরিক চেষ্টা। আমাদের মধ্যে শুভবুদ্ধি জাগ্রত হোক। আসুন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। আমরা আশা করব, সরকার অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিবে।

১. জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের পর শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে অন্তর্বতীকালীন উপদেষ্টা সরকার গঠিত হয়েছে। একদিকে গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট, অন্যদিকে তথাকথিত আইন ও সাংবিধানিকতার আওয়ামী ফাঁদ – উভয়ের টানাপড়েনে পুরানা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী রাষ্ট্রই আসলে কায়েম রয়েছে। আমরা অত্যন্ত দুর্বল, অকার্যকর এবং ভাত দেবার মুরোদ নাই কিল মারার গোঁসাই টাইপের একটি অথর্ব সরকার পেয়েছি।

২. এই বাস্তবতায় হিংসা ও সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণরাজনৈতিক ধারাকে শক্তিশালী করাই আমাদের কাজ। জাতি, ধর্ম, নারী-পুরুষ ভেদের নিরসন এবং ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিভক্তি ও বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের দাঁড়াতে শিখতে হবে। কিন্তু পুরোনো ফ্যাসিস্ট ও সাম্প্রদায়িক শক্তি বারবার আমাদের চেষ্টাকে ব্যাহত করে চলেছে। গুজব, মিথ্যা অপপ্রচার ও নানান কিসিমের আজগুবি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে জনগণের দুশমনরা ক্রমাগত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বাংলাদেশকে বিদেশি শক্তির লীলাভূমিতে পরিণত করছে। আমরা দেখছি, অলস মস্তিষ্কের নানা প্রকার ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, ভুয়া খবর ও গুজব ছড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করবার জন্য পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোকে প্রধান কৌশল হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

৩. এই আত্মঘাতী বিপদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের সুরক্ষার কথা আমাদের ভাবতে হবে। দরকার একদিকে দুর্বল অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা সরকারকে রক্ষা করা, অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণ বিজয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে ফ্যাসিস্ট শক্তি ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থাবিরোধী জনগণকে সচেতন, সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করা।

৪. কিন্তু সরকার ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা গণবিরোধী ও বাংলাদেশবিরোধী চক্র বাংলাদেশের জনগণ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক চক্রান্ত এঁটে চলেছে। বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে একের পর এক অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করে যাচ্ছে। তার সর্বশেষ প্রমাণ হলো চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কোনো এক পুলিশের অনুরোধে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া। কারা এই পুলিশ যাদের ক্ষমতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চেয়েও অধিক, এমনকি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর চেয়েও তারা পরাক্রমশালী?

৫. গত ৩১ অক্টোবর চান্দগাঁওয়ের মোহরা এলাকার ফিরোজ খান চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ সনাতন ধর্মাবলম্বীর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করেন। উল্লেখ করা দরকার, ফিরোজ খান চট্টগ্রাম নগরের মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

৬. বন্ধুরা, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফল। গণবিপ্লব আমাদের চেতনাগত রূপান্তর ঘটায়। এটা বুঝার জন্য সম্প্রতি রংপুর মহাসমাবেশে তার বক্তৃতা শুনুন। খেয়াল করুন, তিনি কীভাবে জুলাই বিপ্লবের শহীদ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে পঙ্গু হয়ে থাকা আমাদের বীরদের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার অনুসারীদের বাংলাদেশের পতাকা মাথায় বেঁধে সমাবেশে আসতে বলেছেন। তিনি অকুণ্ঠচিত্তে রংপুর মহাসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ধর্ম নির্বিশেষে আমাদের সকলের চেতনার স্তরে যে গুণগত রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করেছে সে সম্ভাবনা অমূল্য। ওই অমূল্য ধন হারানোর অর্থ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ভিত্তি হারিয়ে ফেলা। আমাদের কাজ হচ্ছে এই রূপান্তরকে আরও দ্রুততর করা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, দুঃখ-কষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে উপলব্ধি করে অবিলম্বে সবাইকে বৃহত্তর সমাজে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া। আমাদের বুঝতে হবে- সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশের নাগরিক। ধর্ম ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব জনগণের নাগরিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ। তা করতে হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ ব্যথা-বেদনা অবশ্যই আমাদের সবাইকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে শুনতে হবে। সমাধান বের করতে হবে।

৭. কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠেছে সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী-ফ্যাসিস্ট চক্রসহ পুলিশ ও প্রশাসনের একটি মহল। যারা এখনো ক্ষমতায় বহাল পুরোনো আওয়ামী-প্রশাসনে যেমন অন্তর্ঘাতমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তেমনি বাংলাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য দিল্লির স্বার্থে বাংলাভাষী, বাঙালি ও বাংলাদেশিদের মধ্যে পুরোনো কলোনিয়াল সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রবল করা, যেন কোনো অবস্থাতেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে না পারি। যেসব দুশমন বাংলাদেশে ও উপমহাদেশে অসাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বীজ ক্রমাগত রোপণ করে যাওয়া বাংলাদেশের সর্বনাশের কারণ হয়ে উঠবে। আমাদের সতর্ক ও হুঁশিয়ার থাকতে হবে। ধৈর্য, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণভাবে নাগরিক ও মানবিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমরা অবশ্যই জয়ী হব।’

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি বলেন, ‘পুলিশের একটি অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাকে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে। যারা আবেদন করেছে, তাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশি বিনিয়োগেই ভরসা খুঁজছে বিডা

‘এত ঋণখেলাপি থাকলে তো জনগণ ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবে’

যেসব দেশে আটকে আছে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার

নতুনদের বরণে এমআইএসটি-তে উদযাপিত হলো ′ফ্রেশার্স ডে - ২০২৬′

ওয়ালটনের পিসিবিএ রপ্তানি শিপমেন্ট উদ্বোধন

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো অবহেলা বরদাশত করবে না সরকার : প্রতিমন্ত্রী

‘তুই মরে যা, আমার কিছু যায় আসে না’, ইকরাকে বলতেন আলভী

জয়পুরহাটে শিশু ধর্ষণের দায়ে কৃষকের যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন মোতাহার হোসেন

সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করল আফগানিস্তান 

১০

হাইতির বিপক্ষে নামার আগে সুখবর পেল ব্রাজিল

১১

বিশ্বকাপ খেলা দেখার সময় হল সংসদ নেতাকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাকসু জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে

১২

রাত ১টার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৩

ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক

১৪

বিএনপি নেতা রোকনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

১৫

খুবি ছাত্রীকে অধ্যাপকের কুপ্রস্তাব, প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা দাহ ও জুতা নিক্ষেপ

১৬

খালার বাড়ি থেকে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

১৭

ট্রেলারেই রহস্যের ঝড়, ২৫ জুন আসছে ‘হেডলাইন’

১৮

স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

১৯

চাঁদপুর ট্রিবিউনের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

২০
X